নব্য জেএমবির নারীপ্রধান নাবিলা জামিনে মুক্ত

গাজীপুর প্রতিনিধি :
গ্রেফতারের দুই মাসের মাথায় জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নব্য জেএমবির সদস্য হুমায়ারা ওরফে নাবিলা। মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। জামিনের কাগজপত্র কাশিমপুর কারাগারে পৌঁছালে যাচাই-বাছাই শেষে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বের হন তিনি। এ সময় তার বাবা এমএ জাকির তাকে নিয়ে যান।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার সুপার মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, জামিনের কাগজপত্র আসায় নাবিলাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৫ আগস্ট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বোমা হামলা চালিয়ে মন্ত্রী-এমপিসহ শতাধিক মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। নাবিলা ও তার স্বামী তানভীর ইয়াসিন করিম ওই ঘটনায় অর্থের জোগান দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের। জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে করিমকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে চলতি বছরের ৫ এপ্রিল সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে নাবিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার মহিবুল ইসলাম খান সে সময় বলেছিলেন, হোমায়ারা ওরফে নাবিলা নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান। তাকে তার সংগঠনে ‘ব্যাট ওমেন’ বলে ডাকা হয়। সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলেন, গত বছরে আগস্টে পান্থপথের হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণে এক জঙ্গির মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে প্রকাশনা সংস্থার মালিক করিমের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হোমায়ারারও জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তারা আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের পর কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল হুমায়ারা ওরফে নাবিলাকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সব কিছু স্বীকার করলেও আদালতে গিয়ে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি। তবে সাক্ষী হিসেবে তার এক খালাত ভাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৮ এপ্রিল নাবিলাকে কাশিমপুর কারাগারে নেয়া হয়।
নাবিলার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মানিক ঘোষ। তার সঙ্গে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন। সন্দেহভাজন এই জঙ্গির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. ফরিদ। উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল আমিন বিপ্লব তার জামিন মঞ্জুর করেন।