নারীর দেখা পুরুষের নোংরা দৃষ্টি

আনুশা আলমগীরের বয়স মাত্র ২৩ বছর। আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে প্রতিদিন সকালে তিনি যখন ব্যায়াম করতে যেতেন তখন লক্ষ্য করতেন কিছু পুরুষ তার দিকে নোংরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। বাংলাদেশের রাস্তায় বের হলে তার মতো প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক নারীকে পুরুষের নগ্ন অপমানজনক, ঘৃণ্য দৃষ্টির মুখোমুখি হতে হয়। বিষয়টি বেশ পীড়া দিল তাকে। কীভাবে এ বিষয়ে সচেতন করা যায় সেটা নিয়ে চিন্তা করতে শুরু করলেন।

ছোটবেলা থেকে যেহেতু ছবি আঁকতেন যে জন্য চিন্তা করলেন, আলোকচিত্রের মাধ্যমে এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করবেন। যেমন চিন্তা তেমন কাজ। আনুশা রাস্তায় চলার সময় পুরুষরা তার দিকে কীভাবে তাকাচ্ছে তার ছবি তুলেছেন গোপনে। সেসব ছবি থেকে বাছাই করে ৩৬টি পুরুষের চোখ ঝুলিয়েছেন দেয়ালে। এর মধ্য দিয়ে শিল্পী দেশের পুরুষদের প্রতি নারীদের প্রতিবাদকে তুলে ধরেছেন। পথে চলার এই অভিজ্ঞতা নিয়ে ধানমণ্ডির দৃক গ্যালারিতে শুরু হয়েছে তার স্থাপনা শিল্প প্রদর্শনী ‘দ্য মেল গেজ’। বুধবার বিকেলে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বিশিষ্ট উদ্যোক্তা রোকেয়া আফজাল রহমান। প্রদর্শনীটি শুক্রবার পর্যন্ত।

প্রদর্শনীতে দেখা যায়, দেয়ালে আছে ৩৬টি আলোকচিত্র। সেগুলো মূলত পুরুষের চোখ। প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে পূর্ণাঙ্গ আকৃতির আটটি নারী ফিগার ও আটটি কাটআউট। পুরুষের চোখ নারীকে কীভাবে দেখে তা উপজীব্য করে এ প্রদর্শনী।

প্রদর্শনীর উদ্বোধক রোকেয়া আফজাল রহমান বলেন, একজন পুরুষ নারীকে কীভাবে দেখে, শিল্পী তা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সমাজকে জানানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা অবশ্যই একটি সাহসী পদক্ষেপ।

শিল্পী আনুশা আলমগীর বলেন, আট বছর বয়স থেকেই পর্যবেক্ষণ করছি, কিছু পুরুষের চোখ বাজেভাবে নারীর দিকে তাকায়। আমি রাস্তায় বের হলেই পুরুষের নোংরা দৃষ্টির মুখোমুখি হয়েছি। দেশের প্রতিটি নারী এর মধ্য দিয়ে যায়। এই নোংরা দৃষ্টি আমাদের সংকুচিত করে। নারী সে যেই হোন না কেন যে অবস্থানেরই হোন না কেন, এই দৃষ্টি তাকে সহ্য করতে হয়।

তিনি বলেন, অনেক ছেলেই এটাকে ‘জাস্টিফাই’ করতে নানা রকমের ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু এই নোংরা দৃষ্টির কোনো ব্যাখ্যা হতে পারে না। পুরুষদের নিজেকে শোধরানো ছাড়া।

আনুশা আলমগীর মাল্টিমিডিয়া শিল্পী হিসেবে একইসঙ্গে কাজ করেন নিউইয়র্ক ও ঢাকায়। সিনসিনাটি ইউনিভার্সিটির ডিজাইন, আর্ট, আর্কিটেকচার ও প্ল্যাানিং আর্কিটেকচারের পাশাপাশি তিনি বিএস করেছেন। আনুশা পুমা, গুয়েস, ডেল্টা, আমাজন ও মার্সেডিজ ছাড়াও পুরস্কার বিজয়ী বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি পরীক্ষামূলক ইন্টার-অ্যাক্টিভ ইনস্টলেশন ডিজাইন করেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

2 Responses to "নারীর দেখা পুরুষের নোংরা দৃষ্টি"

  1. রুবাইয়াত   07/10/2018 at 12:34 AM

    চমৎকার তার চিন্তাভংগী, “পুরুষের চোখে একজন নাড়ী”
    তার এই প্রচার নাড়ীর দুর্বলতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। নাড়ীদেরকে ছোট করা হচ্ছে।
    দেখুন একজন নাড়ী তার বিশেষ অংগ যদি দেখিয়ে চলাফেরা করে তাহলে পুরুষের লালসার চোখ পরবেই।
    কথায় আছে না খোলা দুধে বিড়াল মুখ দিবেই ঢেকে রাখলে দিবে না।

  2. Badol   08/10/2018 at 3:49 PM

    ami boli ki poro dosh tai meye der…because tara j shob poshak pore road a chola fera kore tate purosh ra tader dike takabei r etai shababik…ami purosh der shuport kori…