নারীবান্ধব সেফ সিটি

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতে নারী নির্যাতনের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশে নারীদের অপহরণ ও নির্যাতন করে হত্যা আর ভারতে রাতে একা পেয়ে পথে বা বাসে শ্লীলতাহানি এসব নিত্য খবর হয়ে উঠছে যেন। কেন এসব হচ্ছে এর কারণ দশজনের কাছে দশ রকম। তবে বিশ্বে এখনো অনেক শহর রয়েছে যেখানে একা একা রাতে চলাচলেও নিরাপদ নারী ট্যুরিস্ট। ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সেফ সিটি ইন্ডেক্সে রয়েছে কোন শহরগুলো তা জেনে নেয়া যাক

টোকিও, জাপান
জানেন কি এই শহরে মেয়েদের কান্নার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা আছে! অবাক হবেন না। টোকিওর মিতসুই গার্ডেন ইয়টসুয়া হোটেলে এমন একটি ঘর রাখা আছে, যেখানে গিয়ে মন খারাপের কিছুটা সময় কাটিয়ে আসতে পারেন কোনো মহিলা পর্যটক। তাই নিশ্চিন্তে ঘুরে দেখে নিন শহরের আনাচ-কানাচ… সেনসোজি টেম্পল, ঘিবলি মিউজিয়াম কিন্তু মিস করবেন না।

টরেনটো, কানাডা
সেফ সিটি ইন্ডেক্স অনুযায়ী উত্তর আমেরিকার সব থেকে নিরাপদ শহর হলো টেরনটো। খাদ্য রসিকদের জন্য আদর্শ গন্তব্য এই শহর। সারা পৃথিবীর নানা রকম খাবারের স্বাদ পাবেন এখানে। চায়নাটাউন থেকে শুরু করে রঁসেভাল-এ ঘুরে আসুন। আর এখানে এসে নায়গ্রা ফলস মিস করবেন না…

দুবাই, ইউএই
শপিংয়ের নেশা থাকলে দুবাই আপনার জন্য আদর্শ। একটা শহরে ৫০-এরও বেশি শপিং মল আছে!! দুবাই মল হোক বা কারামা শপিং কমপ্লেক্স… আপনি যা চাইবেন সব পাবেন হাতের মুঠোয়… তবে অনেকেই ভাবেন দুবাইতে কতটা নিরাপদে ঘুরতে পারেন মেয়েরা… তাহলে কয়েকটা কথা মাথায় রাখুন… এই শহর এমনতি খুবই নিরাপদ। তবে খুব বেশি খোলামেলা পোশাক না পরাই ভালো। আফটার অল আপনি যে দেশে যাবেন সে দেশের সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই চলবেন।

সান ফ্রান্সিসকো, ইউএসএ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরো একটি শহর একইভাবে নিরাপদ। ফিনানশিয়াল কনসালটিং ফার্ম ভ্যালু পিঙ্গুইন আমেরিকার নিরাপদ শহরের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সান ফ্রান্সিসকো। যারা নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করতে ভালোবাসেন তাদের জন্য পারফেক্ট সান ফ্রান্সিসকো।

কুইনসটাউন, নিউজিল্যান্ড
লেক ওয়াকাতিপুর পাশেই রয়েছে এই শহর। নানা রকম অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস যারা ভালোবাসেন তাদের জন্য আদর্শ জায়গা নিউজিল্যান্ডের এই শহর। স্কিয়িং, বাঞ্জি জাম্পিং, প্যারাগ্লাইডিং, স্কাইডাইভিং সবেরই সুযোগ আছে এখানে। আন্তর্জাতিক মহিলা পর্যটনকেন্দ্র কুইনসটাউনকে মহিলাদের জন্য এ দেশের তৃতীয় নিরাপদ শহর বলে ঘোষণা করেছে। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য এখানে নানা রকম উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে ক্যাব সেফ এবং স্ট্রিট সেফ… মহিলারা যাতে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নিরাপত্তার অভাব না বোধ করেন তাই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

জুরিখ, সুইজারল্যান্ড
সেফ সিটি ইন্ডেক্সের মতে ইউরোপের নিরাপদ শহরের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে জুরিখ। আলপস পর্বতমালার সৌন্দর্য উপভোগ করার মতো অভিজ্ঞতা মিস করবেন না। আপনি একা তো কি হয়েছে! এই শহরে আপনি একেবারে নিরাপদ। মিউজিয়াম থেকে নাইটলাইফ সবই পাবেন হাতের মুঠোয়। আর সুইস চকোলেটের স্বাদ নিতে ভুলবেন না যেন।

আমস্টারড্যাম, নেদারল্যান্ডস
সেফ সিটি ইন্ডেক্সের মতে ইউরোপের নিরাপদ শহরের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে আমস্টারড্যাম। মহিলারা এখানে নিরাপদ। তবে খুব বেশি এক্সপেরিমেন্ট করতে যাবেন না। একটু রয়ে সয়ে। বাজেট হলিডে প্ল্যান করতে চাইলে এখানে রয়েছে হস্টেলের ব্যবস্থা। কঙ্গনার ছবি কুইন-এর কথা মনে আছে তো? হস্টেলের ব্যবস্থা এখানে তেমনই। তবে মহিলাদের জন্য আলাদা হস্টেলেরও ব্যবস্থা আছে। চাইলে নিশ্চিন্তে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন এখানকার রেড লাইট অঞ্চল ওড কার্কে। কোনো রকম অপ্রিতিকর অভিজ্ঞতা হবে না।

হো চি মিন সিটি, ভিয়েতনাম
পুরনো এবং নতুনের মেলবন্ধন ঘটেছে এই শহরে। তবে এই শহর ঘুরে দেখার সব থেকে ভালো উপায় হলো সাইকেল। চাইলে পায়ে হেঁটেও এদিক ওদিক দেখতে পারেন। আর ইতিহাসে যদি আপনার আগ্রহ থাকে তাহলে আপনাকে যেতেই হবে রিইউনিফিকেশন প্যালেস এবং ওয়ার রেমেন্যান্টস মিউজিয়ামে। শপিং করতে চাইলে সোজা চলে যান সাইগঁ স্ক্যোয়ারের বেন থান মার্কেটে। ভ্রমণ ডেস্ক