নাগিব মাহফুজ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পীদের একজন নাগিব মাহফুজ। জš§ ১১ ডিসেম্বর ১৯১১, মিসরের কায়রো মহানগরীর প্রাচীন এলাকা গামালিয়্যায়, একটি ধার্মিক পরিবারে। অংক ও বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া শুরু হলেও তিনি স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন দর্শন নিয়ে। লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে অবসর নেয়ার আগে পর্যন্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ উচ্চতর পদ অলঙ্কৃত করেন। নাগিব মাহফুজ ১৭ বছর বয়স থেকে লেখালেখি শুরু করেন। জীবদ্দশায় প্রকাশিত কায়রো ট্রিলজি তাকে আরব সাহিত্যের এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরে। এতে তিনি ইংরেজ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার সময়কালে মিসরের ঐতিহ্যবাহী শহুরে জীবনধারা ফুটিয়ে তোলেন। এ উপন্যাসের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৮৮ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। নাগিব মাহফুজের উপন্যাসের প্রায় অর্ধেকেরও বেশির চলচ্চিত্রায়ন হয়েছে। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি ১০০টিরও বেশি ছোটগল্প রচনা করেছেন। এগুলোর বেশির ভাগই পরে ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে।
১৯৫৪ সালে ৪৩ বছর বয়সে বিয়ে করেন। সারা জীবনে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করেছেন মাত্র তিন বার, তা-ও চিকিৎসার জন্য। প্রথম বই ‘খুফুজ উইজডম’ একটি উপন্যাস, বের হয় ১৯৩৯ সালে। তার উপন্যাসের সংখ্যা ৩৪ এবং ছোটগল্পের বই ১৫টি। এ ছাড়া রয়েছে একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, আর অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ। তিনি ২৫টি চিত্রনাট্যও লিখেছেন। তার উপন্যাস এবং গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে ৩০টিরও অধিক। ১৯৭১ সাল থেকে মৃত্যুর কিছুদিন আগ পর্যন্ত নিয়মিত সাপ্তাহিক কলাম লিখেছেন, যা একই সঙ্গে আরবিতে আল-আহরাম-এ এবং ইংরেজিতে আল-আহরাম উইকলিতে প্রকাশিত হয়েছে।
এসব কলাম নিয়ে একটি বই বের হয় ২০০১ সালে। দেশে-বিদেশে সমান জনপ্রিয় ও সম্মানের অধিকারী তিনি। তার অসামান্য সাহিত্য কৃতির জন্য তাকে দু-দুবার ইজিপ্সিয়ান স্টেট প্রাইজ দেয়া হয়। প্রায় ৭০ বছর লেখালেখিতে সক্রিয় থাকা এই মহান সাহিত্যিক ২০০৬ সালের ৩০ আগস্ট কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। ২০১১ সালে নাগিব মাহফুজের জš§ শতবার্ষিকীকে সামনে রেখে মিসর ২০১১ সালকে ‘মাহফুজ বর্ষ’ ঘোষণা করেছিল। এ ঘোষণার অংশ হিসেবে মিসরের রাজধানী কায়রোতে নাগিব মাহফুজের মূল্যায়ন ও তার সাহিত্যকর্ম নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তার লেখা বেশ কয়েকটি বইও পুনর্মুদ্রিত হয়।
আসমা সুলতানা