নামকরা স্কুলের পেছনে অভিভাবকদের দৌড়ঝাঁপ

সন্তানকে নামকরা স্কুলে ভর্তি করতে অভিভাবকরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে দেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম চলে। সন্তানকে পছন্দের স্কুলে ভর্তি করতে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু এ যেন সোনার হরিণ! গত বছরের মতো এবারো লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণিতে শিশুদের ভর্তি করা হবে। ঢাকার শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি স্কুলগুলোতে ভর্তি কার্যক্রম চলছে। অন্যদিকে রাজধানীর ৪১টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুলে তিনটি গ্রæপে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু হয়েছে। সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে (মংধ.ঃবষবঃধষশ.পড়স.নফ) ওয়েবসাইটে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।
এ প্রসঙ্গে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গুটি কয়েক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানকে ভর্তি করতে অভিভাবকরা অস্থির হয়ে পড়েন। বছরের এই সময়টায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। এ জন্য দেশে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, দেশের সব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষক, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে কিছুসংখ্যক স্কুলের ওপর একক চাপ কমে আসবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীতে ৩টি ফিডার শাখাসহ ৩৮টি সরকারি স্কুলে তিন গ্রæপে ভাগ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ৪১টি স্কুলের মধ্যে ‘ক’ ও ‘খ’ গ্রæপে ১৪টি করে এবং ‘গ’ গ্রæপে ১৩টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল আছে। ৩৮টি স্কুলে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন আছে। এর মধ্যে ১৭ মাধ্যমিক স্কুলে প্রথম শ্রেণিতে ১ হাজার ৯৬০টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৮৪৯টি, তৃতীয় শ্রেণিতে ২ হাজার ১২৬টি, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮২২টি, পঞ্চম শ্রেণিতে ৮৪৯টি, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৩ হাজার ৫৫৭টি, সপ্তম শ্রেণিতে ৭৩৮টি, অষ্টম শ্রেণিতে ৯৯৭টি এবং নবম শ্রেণিতে ৪৬৮টি আসন রয়েছে।
প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি নেয়া স্কুলগুলো হচ্ছে আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ধানমণ্ডি গভ. ল্যাবরেটরি উচ্চবিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমণ্ডি গভ. বয়েজ উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিডার শাখা, তেজগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয়, তেজগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল বালক উচ্চ বিদ্যালয়, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুল, খিলগাঁও সরকারি হাইস্কুলের ফিডার শাখা, নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ সংযুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও গণভবন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠিত তিনটি মাধ্যমিক স্কুলে আলাদা ভর্তি কার্যক্রম চলবে। সেসব প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি। স্কুল তিনটি হচ্ছে হাজী এমএ গফুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজবাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং শহীদ মনু মিঞা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, এবার স্কুলগুলোতে ১০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এর মধ্যে ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী হবে মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং শিক্ষা বিভাগ কোটায়। বাকি ১০০ শতাংশের মধ্যে ৪০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকা কোটার এবং অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন উš§ুক্ত প্রতিযোগিতায় পূরণ করা হবে। ভর্তির ক্ষেত্রে সহোদর বা সহোদররা অগ্রাধিকার পাবে। তবে ভর্তি পরীক্ষার ন্যূনতম শর্ত বা পাস নম্বর পেলেই চলবে। শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে। প্রথম শ্রেণিতে লটারিতে ভর্তির সুযোগ পাবে শিশুরা। দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তি কমিটির বাছাই করতে হবে। দ্বিতীয়-তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-৫০, এর মধ্যে বাংলা-১৫, ইংরেজি-১৫, গণিত-২০ নম্বর। ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ-অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান-১০০। এর মধ্যে বাংলা-৩০, ইংরেজি-৩০, গণিত-৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা।