নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা শুরু

প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনালে সকাল থেকে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কমলাপুর রেল স্টেশনে প্রায় প্রতিটি ট্রেনে ছিল বাড়তি মানুষের চাপ। ছাদেও ঠাঁই ছিল না। এর মধ্যে কয়েকটি ট্রেন নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে ছেড়েছে। ফলে রেলপথে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। সড়কপথে দীর্ঘ ভোগান্তি না হলেও ফেরিঘাটে কিছুটা জটলা রয়েছে। নৌপথেও বাড়তি মানুষের চাপ ও বিলম্বে লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

ঈদ যাত্রার প্রথম দিনেই যাত্রী ওঠা-নামা ও বিলম্বে আসার কারণে স্টেশন থেকে দেরিতে ছেড়ে গেছে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপেস ও চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস। এতে স্টেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। ঈদকে সামনে রেখে অগ্রিম টিকিটের সিডিউল অনুয়ায়ী গতকাল শুক্রবার থেকেই ঘরে ফেরা শুরু হয়েছে। ৮ আগস্ট যারা দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর কাক্সিক্ষত টিকিট হাতে পেয়েছিলেন, সেসব ঘরমুখো মানুষই গতকাল পরিবার-পরিজন নিয়ে কমলাপুর রেল স্টেশনে এসেছিলেন। কমলাপুর স্টেশনের প্লাটফর্মগুলোতে অন্য স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে যাত্রীর ভিড় ছিল কয়েকগুণ বেশি। পুরো স্টেশন জুড়েই ঘরে ফেরা মানুষের ভিড়।

কেউ ব্যাগ হাতে, কেউবা পরিজনের হাত ধরে ছুটছেন কাক্সিক্ষত ট্রেনের দিকে। ইট-পাথরের শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন তারা। ঈদ আসলেই টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত পথে পথে ভোগান্তি পোহাতে হয় ঘরমুখী মানুষদের। তবুও ঘরে ফিরতেই যেন সব আনন্দ। রাজধানীর একঘেয়েমি জীবনের সাময়িক বিরতি দিয়ে কর্মজীবী মানুষের সামনে আসে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার মুহূর্ত। আর সেই ঈদের আনন্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ।

সকালে কমলাপুরে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের প্লাটফর্মগুলোয় ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। অনেকে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে ঈদযাত্রার প্রথমদিনে ট্রেন দেরিতে আসায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ট্রেন তিনটি প্রায় একঘণ্টা করে দেরিতে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে কমলাপুর ছেড়ে যায়। স্টেশন সূত্রে জানা যায়, খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও প্রায় পৌনে একঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর ছেড়ে গেছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা এক্সপ্রেস সকাল সাড়ে ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সোয়া ঘণ্টা দেরিতে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়।

এ ছাড়া চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও সোয়া ঘণ্টা দেড়িতে কমলাপুর ছেড়ে যায়। নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রী রুমানা বলেন, ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই দেরিতে ট্রেন ছাড়া কাম্য নয়। শুরুতেই এমন হলে বাকি দিনগুলোর যাত্রা কেমন হবে তা নিয়ে সন্দিহান।

কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, কোনো ট্রেন দেরিতে ছাড়ছে না। তবে সুন্দরবন, তিস্তা ও নীলসাগর এক্সপ্রেস দেরিতে স্টেশনে আসায় যাত্রায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করছি যাতে কোনো ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় না হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অনেকেই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। তবে বেলা বাড়তেই সেই চাপ কমে আসে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মোট ৬৬টি ট্রেন ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এর মধ্যে ৩১টি আন্তঃনগর বাকি ৩৫টি ট্রেন লোকাল ও মেইল সার্ভিস। অন্যদিকে বিনা টিকিটে কমলাপুর স্টেশনের ভেতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এ ছাড়া ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে স্টেশনে রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ আনসার সদস্যরা। পাশাপাশি যাত্রীদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সদস্যরা। এদিকে নির্ধারিত নিয়মিত ট্রেন ছাড়াও আজ শনিবার (১৮ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ঈদের বিশেষ ট্রেন।

এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের সুবিধার্থে ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ৯ জোড়া বিশেষ ট্রেনগুলোর মধ্যে আছে- দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল: ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা (ঈদের আগে ১৮-২১ আগস্ট ৪ দিন এবং পরে ২৩-২৯ আগস্ট ৭ দিন)। চাঁদপুর স্পেশাল ১: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮-২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪-৩০ আগস্ট ৭ দিন)। চাঁদপুর স্পেশাল ২: চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম (ঈদের আগে ১৮-২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪-৩০ আগস্ট ৭ দিন)। রাজশাহী স্পেশাল: রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী (ঈদের আগে ১৮-২০ আগস্ট ৩ দিন এবং ঈদের পরে ২৪-৩০ আগস্ট ৭ দিন)।

দিনাজপুর স্পেশাল: দিনাজপুর-ঢাকা-দিনাজপুর (ঈদের আগে ১৮-২০ আগস্ট ৩ দিন এবং ঈদের পরে ২৪-৩০ আগস্ট ৭ দিন)। লালমনিরহাট স্পেশাল: ঢাকা-লালমনিরহাট-ঢাকা (ঈদের আগে ১৮-২১ আগস্ট ৪ দিন এবং ঈদের পরে ২৪-৩০ আগস্ট ৭ দিন চলবে)। খুলনা এক্সপ্রেস: খুলনা-ঢাকা-খুলনা (ঈদের আগে ২১ আগস্ট একদিন চলবে)। শোলাকিয়া স্পেশাল-১: ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার রুটে ঈদের দিন চলাচল করবে। শোলাকিয়া স্পেশাল-২: ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে ঈদের দিন চলবে।

মানবকণ্ঠ/এএএম