নানা দুঃস্বপ্নে অস্থির ও শঙ্কিত কাদের: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক :
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, ধমক দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে পারবেন না। চারদিকে আপনাদের পতনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে আপনি নানা রকম দুঃস্বপ্নে অস্থির ও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
রিজভী বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা গণতন্ত্রকে হরণ করে যে শূন্যতার সৃষ্টি করেছেন তাতে ধেয়ে আসা প্রতিবাদী মানুষের টর্নেডোতে ভয় পেয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বেসামাল হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের তাই কখনো ভয়ের কথা বলছেন, কখনো ধমকের সুরে কথা বলছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে বলতে চাই, যারা নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেয় তারা আগ্রাসী শক্তি, যারা জনগণের দাবিকে রক্তাক্ত করে তারা দেশের শত্রু। যারা শিশু-কিশোরদের রক্ত নিঙড়ে নেয় ও প্রতারণা করে, তারা মনুষ্যত্বহীন। তাদের দ্বারা দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল হয়। তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও নিরন্তর সংগ্রাম ন্যায়সঙ্গত। কাদের সাহেব, ধমক দিয়ে প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে পারবেন না। চারদিকে আপনাদের পতনের শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে রাজনৈতিক উদ্দেশে প্রতিহিংসার শিকার তার প্রমাণ মিলছে কয়েক দিন পর পর প্রধানমন্ত্রীর উদ্ভট বক্তব্যে। বেগম জিয়াকে বন্দি করার জন্যই শেখ হাসিনা তার বিরুদ্ধে অসত্য মামলায় সাজা দিয়েছে। এটা কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, দেশনেত্রীকে আটকে রেখে আনন্দ লাভ করা। সরকার নানা ফন্দি-ফিকিরের জাল বুনে সত্তোরোর্ধ একজন জননন্দিত নেত্রীকে বন্দি করে এখন নানাভাবে তার ওপর জুলুম চালাচ্ছে। সরকারপ্রধান বাংলাদেশকে নিজের পৈতৃক তালুক মনে করে বলেই দেশের প্রধান বিরোধী নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের আজ তার আক্রোশের শিকার হয়ে মিথ্যা মামলায় কারাগারে জুলুম সইতে হচ্ছে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা গুণ্ডামি আচরণ হিসেবে মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শুক্রবার সকাল থেকে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মানিকনগর নিজ বাড়িতে পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। গতকাল তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে ১০ জনকে পুলিশ আটক করে। আজও কোনো নেতাকর্মী তার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। মওদুদ আহমদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ সরাসরি গুণ্ডামি। আমরা এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামছে না, এই মুহূর্তে সব মহাসড়কে ৩০-৪০ কিলোমিটার করে যানজট। ঈদে মানুষজন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারছেন না। সড়ক ও সেতুমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। ওবায়দুল কাদের সাহেব শিশু-কিশোরদের সড়কে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন রাস্তায় নেমেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন প্রমুখ।