নাজাতের দশক

আজ ২১ রমজান। নাজাতের দশক আজ থেকে শুরু। প্রকৃতপক্ষে রমজান আজ তৃতীয় বা নাজাতের দশকে প্রবেশ করল। রমজানের এই দশকটিকে পূর্বোক্ত দুটি দশকের সম্মিলিত সাধনার সাফল্যের সোপান বলা যেতে পারে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত কঠিনতর ইবাদতগুলো যেমন এই দশকে রয়েছে তেমনি মুমিন বান্দাদের সম্মিলিত সাধনার পরিণাম বলে অভিহিত করা যেতে পারে। মুমিন বান্দাদের ‘ইনসানে কামিল’ বা পরিপূর্ণ মুমিন হয়ে ওঠার এটাই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দশক।

রমজান মাগফিরাতের তাকওয়া ও পরহেজগারির মাস। রমজান মানুষের আত্মশোধনের মাস। রমজান ধনীর ধনকে জাকাত তথা দানের মাধ্যমে শুদ্ধ করার মাস। এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনায় লিপ্ত মুসলমানের হৃদয় ক্ষুৎপিপাসায় পুড়ে পুড়ে পাক-পবিত্র হয়ে যায়। এ মাস সার্বিকভাবে চূড়ান্ত পুণ্যার্জনের মাস। এ মাস আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার মাস। দিন, দরিদ্র, ফকির-ভিখারি, দরিদ্র প্রতিবেশী সবার প্রতি দায়-দায়িত্ব অটুট রাখার শিক্ষা প্রতি বছরই দিয়ে যায় রমজান মাস। এই শিক্ষা সারাবছর, এক কথায় জীবনভর দিয়ে যায় রমজান মাস। রমজানের শিক্ষা পরিপূর্ণ মানুষ হওয়ার শিক্ষা। একমাত্র এই শিক্ষা মেনে চললেই সমাজ-পরিবেশে ইসলামী ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রাসঙ্গিক আলোচনায় ‘তাকওয়া’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পবিত্র কোরানে প্রাসঙ্গিক আয়াতে এই বিষয়টি অতি সংক্ষেপ এসেছে। উক্ত হয়েছে-‘যাতে তোমরা আত্মরক্ষা করতে পার।’এই আত্মরক্ষা শব্দটির সঙ্গে ‘তাকওয়া’ ও ‘পরহেজগারি’ অঙ্গাঙ্গিভাবে জুড়ে রয়েছে।

আরবি ‘ইত্তেকা’ ধাতু থেকে ‘তাকওয়া’ শব্দটি এসেছে। যার অর্থ বেঁচে থাকা বা আত্মরক্ষা করা। কিন্তু শব্দটির বিগলিতার্থ হলো: সকল প্রকার জাগতিক আরাম-আয়েশ ও মানবীয় দুর্বলতা, সকল প্রকারের অপবিত্রতা, মিথ্যাচারিতা, পরনিন্দা, কপটতা, অনাচার-ব্যভিচার, প্রবঞ্চনা, অশ্লীলতা-এক কথায় সমস্ত অমানবীয় কর্মকাণ্ড থেকে পরিপূর্ণরূপে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণই হলো ‘তাকওয়া।’ পবিত্র কলেমার মাধ্যমে পরিপূর্ণরূপে ইসলামে আত্মসমর্পিত হওয়া, দ্বিতীয় ধাপে নিয়মিতরূপে শুদ্ধভাবে নামাজ সম্পন্ন করা এবং তৃতীয় ধাপে সিয়াম, রোজা বা উপবাসের মাধ্যমে চরম ও পরম আত্মশুদ্ধির প্রতিফলনই হলো রোজা। তাই রোজার সঙ্গে তাকওয়া ও পরহেজগারির সম্পর্ক মুসলমানের আত্মার সঙ্গে একীভূত।

‘তাকওয়া’ সম্পর্কে পবিত্র কোরানে কথাটা এভাবে বলা হয়েছে, আল্লাহর নিকট তোমাদের ইসলাম পৌঁছে থাকে। অন্যত্র বলা হয়েছে, যদি তোমরা ধৈর্য ধর ও সতর্ক হও তাহলে দুষ্টামি তোমাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

তাকওয়ার সঙ্গে রয়েছে আত্মসংযমের সম্পর্ক। এ বিষয়ে পবিত্র কোরানে বেশ কিছু আয়াত উক্ত হয়েছে। এর কয়েকটি এখানে উদ্ধৃতব্য: ‘তোমরা পরকালের পাথেয় সংগ্রহ কর। এবং আত্মসংযমই শ্রেষ্ঠ পাথেয়। ’(২:১৯০)।
‘শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ কোরো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (২:২০৮)।
‘তোমরা সৎ কাজ, আত্মসংযম ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপন করবে না বলে আল্লাহর কাছে শপথ কোরো না।’ (২:২২৪)।
‘ভালো এবং মন্দ যে যা উপার্জন করবে সে তার ফল পাবে।’ (২:২৮৬)। এরকম অনেক আয়াত উদ্ধৃত করা যায়।

রোজা তাকওয়া, পরহেজগারি ও খোদাভীতির সেই প্রশিক্ষণই দেয়, যা অনুকরণ অনুসরণ করলে মানুষ নিষ্পাপ শিশুর মতোই পবিত্র ও সুন্দর হতে পারে। যার বদৌলতে ইহকাল ও পরকালে তার জন্য রয়েছে অশেষ কল্যাণ।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.