নদী দূষণ রোধ করুন

আমাদের এই দেশে রয়েছে অসংখ্য নদ-নদী। অথচ নদীগুলো সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মরতে বসছে। আবার অনেক নদ-নদী হয়ে গেছে বিষাক্ত। অনেক নদীর বিষাক্ত পানি হয়ে উঠেছে মানুষের জন্য ভয়ঙ্কর। রাজধানী ঢাকা গড়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গার তীরে। একসময় বুড়িগঙ্গার অপার সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে সবাইকে। কিন্তু কালক্রমে ঢাকা বিস্তৃত হলেও ক্ষয় হয়েছে বুড়িগঙ্গার। নাব্য হারিয়ে কমে গেছে পানির প্রবাহ। এখন বুড়িগঙ্গা পরিণত হয়েছে দূষিত নদীতে। আর এই দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি নদীই মানুষের আক্রমণের শিকার। দখল, ভরাট, আবর্জনা নিক্ষেপ ইত্যাদি কারণে নদীগুলো গতি ও ছন্দ হারিয়েছে। অনেক নদীই সে াতহীন হয়ে রূপ নিয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। পানির আরেক নাম জীবন। তাই জীবন বাঁচাতে হলে আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে হলে দূষণমুক্ত নদী, এমনকি রাজধানীকেও বসবাসের উপযোগী করে তুলতে নদী বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। অথচ আমরা তা করতে পারছি না। যা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণেরও। ২৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপারের যৌথভাবে আয়োজিত ‘ঢাকার চারপাশের নদী দূষণ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভাতেও নদী রক্ষার বিষয়ে আমাদের অক্ষমতায় বক্তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দৈনিক মানবকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিল্প-কারখানার নামে যারা নদী দূষণের মাধ্যমে দেশ ও জনগণের ক্ষতি করছে তাদের ফাঁসি কাষ্ঠে ঝোলানো দরকার বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে আইনি দুর্বলতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন চাইলেও নদী দূষণকারীদের বিরুদ্ধে তেমন কিছু করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন গঠিত হলেও কমিশনের যেমন নেই কোনো অবকাঠামো তেমনি কমিশনের ক্ষমতাও সীমিত। আইনে কমিশনের সুপারিশ করা অথবা চিঠি দেয়া ছাড়া সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়া কিংবা জবাবদিহি করার কোনো ক্ষমতা নেই। এ আইনে কমিশনের কোনো কিছু বাস্তবায়ন বা যারা বাস্তবায়নকারী সংস্থা তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনার বিধান রাখা হয়নি। দেশের নদীগুলোকে দূষণ ও দখলদারদের হাত থেকে রক্ষায় কমিশনের কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ কম। আমরা মনে করি নদী দূষণ ও দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের কার্যক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। নদী রক্ষায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কাজেরও সমন্বয় প্রয়োজন। নদী দখল ও দূষণ রোধে সরাসরি দায়িত্ব প্রায় ১৫টি মন্ত্রণালয়ের। এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে নদী দূষণ ও দখলমুক্ত রাখার উদ্যোগ নেয়া সম্ভব। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি, সামাজিকতা সবদিক বিবেচনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে অসুস্থ ও মৃতপ্রায় নদীগুলোকে বাঁচিয়ে তুলতে হবে। দেশের সব নদ-নদী রক্ষার পাশাপাশি অবৈধ দখল ও দূষণমুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন জরুরি।