নাড়ির টানে ছুটছে বাড়ি

কদিন পরেই ঈদুল ফিতর তাই নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ। যে যেভাবে পারছে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ কাটাতে বাড়ি ফিরছে। সবাই ব্যস্ত বাড়ি ফেরা নিয়ে মানুষ আর মানুষ- বাস লঞ্চ আর ট্রেন স্টেশনে। দুর্ভোগ আর দুদর্শা কাধে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে রওনা দিয়েছে তারা। ঈদ যাত্রার দ্বিতীয় দিনের মতো সোমবার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। দিনের প্রথম ট্রেন সুন্দরবন এক্সপ্রেসের মাধ্যমে ঈদ যাত্রার চলাচল শুরু হয়।

সিদ্ধেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা কবি শাহীন রেজা মানবকণ্ঠকে বলেন, ঈদ এলেই নগরবাসী মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে ছুটে যায়। আর এ কারনে ব্যস্ততম শহর হয়ে উঠে অলস, ফাঁকা। স্বাভাবিক চিত্রের চেয়ে এটি কিছুটা ভিন্ন, কিছুটা আলাদা। স্বস্তির বাতাস বইতে থাকে নগর জুড়ে। যারা একান্তই শহরবাসী অথবা যারা ফিরে যেতে পারে না আপন ঠিকানায় তারা কদিনের জন্য হলেও অবারিত বাতাসে মুক্ত আনন্দে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ পায়। ফাঁকা শহরে দিন কাটাবার এই দুর্লভ আনন্দের সাক্ষী যারা তারাই বুঝে উঠতে পারে এর মাহাত্ম্য।

মতিঝিলের বাসিন্দা শিকদার নূর-ই-আলম সিদ্দিকী মানবকণ্ঠকে বলেন, শনিবার রাত থেকেই ঢাকার সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা। ঘরমুখী মানুষদের ভিড় বাস, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে। তাই মূল সড়কে এখন আর চাপ নেই।

সব সময় ঢাকাতেই ঈদ করেন রবিন। তিনি বলেন, ঈদের আগে সাধারণত শপিংমল এলাকাগুলোতে ভিড় থাকে। আজও বড় শপিংমল আছে এমন এলাকাগুলোতে বিকেলের দিকে ভিড় থাকবে। রবিন বলেন, রোজার ঈদের সময় বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়ে। এ সময় ঢাকা বেশি ফাঁকা মনে হয়।

এদিকে সোমবার চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায় যাত্রীদের প্রচণ্ড ভিড়। ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠছে যাত্রীরা। বগিতে জায়গা না পেয়ে অনেককে ট্রেনের ছাদে উঠতে দেখা যায়। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, সোমবার কমলাপুর স্টেশন থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৬৩টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৩০টি আন্তঃনগর, ট্রেন বাকিগুলো মেইল ও ঈদ স্পেশাল।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী ঈদ যাত্রা বিষয়ে বলেন, সব ট্রেন সময়মতই ছেড়ে যাচ্ছে। যাত্রীর চাপ মোকাবেলায় প্রায় ট্রেনেই অতিরিক্ত বগি লাগানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা রয়েছে।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী মুরাদ শিকাদর তার পরিবারের ৫ জন সদস্য নিয়ে মহানগর প্রভাতী করে চট্টগ্রামে যাচ্ছিলেন। তিনি জানান, দ্বিতীয় দিনের অগ্রিম টিকিটগুলোও ১০ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কেটেছিলেন। ভিড় এড়াতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আগেই রাজধানী ছাড়ছেন তিনি। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে বেশ কয়েকটা দিন থাকা যাবে, এ অনেক আনন্দের।

রোমানা নামের অপর এক যাত্রী বলেন, অনেক সংগ্রামের পর ট্রেনের টিকেট পেয়েছি, ভাবছিলাম হয়তো ট্রেনে শিডিউল বিপর্যয় হবে। তবে সব শঙ্কা দূর হয়েছে, সঠিক সময়েই খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছি।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.