নিজের বলার মতো গল্প

নিজের বলার মতো গল্প

শেষ হলো উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প ‘নিজের বলার মতো গল্প’র দ্বিতীয় ব্যাচ। বাংলাদেশে এই প্রথম এতো দীর্ঘ সময় ধরে চলা কোনো কর্মশালা, যেখানে সারাদেশের ৬৪ জেলা ও ১১টি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ ৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে টানা ৯০ দিনের উদ্যোক্তা হয়ে উঠার নানা ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। গত ৫ এপ্রিল শুরু হয়ে ৬ জুলাই পর্যন্ত চলে এই প্রশিক্ষণ।

সোমবার ২৩ জুলাই বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবন মিলনায়তনে প্রশিক্ষণে অংশ নেয়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ-তরুণীদের হাতে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

এই উদ্যোগের মূল দায়িত্ব পালন করেন ‘নিজের বলার মতো গল্প’ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল বাহার। বিনাখরচে অনলাইনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উদ্যোমী তরুণ ও তরুণীরা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই সময় অনলাইনে কর্মশালার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হয়ে উঠার বিষয় ছাড়াও গুরুত্ব দেয়া হয় ‘উদ্যোক্তা হতে হলে সবার আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে’ এই বিষয়ে।

অনুষ্ঠানে এই প্রকল্পের প্রধান ইকবাল বাহার জানান, তিন কারণে উদ্যোক্তা তৈরির এই এই উদ্যোগটি অনন্য, ব্যাতিক্রম এবং বাংলাদেশে এই প্রথম। এক. ৬৪ জেলা থেকে ৬ হাজার তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণ। এ ক্ষেত্রে মফস্বলকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দুই. টানা ৯০ দিনের অনলাইনে অংশগ্রহণমূলক কর্মশালা, শুক্র ও শনিবারসহ। আর তিন. এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ছিল বিনামূল্যে।

উদ্যোক্তা হওয়ার নানা চ্যালেঞ্জ, নতুন আইডিয়া, ব্যবসা শুরু, পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং মার্কেটিং প্ল্যান ইত্যাদি নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয় এই সময়। এর মধ্যে প্রায় ৪০০ জন উদ্যোক্তা হয়ে উঠার জন্য এরই মধ্যে ব্যবসা শুরু করে দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে তরুণদের প্রেরণামূলক বক্তব্য দেন ১০ মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও কুইন্স অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী আয়মান সাদিক, আমরাই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আরিফ আর হোসাইন, গোলাম সামদানি ডনসহ আরো অনেকে।

নিজের বলার মতো গল্প

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কাজ করছে সরকার। তাদের আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে নানা ধরনের প্রণোদনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বিভিন্ন প্রতিকূলতার মাঝেও ‘নিজের বলার মতো গল্প’ এর এই উদ্যোগ এবং এর সঙ্গে তরুণদের এগিয়ে আসার প্রশংসা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা উদ্যোগী তরুণ-তরুণীরা যাতে ধারাবাহিকভাবে এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, এ জন্য একটি নিজের বলার মতো গল্পের ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এবং একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

এর আগে, গত ২৩ মার্চ সারাদেশের ৬৪ জেলার ১৬৪ জনকে নিয়ে নিজের বলার মতো গল্পের প্রথম ভাগের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ৩০ জন উদ্যেক্তা হয়ে উঠার জন্য এরই মধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ইএন