নতুন বছরে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশা

নতুন বছরে সংস্কৃতিকর্মীদের প্রত্যাশাআনজাম মাসুদ
উপস্থাপক
নতুন বছরে সব কিছুতেই নতুনত্ব চাই। আচার, আচরণ, শিক্ষাগ্রহণ, সংস্কৃতিচর্চায়, চলনে বলনে সবখানে। ২০১৮-তে যা কিছু নেতিবাচক ছিল ২০১৯-এ তার ইতিবাচক পরিবর্তন চাই। নতুন বছরে নতুন সরকার আমাদের দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে আরো তরান্বিত করবে। উন্নয়নের এই চাকাকে আরো গতিশীল করতে শুধু সরকার নয়, প্রতিটি বাঙালিকেই অবদান রাখতে হবে। সব অনিয়মের বিপরীতে সঠিক একটি নিয়ম আছে। এই নিয়ম আমাদেরই মেনে চলতে হবে। আমার প্রত্যাশা আমরা আমাদের দেশের চলচ্চিত্র, নাটক, অনুষ্ঠান দেখব দেশের শিল্পীদের গান শুনব। দেশের চ্যানেল দেখব। সবার জন্য শুভকামনা।

শাওন চৌধুরী
কবি ও সংগীতশিল্পী
সংগীত সাধনায় কেটে গেছে জীবনের দীর্ঘ সময়, প্রাপ্তিও অনেক। বিশেষ করে মানুষের অন্তরের যে ভালোবাসা পেয়েছি তার কোনো তুলনাই হয় না। ২০১৮ সালটি খুবই ভালো কেটেছে আমার। এ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল অমর একুশে বইমেলায় আমার মৌলিক ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ দ্য এগোনাইজড সোল প্রকাশিত হওয়া এবং নেপাল হতে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা অর্জন করা। ভবিষ্যতে আমি আরো কিছু ভালো গানে কণ্ঠ দেয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। গানগুলো বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে একইসঙ্গে রিলিজড হতে পারে। তাছাড়া আমি একটি নতুন কাব্যগ্রন্থের কাজ সমাপ্ত করেছি যা অমর একুশে বইমেলায় বাংলাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। কাব্যগ্রন্থটির নাম শুধুই ভালোবাসা। এটি মূলত প্রেমের কবিতা।

তারেক আখন্দ
অনুষ্ঠানপ্রধান, বাংলাভিশন
বছরজুড়ে বস্তুনিষ্ট সংবাদ ও রুচিশীল বিনোদন দেয়ার প্রচেষ্টা থাকে। গেল বছরও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আমাদের ভিন্নধর্মী বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান ও সংবাদ ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে, এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষ করে বাংলাভিশনের অগণিত দর্শকের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমরা সবসময় ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠান ও নাটকের পরিকল্পনা করি। রুচিশীল চ্যানেল হিসেবে প্রতিনিয়তই আরো দর্শকপ্রিয়তা পাবার লক্ষ্যে কাজ করার চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতে সে ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।

প্রসঙ্গত বছরের শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন থাকায় গত বেশ কয়েক মাস যাবত প্রায় সব কয়টি চ্যানেলেই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে টক শো ও সংবাদ ইত্যাদি নিয়ে বেশি সময় ব্যয় করে। নতুন অনুষ্ঠান ও নাটকগুলো নিয়ে ভালো সাড়া পাচ্ছি। বেশ কয়েকটি নতুন অনুষ্ঠান ইতিমধ্যে প্রচার শুরু হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখয়োগ্য- ওয়েবলাইফ উইথ শেহতাজ, টক, মিষ্টি, ঝাল, টপ ট্র্যাকস, স্বাস্থ্য কথা। বছরের শেষভাগে পাগলা হাওয়া, চাটাম ঘর, সোনালি দিন, জায়গির মাস্টার নামে চারটি নতুন ধারাবাহিক নাটক শুরু করেছি। নাটকগুলোতে মজাদার ও জীবনভিত্তিক বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়েছি। এ ছাড়া পারিবারিক বন্ধনও তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, সুস্থ বিনোদনের সঠিক চর্চার মাধ্যমেই অপসংস্কৃতি রোধ করা যায়। বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় আমরা সেই ধারা অব্যাহত রেখে সুস্থ সাভাবিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে চাই। দর্শকদের আরো বিনোদনধর্মী আয়োজন উপহার দেব।

সামনে সংবাদ ও বিনোদন দুটিই গুরুত্ব পাবে। সামনে ভালোবাসা দিবস, মার্চ-এ আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঈদের বিশেষ আয়োজন নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমরা দর্শকদের ভিন্নধর্মী ও রুচিশীল বিনোদন উপহার দিয়ে চাই। সেই লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

জহিরুল ইসলাম টুটুল
হেড অব প্রোগ্রাম ডেভলপমেন্ট, রেডিওটুডে
নতুন বছর মানেই নতুন নতুন সব স্বপ্নে বিভোর হয়ে ওঠা। পুরনোকে ঝেরে ফেলে নতুন প্রত্যাশার আলো জ্বালিয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমি চাই ২০১৯ সাল আমাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় সব পর্যায়ের প্রত্যাশাগুলো পূরণ হোক। প্রায় ৯ বছর যাবত রেডিওতে কাজ করছি, মাইক্রোফোনের সামনে প্রতিদিন নাগরিক জীবনের নানারকম ইস্যু নিয়ে কথা বলে যাচ্ছি। বেশিরভাগই সব প্রত্যাশার কথা। যার কিছু হয়তো পূরণ হয়েছে, আর কিছু অধরাই রয়ে গেছে। আমি যেহেতু কথা নিয়েই কাজ করি, তাই ব্যক্তিগতভাবে খুব চাই, দেশের প্রতিটা শিক্ষিত মানুষ শুদ্ধ বাংলায় কথা বলুক এবং লেখার সময় বানান ভুল না করুক।

বিগত বছরগুলোতে ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সম্পর্কের যথেষ্ট টানাপড়েনের খবর আমরা নিয়মিতই পেয়েছি। খুব করে চাই, ঠিক এই জায়গাতেই আমাদের আরো বেশি সহনশীল এবং দায়িত্বশীল চিন্তাভাবনার প্রকাশ ঘটুক। আমি মনে করি, দিনশেষে পরিবার বা ব্যক্তিজীবনটাই একটা মানুষের বড় হয়ে ওঠার কিংবা ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করার সবচেয়ে বিশ্বস্ত আদিম প্রতিষ্ঠান!

আমিরুল মোমেনীন মানিক
লেখক ও সংগীতশিল্পী
নতুন বছর মানেই প্রকৃতিতে ঝলমলে আলোময় ভোর। কিন্তু নতুন বছর কী আমাদের নাগরিক জীবনে সম্ভাবনা ও সুন্দরের বার্তা বয়ে আনবে? একজন সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে এই প্রশ্নেরই সহজ ও সুন্দর উত্তর চাই। নতুন বছরে পুরনো সব কালিমা, অন্ধকার, ভয়, সংকীর্ণতা দূর হয়ে সবকিছু চকচকে হোক। বাংলা গানে মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের যে বন্ধ্যাত্ব চলছে নতুন বছরে সেটিও কেটে যাবে আশা করছি। শুধু মুনাফা নয়, সংস্কৃতির প্রতি সত্যিকার অর্থে নিবেদিত হয়ে রাষ্ট্র এবং বেসরকারি উদ্যোক্তারা কাজ করবেন বলে প্রত্যাশা করি। নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে আসুন প্রত্যেকে শপথ করি যে, বুকে লাল-সবুজের পতাকাকে গভীরভারে অনুভব করে অনিয়মকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেব না।

সোহাগ মাসুদ
প্রযোজক, একুশে টেলিভিশন
দর্শক আর বকবকানি শুনতে চায় না। টেলিভিশন খুললেই সেলিব্রেটি টকশো, স্বাস্থ্যবিষয়ক টকশো, ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানসহ মনস্তাত্ত্বিক এবং রাজনৈতিক টকশো দেখতে পায়। যেগুলো সবই স্টুডিওতে সেটবেজ। সেটবেজ আরো কিছু অনুষ্ঠান টিভির পর্দা দখল করে রেখেছে, সেগুলো হলো- স্টুডিওতে মিউজিক্যাল প্রোগ্রাম এবং রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান। প্রায় প্রতিটি চ্যানেলে একই প্যাটার্নের অনুষ্ঠান এবং ঘুরে ফিরে একই অতিথি সবগুলো চ্যানেলে দেখা যাচ্ছে ফলে চ্যানেলের লোগো ছাড়া অনুষ্ঠান দিয়ে দর্শকের কাছে অভেদ করার উপায় নাই। এতে করে দর্শকের দিনকে দিন দেশীয় টিভি চ্যানেলগুলোর প্রতি আগ্রহ নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া টেলিভিশনের দর্শক এখন কনভার্ট হয়ে ডিজিটাল প্লাটফর্মের প্রতি ঝুকে যাচ্ছে। সে সুযোগটি বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম লুফে নিয়েছে এবং বেশ ভালো বাজেট দিয়ে ভালো ভালো কন্টেন্ট তৈরি করছে। বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন ডিজিটাল প্লাটফর্মের দিকে ঝুকছে।

তবে আমি মোটেও নিরাশ নই। আমি জানি দর্শক কি চায়। তাই নতুন বছরে দর্শকের জন্য ভিন্নভাবে অনুষ্ঠান পরিকল্পনা করছি। অবশ্যই এমন অনুষ্ঠান যে অনুষ্ঠানে দর্শক আগে থেকেই অভ্যস্ত নয়। একদমই নতুন কিছু দর্শককে উপহার দেব। বিগত বছরগুলোতে সালমান মুক্তাদির লাইভ, সিম্পল লাভ স্টোরি, উইথ নাজিম জয় অনুষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে দর্শকের কাছে নতুন কিছু উপহার দিয়েছি। এটাও ঠিক, অনুষ্ঠানের কন্সেপ্ট যত ভালোই হোক একটা না একটা সময় সে অনুষ্ঠানটি দর্শকের কাছে একঘেয়েমি হয়ে যাবে। তাই একটি অনুষ্ঠান সর্বোচ্চ ৫২ পর্বের বেশি হওয়া উচিত না, আমি এটা বিশ্বাস করি। আর তাই অনেক জনপ্রিয় অনুষ্ঠানগুলোও একটা সময় পর বন্ধ করে দিয়েছি।

২০১৯ সালে টেলিভিশন অনুষ্ঠানের পাশাপাশি, লেখালেখি এবং নির্দেশনার পরিকল্পনা রয়েছে। মাথায় অনেক গল্প ঘুরপাক খাচ্ছে। খুব আস্তে আস্তে কাজ করতে চাই। জনপ্রিয়তার চেয়ে আমার কাছে আত্মতৃপ্তি খুব গুরুত্বপূর্ণ তাই মন দিয়ে ভালোভাবে কাজটাই করতে চাই। কাজই হোক আমার পরিচয়, এটাই আমার প্রত্যাশা।

সাদাত হোসাইন
লেখক ও নির্মাতা
প্রথমত, একটি শান্তিময় পৃথিবী দেখতে চাই। আর সেই পৃথিবীর অংশ হিসেবে একটি দুর্দান্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। কোনো সংঘাত দেখতে চাই না। দ্বিতীয়ত, দেশে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির যে প্রবাহমান ধারা, তা আরো বেগবান দেখতে চাই। বছরের শুরুতেই বইমেলা, সেখানে আমার উপন্যাস আসছে নির্বাসন। দীর্ঘ কলেবরের উপন্যাস। এই উপন্যাসটি নিয়ে আমার অনেক প্রত্যাশা। আশা করছি, পাঠক উপন্যাসটিকে গ্রহণ করবেন। আর আমার আগের উপন্যাসগুলোকেও ছাপিয়ে যাবে এটি।

২০১৯ সাল আসলে ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর। এ বছরে আমার পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও মুক্তি পাবে। গহীনের গান নামে এই মিজিক্যাল মুভিটির মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ পয়েলা বৈশাখ। এটি নিয়েও একধরনের প্রত্যাশা আছে আমার, নিজের কাছে যেমন, তেমনি দর্শকদের কাছেও।

এ ছাড়া দেশের বাইরে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। মার্চে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, মেলবোর্ন ও এডেইলেডে আমার স্টোরিজ অব লাইফ নামে তিনটি প্রোগ্রাম হওয়ার কথা, সেগুলো নিয়েও খুব এক্সাইটেড।

তবে সামনের বছরটিতে সবচেয়ে বেশি যেটি চাই, তা হলো অন্য সবকিছুর চেয়ে লেখালেখির প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হতে চাই। বছরে অন্তত দুটি উপন্যাস লিখতে চাই। কাজ করতে চাই বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বিষয় নিয়ে। যেমন বাচ্চাদের নিয়ে গল্প, উপন্যাস, ছড়ার বই করতে চাই। লিখতে চাই থ্রিলার কিংবা ভৌতিক উপন্যাসও। এবং লিখতে লিখতে এগুলোর ভেতর থেকেই সিনেমার জন্য প্লট বেছে নিতে চাই। কারণ আমার গল্পগুলো নিয়ে সিনেমা নির্মাণের ভীষণ ইচ্ছে রয়েছে আমার।

আর এ সবকিছুই সম্ভব যদি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকে, স্থিতিশীল থাকে। দেশ ভালো থাকলে দেশের মানুষ যেমন ভালো থাকে। তেমনি দেশের মানুষ ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকে। সুতরাং দেশের ভালো থাকার জন্য আমাদের সবার ভালো থাকতে হবে। আর সেজন্য আমাদের পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে, আচরণে, কাজে, কথায়। হয়ে উঠতে হবে আরো বেশি সহানুভূতিশীল। এই অনুশীলনগুলো সামনের দিনগুলোতে যেন আমাদের মধ্যে আরো অনেক বেশি গড়ে ওঠে, এটিই আমার প্রত্যাশা। আমি খুব চাই, সামনের বছরটা আমাদের জন্য শান্তি ও সম্প্রীতির একটি অসাধারণ বছর হোক।

মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ
জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক (বিপণন), স্টার সিনেপ্লেক্স
ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আমার একটা আলাদা দুর্বলতা ছিল। যখন বাংলা সিনেমার একটা ভালো দিন ছিল তখন পরিবারের সবার সঙ্গে সিনেমা হলে সিনেমা দেখা সেটাই ছিল আমাদের দেশের বিনোদনের অনেক বড় মাধ্যম। শুধু আমাদের দেশেই নয় সারাবিশ্বেই এখন সিনেমা বিনোদনের জন্য অনেক মুখ্য একটি স্থান। একইসঙ্গে নাচ, গান, হাসি, কান্না, অভিনয়সহ বিভিন্ন কলা কৌশলের সমাহার একসঙ্গে এই সিনেমাতে।

খুব খারাপ লাগে যখন শুনি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। নতুন বছরের প্রত্যাশা থাকবে আর যেন কোনো সিনেমা হল বন্ধ না হয়। আর নতুন মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল নির্মাণ ও বেশি বেশি ভালো বাংলা মৌলিক মুভি তৈরি করা। নতুন হল নির্মাণ তখনই সম্ভব হবে যখন মানসম্মত ছবি স্থানীয়ভাবে নির্মাণ হবে। তাই সিনেমা হল বা আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে বিদেশি ছবি প্রদর্শনের পাশাপাশি দেশীয় ভালো ছবি নির্মাণ করতে হবে।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব
চলচ্চিত্র পরিচালক
আমি অনেকদিন ধরে দেশের নাটক সিনেমার জন্য কাজ করছি, ইতিমধ্যে রাত্রির যাত্রী শিরোনামে একটি সিনেমা বানিয়েছি, এই সিনেমাটি নতুন বছরের ফেব্র“য়ারি মাসে মুক্তি পাবে ইনশালল্লাহ।। এই সিনেমাটি করতে এসে আমি আমাদের দেশের চলচ্চিত্রের সমস্যা এবং সিনেমা নিয়ে নানান জটিল কুটিল রাজনীতি পরোক্ষ প্রত্যক্ষভাবে দেখছি। তবে আমাদের সিনেমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ মানুষ দেশের সিনেমার উন্নয়ন চায়, সিনেমা শিল্পের মাঝে যুক্ত থেকে সম্মানের সঙ্গে জীবন-জীবিকা চালাতে চান। নতুন নতুন ইনভেস্টাররা সিনেমায় টাকা-পয়সা লগ্নি করতে চান, ভালো ভালো সিনেমা বানাতে চান। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে সিনেমা কোথায় চলবে? ভালো ভালো সিনেমা হলের খুব অভাব, যদিও দু’চারটা ভালো সিনেমা হল আছে, তা নিয়ে চলে মনোপলী রাজনীতি, যে যার সিনেমা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন, কে কাকে ঠকাবেন, কে কাকে টুপি পরাবেন এইসব নিয়েই চিন্তা-ভাবনা করে সময় পার করেন।

আমার দেখা সিনেমার সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ভাই-বন্ধু আছেন, যারা সিরিয়াসলি আমাদের দেশের সিনেমার পরিবেশ সুন্দর করার জন্য অবিরাম কাজ করছেন, সিনেমার পক্ষে দেশপ্রেমিকের ভূমিকা রাখছেন। আমি সবার সঙ্গেই কথা বলেছি, আমার এই প্রস্তাবিত দাবি নিয়ে, সবাই আমার এই দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেখেছি। যদি দেশের ৩০০ আসনে ৩০০টি সিনেপ্লেক্স করা হয় তাহলে দেশের বেকার সমস্যা অনেক কমে যাবে। দেশের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা তখন দেশের সিনেমার প্রতি আগ্রহী হবে। তারা তখন আর কোনো বাজে নেশায় যুক্ত হওয়ার সময় পাবে না, কেউ জঙ্গি হতে যাবে না। তখন সবাই নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকা প্রযোজক-পরিচালক গীতিকার চিত্রনাট্যকার হতে চাইবে। দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলায় তখন আনন্দের ঢেউ বইবে, নোংরা রাজনীতির কোনো অবকাশ থাকবে না।

লুৎফর হাসান
লেখক ও সংগীতশিল্পী
নতুন বছর প্রতিবারই আসে। বছর শুরুর প্রতিটা প্রথম দিন আমাদের প্রত্যাশা থাকে নানারকম। বছর শেষে মনে হয়, কিছুই পেলাম না। তবুও স্বপ্ন দেখতে আমাদের মন বাড়াবাড়ি করে। আগামীর ছক সাজাতে আমাদের কার্পণ্য থাকে না। ব্যক্তিগতভাবে যেটা প্রত্যাশা, সেটার ফিরিস্তি অনেক বড়। অল্প কথায় বলতে পারি।

এই যেমন, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির যে ধস নেমেছে গত বছর, মানে ভালোই চলছিল, উঠে দাঁড়াচ্ছিল নতুন করে, হঠাৎ এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। ভিউ গোনার দিকে এত মনযোগী ছিল সবাই, গানের মানের দিকে তাকাবার সময় ছিল না কারোই। ঝড়ের বেগে সবাই ছুটেছিল ভিউ সংগ্রহের দিকে। বাস্তুভিটা বিক্রি করেও কেউ কেউ ইনভেস্ট করেছে ভিউয়ের কাঙালপনায়। অথচ বছর শেষে এসে দেখা গেল, গ্রোতের গান গ্রোতে ভেসে গেছে, সঙ্গে খড়কুটোর মতো ভেসে গেছে মিলিয়ন মিলিয়ন ভিউজ। মনে রাখে নাই আর কোনো গান। এরকম দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। গানের মানুষ হিসেবে গান নিয়ে এটা প্রথম প্রত্যাশা।

দ্বিতীয় প্রত্যাশায় আছে, চলচ্চিত্রের গান। যৌথ প্রযোজনার নামে যেসব চলচ্চিত্র হচ্ছে, সেখানে সংশ্লিষ্টরা গান লেখাচ্ছেন ভিনদেশিদের দিয়ে, সুর ও সংগীতও তাদের দিয়েও করানো হচ্ছে। এদেশে এত প্রতিভা থাকতে এসবের কোনো মানে নেই। নতুন বছরে এই দৃশ্যটিও আর দেখতে চাই না।

তৃতীয় প্রত্যাশায় আছে, সারা বছরে একটি মাত্র সিঙ্গেল ট্র্যাক নিয়ে শিল্পীরা সন্তুষ্ট থাকার প্রবণতা ঝেড়ে ফেলে আগের মতো বছরব্যাপী গান করবে, অনেক অনেক সুস্থ গান আসবে। এটাই চাই।

চতুর্থত বলতে চাই, যার গান হিট তাকে নিয়েই মাতামাতি, যারা নিভৃতে খুব ভালো গান করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন, সেদিকেও যেন দৃষ্টি দেন সবাই। প্রত্যাশার শেষ নেই। তবুও এটা চাইব শেষে এসে, একজন স্বাধীন নাগরিক হিসেবে যতখানি সম্মান আছে আমাদের। সেটুকু যেন পাওয়া যায় রাস্ট্র থেকে শুরু করে ঘর পর্যন্ত।

শেষমেশ আরো কিছু কথা। নিরাপদ সড়ক চাই। হর্নমুক্ত শহর চাই। বাইকমুক্ত, দোকানমুক্ত ফুটপাত চাই। বাণিজ্যমুক্ত স্কুল চাই। ইভটিজিংমুক্ত সমাজ চাই। সাশ্রয়ের মধ্যে চিকিৎসা চাই। শহরের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রিত চাই। সবচেয়ে বড় কথা, নিরাপদ জীবন চাই।

মনি পাহাড়ী
মঞ্চাভিনেত্রী ও সভাপতি, গতি থিয়েটার
সবাইকে ইংরেজি নতুন বছরের শুভেচ্ছা। গতি থিয়েটার তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের কথা মনে রেখে সব সময়ই তার নাটক ও প্রযোজনাগুলোর মধ্য দিয়ে মানুষের মানবিক বোধের উন্মোষ ঘটানোর চেষ্টা করছে। গতানুগতিকতার বাইরে এসে ভিন্নধর্মী গল্প, ডিজাইন, সর্বোপরি ন্যূনতমের ব্যবহারে একটি শক্তিশালী থিয়েটার উপস্থাপনার চেষ্টা করেছে গতি। এই দিকটায় আমি মনে করি গতি থিয়েটার আমরা আমাদের মতো। ২০০৯ সালে পথচলা শুরু করে গতি। এ বছর গতিপূর্ণ করবে তার শিল্পযাত্রার ১০ বছর। তাই ২০১৯ গতির জন্য একটি বিশেষ বছর। নতুন মঞ্চ আর পথনাটক নির্মাণের পাশাপাশি বৃহদাকারে একটি নাট্য উৎসবের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন জাতিসত্তার পারফর্মেন্সের সমন্বয় থাকবে এতে। এর বাইরে প্রথমবারের মতো একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একজন নিবেদিত প্রাণ মঞ্চশিল্পীর পাশাপাশি যেসব সাংবাদিক সবসময় আমাদের পাশে থেকে অনুপ্রেরণা জুুগিয়েছেন তাদের মধ্য থেকে দু’জনকে সম্মাননা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। গতির সবচেয়ে বড় পাওয়া তার বন্ধু সদস্য- যার মধ্যে রয়েছেন প্রতিথযশা নাট্যব্যক্তিত্ব, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, আবৃত্তিশিল্পী, বাদ্যযন্ত্রশিল্পী সর্বোপরি দর্শক।

 

জিএম সৈকত
নাট্যকার ও নির্মাতা
নতুন বছরের নতুন ভোরে অনন্য উজ্জ্বলতায় আলোকিত হবে আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের সর্বস্তর শাণিত হবে সমৃদ্ধির নবচেতনা আর কর্মের সোপানে। আমি যেহেতু সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ তাই এই অঙ্গনে প্রাণের জোয়ার আসুক নতুনত্ব আর নবসৃষ্টির উদ্দীপনায় এটিই চাই। চলচ্চিত্র, নাটক আর গান জীর্ণ প্রাচীর ভেঙে বেরিয়ে আসুক নবরূপে নতুন প্রত্যয়ে। সংস্কৃতির প্রতিটি শাখা পূর্ণতা পাক মৌলিকত্বে। নতুন বছরে সৃষ্টির চিন্তাধারা ও চেতনা শুধু বাণিজ্যিক ঘোরটোপে বন্দি হবে তা যেন না হয়। বাণিজ্যের পাশাপাশি শিল্প যেন স্থান পায় প্রতিটি কাজে। দেশ, জাতি, আর সমাজের উন্নয়নে শিল্পমানের বিকল্প নেই। শিল্প ছাড়া কর্ম যেন প্রাণহীন নিথর দেহ।

নতুন বছরে প্রত্যেকে নিজ নিজ কাজে যেন যোগ্যতা আর দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে পারে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু প্রাপ্তি নয়, প্রদান হবে চিন্তার খোরাক। বিশেষ করে সংস্কৃতি জগতে গত কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে অনেক নির্মাতা, শিল্পী, কলাকুশলী আসে শুধুই অল্প পরিশ্রমে সব পেতে। খ্যাতি, অর্থ, বিত্ত পাওয়া সহজসাধ্য বিষয় নয়। এসব হলো সাধনার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে অনেকে এই চিরন্তন সত্যকে অবজ্ঞা করে স্বপ্নের সিঁড়িতে আহরণ করতে গিয়ে নিজেকেই দুঃস্বপ্নের অতল গহব্বরে পতিত হয়েছে। আপন শক্তিতে বিবেক ও বুদ্ধিকে জাগ্রত করে একইসঙ্গে যথার্থ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই বন্ধ্যাত্ব কাটাতে হবে। তাহলে নিজের, দেশের আর জাতির সঞ্চয়ের ভাণ্ডার প্রকৃত অর্থে পূর্ণতা পাবে। সার্থক হবে সব প্রচেষ্টা। এটিই হউক নতুন বছরের শপথ। আমরা সবুজের পথ ধরে অনন্য আলোকিত দেশের টানে লাল-সূর্যের দিকে হেঁটে যেতে চাই।

মাহবুব আল রশীদ
নাটক ও চলচ্চিত্র অভিনেতা
নতুন বছর নতুন প্রত্যাশা আশা-ভালোবাসায় ভরে উঠবে ইনশাআল্লাহ। এই বছরের প্রথম দিন শুরু হয়েছিল শুটিং দিয়ে এটা যে কোনো অভিনয় শিল্পীর জন্যে খুবই আনন্দের। সেই হিসাবে বছরের শুরুটা আমার অভিনয় দিয়ে শুরু হয়েছিল। বেশ কিছু ভালো নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়েছিলাম সঙ্গে ভালো পরিচালক এবং নাট্যকারের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। সাগর জাহান পরিচালিত নাটক মাহিনের রূপবান বিয়ে, ফ্যাটমেন ফেন্টাসটিক, নসু ভিলেনর সংসার নাটকগুলোতে আমার অভিনয় দর্শকপ্রিয় হয়েছিল। শিহাব শাহীন পরিচালিত বাসস্টপ, আদিত্যের মৌনতা নাটকগুলো ও খুবই প্রশংসিত হয়েছে।

দিপু হাজরা পরিচালিত মালতী, মাহমুদ হাসান রানা পরিচালিত শকসার্কিট লাভ, আদিবাসী মিজানের লাল দালানসহ। এ ছাড়া বছরজুড়ে ধারাবাহিক নাটক প্রচারিত হয়েছে। অনিমেষ আইচ পরিচালিত দ্য গুড দ্য ব্যাড অ্যান্ড দ্য আগলী, ফরিদুল হাসানের কমেডি ৪২০, শিহাব শাহীনের লিপস্টিক, ইমরাউল রাফাতের সিনেমাটিক, অঞ্জন আইচের অবাক দিন-রাত্রি। এ বছর একটি মিউজিক ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছি গান এ জীবনে যারে চেয়েছি নতুন করে ইমরান গেয়েছেন সালমান শাহের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।

আগামী বছর বড় পর্দায় আমার দুটি বিশাল বাজেটের সিনেমা মুক্তি পাবে ইনশাআল্লাহ। বছর শেষে আমার দুটি ধারাবাহিক নাটক শুরু হয়েছে, পাগলা হাওয়া এবং শান্তি পুরের অশান্তি এই নাটক দুটি আগামী বছরেও চলতে থাকবে যা আমার জন্যে ২০১৮ ও ২০১৯ এর সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে। কোনো ভুলত্রুটি করে থাকলে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। সবার জীবনে আনন্দ আর সাফল্যের বন্যায় ভরে উঠুক ২০১৯ এই শুভকামনা রইল।

শিশির আহমেদ
অভিনেতা ও মডেল
চলতি বছরটা আমার ক্যারিয়ারের একটা উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। কারণ এ বছর আমার কয়েকটি বিজ্ঞাপন আলোচিত হয়েছে। তার মধ্যে আলোচনায় ছিল রাসেল শিকদারের পরিচালনায় পেট্রম্যাক্স এলপি গ্যাস, নাহিয়ান আহমেদের বাংলালিংক নেক্সটিউবার এবং তানিম রহমান অংশুর সরকারি উন্নয়নমূলক বিজ্ঞাপন। ২০১৭ সালে সিনেমার কারণে নাটকে অভিনয় তেমন না করলেও চলতি বছর এসে অনেকগুলো একক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করেছি।

আমার অভিনীত প্রচার চলতি ধারাবাহিকের মধ্যে রসের হাড়ি, সন্দেহ ভাইরাস, ক্যাট হাউজ, সিম্পলের মধ্যে গর্জিয়াস উল্লেখযোগ্য। এ বছরই আমি দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মঞ্চ নাটকে কাজ করি। তবে এ বছরটি আমার জন্য স্বপ্নের বছর। কারণ দেশের অন্যতম লিজেন্ড পরিচালক সাইদুল আনাম টুটুলের সরকারি অনুদানের ছবি কালবেলা এ নায়ক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হই এবং ৫ অক্টোবর থেকে খুলনায় শুরু করি।

খুলনায় ১০ দিন এবং কুষ্টিয়ায় ২২ দিন শুটিং করে প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ করেছি। সফলতার এ বছরের শেষপ্রান্তে এসে বেশ কিছুটা হোঁচট খাই আমি। কারণ গত ১৮ ডিসেম্বর ইহলক ত্যাগ করেন সাইদুল আনাম টুটুল। এক মুহূর্তের জন্য যেন থমকে যায় আমার পৃথিবী। সাইদুল আনাম টুটুল স্যার শুধু একজন পরিচালকই ছিলেন না। তিনি আমার মিডিয়ার অভিভাবকের মতো। এই ছবিটি করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি আজ নেই ভাবতেই পারি না।

রাকিব মোসাব্বির
সংগীতশিল্পী ও সংগীত পরিচালক
গেল বছরটা তেমন ভাল যায়নি। অনেকটা টানাপোড়নের মধ্যে দিয়ে গেছে সময়টা। গান থেকে কিছুটা দূরে ছিলাম। তবে টুকটাক গান প্রকাশ হয়েছিল মাঝেমধ্যে। নিয়মিত ব্যস্ত ছিলাম কার্টুন অ্যানিমেশন তৈরির কাজে। যা ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে সবাই দেখতে পারবে। তাছাড়া গেল বছর ইউটিউবের জন্য কিছু মোটামুটি মানের নাটক/শর্টফিল্ম/ওয়েব সিরিজ নির্মাণ করেছিলাম। নির্মাণ করেছিলাম গুটি কয়েকটা মিউজিক ভিডিও।

তবে আনুসাঙ্গিক কারণে অনিয়মিত ছিলাম সংগীত অঙ্গনে। আগামী বছর প্রায় অর্ধশতাধিক মিউজিক ভিডিও করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে ইতিমধ্যে। এছাড়া এ বছরে ইউটিউবের জন্য ২টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি, বেশ কিছু শর্টফিল্ম/নাটক/ওয়েব সিরিজ করারও পরিকল্পনা চলছে। তাছাড়া একাধিক কার্টুন অ্যানিমেশন ফিল্মও প্রকাশ পাবে এ বছর। প্রকাশ পাবে গেল বছরে আটকে যাওয়া আমার লেখা প্রথম পূর্ণাঙ্গ বই “ছোট গল্পের উপন্যাস” বইটি। আর আমার ভক্তশ্রোতাদের জন্য সুখবর হচ্ছে, আমি আবারও নিয়মিত গানের মাঝে ফিরবে এ বছর। কারণ ২০১৯ সালে আমার সংগীত জগতে আমার সংগীত ক্যারিয়ারের এক যুগ পূর্তি হবে। এটা দুমদাম করে পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি ২০১৯ সাল আমার অনেক ভাল যাবে। কারণ আমার বড় বড় সাফল্যগুলো এসেছিল বিজোড় সালেই। সুতরাং বিজোড় সালটা আমার জন্য অনেক লাকি। তাই এ বছরে প্রত্যাশা আমার আকাশচুম্বী। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

রুম্মান রশীদ খান
উপস্থাপক ও চলচ্চিত্রকার
প্রতিটি বছরই শুরু হয় নতুন স্বপ্ন নিয়ে। ২০১৯-ও তার ব্যতিক্রম নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে নতুন সরকার তাদের দেখানো প্রতিশ্রুতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন করবেন, এই স্বপ্ন দেখছি। রাষ্ট্রীয়ভাবে শান্তিপূর্ণ একটি বছর কাটবে আমাদের-এমন স্বপ্ন দেখছি।এ বছর আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দল বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলবে। তারা তাদের অতীতের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাবে, এই স্বপ্ন দেখছি।

ব্যক্তিগতভাবে নিজেকে নতুন চমক দিতে চাই এ বছর। ২০১৪ সালে সর্বশেষ চলচ্চিত্র লিখেছিলাম। সব কিছু নিয়ে হতাশ ছিলাম, যে কারণে মাঝে চলচ্চিত্রে কাজ করার আগ্রহ পাইনি। তবে এ বছরের শুরু থেকেই নতুন কিছু ভাবনা, পরিকল্পনা নিয়ে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে নতুন কিছু দেবার স্বপ্ন দেখছি। চলচ্চিত্র সমালোচনা নিয়ে নতুন কিছু করবার স্বপ্ন দেখছি। বেশ কিছু মানসম্পন্ন চলচ্চিত্রকে দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে যাবার জন্য মার্কেটিং কনসালটেন্ট হিসেবে প্রচার-প্রচারণায় বড় ধরনের কিছু করার স্বপ্ন দেখছি। নাট্য রচনায় এ বছর আমার শততম নাটক ও ১০ বছর পূর্ণ হবে।

আর এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখবার জন্য এমন কিছু নাটক লিখতে চাই, যা দর্শককে একই সাথে আলোড়িত ও আলোকিত করবে। ওয়েব সিরিজ কিংবা স্বল্পদৈর্ঘ্যৈর চলচ্চিত্র: যুগের চাহিদা। এ বছর সে ধারাতে আমিও ডুব দেয়ার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি অন্য সবার থেকে আলাদা কিছু করার চেষ্টা করবো এবং সফল হবো। অনুষ্ঠান উপস্থাপনার দিক দিয়ে নতুন কিছু কাজ করতে চাই, যা আমার অভিজ্ঞতার ঝুলিকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করবে। আমার চাকরীস্থল মাছরাঙা টেলিভিশনে উল্লেখ করার মত এমন কিছু করতে চাই, যা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ছোটবেলা থেকে লালিত স্বপ্ন একদিন বই লিখবো। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে বই লেখার কাজেও হাত দিতে চাই।

সিলেটে শিশুদের জন্য একটি স্কুলের সাথে যুক্ত আছি। এ বছর সে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন কিছু করার প্রত্যাশা করছি। পারিবারিক জীবনে মা, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যদেরকে আরো সময় দিতে চাই। যাদের আমি কষ্ট দিয়েছি মনে করছি কিংবা যারা আমার ওপর কিছুটা ঈর্ষান্বিত কিংবা রাগান্বিত কিংবা যারা আমার কাছ থেকে আরো সম্মান পাবার যোগ্য, তাদের সবার সাথে শুভদৃষ্টি নিয়ে পাশে থাকত চাই। সর্বোপরি, প্রতিটি দিন না হোক প্রতিটি মাস শেষে যেন মনে হয় আমি মানুষের মত বেঁচে আছি, মানুষের জন্য বেঁচে আছি। আমার, আমার পরিবার ও দেশের জন্য সবাই দোয়া করবেন-এই প্রত্যাশা করছি।

মানবকণ্ঠ/এএম