নতুন বই নিয়ে ঘরে ফিরছে শিক্ষার্থীরা

স্কুলশিক্ষার্থীরা বছরের প্রথম দিনই নতুন পাঠ্যবই পেয়ে উৎসবে মেতে ওঠেছে। কোমলমতি শিশু-কিশোরদের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠল দেশের সব স্কুল ও মাদরাসা। ঢাকঢোলের আওয়াজ আর শিশুদের হৈ-হুল্লোড়ে এক অন্যরকম পরিবেশ ধারণ করেছে বড় বড় স্কুলগুলোতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে দেখা যায় রঙিন ফিতায় বাঁধা বইয়ের সেট, কারো হাতে বেলুন, কারোবা হাতে রঙ-বেরঙের ফেস্টুন। নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীরা যেমন আনন্দে উদ্বেলিত তেমনি অভিভাবকরাও বেজায় খুশি। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী সবাই নতুন বই উঁচু করে নাড়াতে থাকে। সৃষ্টি হয় নতুন পরিবেশ, যা দিয়ে শুধু জাতি গঠনই সম্ভব। এই উৎসবে শিশুরা বিদ্যালয়ে এসছে খালি হাতে, নতুন বই নিয়ে ফিরছে ঘরে। বুকের কাছে আগলে রাখছে নতুন বই, শুকছে ঘ্রাণ। পুরো দৃশ্য দেখে মনে হয়েছে- ‘আহা কী আনন্দ, আকাশে বাতাসে…’। এভাবেই বছরের প্রথম দিনে মঙ্গলবার দেশের সব প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ি, মাধ্যমিক স্কুল, দাখিল মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি পাঠ্যপুস্তক উৎসবের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেইল বই এবং ৫টি নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ ভাষায় বই দেয়া হবে। ২০১৯ সালের প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ছাপা হয়েছে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যবই। প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ কোটি ৬ লাখ ১ হাজার ৫২১ কপি বই বিতরণ করা হবে। এরমধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বই ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ২০ কপি। প্রাথমিক স্তরের ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৯ কপি, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষার বই ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৪ কপি, ইবতেদায়ির ২ কোটি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ২৮৩ কপি এবং দাখিলের ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৪ কপি বই। মাধ্যমিক (বাংলা সংস্করণের) স্তরের ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ১২২ কপি এবং একই স্তরের ইংরেজি ভার্সনের ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬ কপি বই বিতরণ করা হবে। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষা স্তরের ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৮ কপি, এসএসসি ভোকেশনাল স্তরের ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৫ কপি, ব্রেইল পাঠ্যপুস্তক ৫ হাজার ৮৫৭ কপি এবং সম্পূরক কৃষি (ষষ্ঠ-নবম) স্তরের ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ কপি বই বিতরণ করা হবে।

আজ সকালে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে উৎসবের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হয়। উৎসবে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে যোগ দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। রাজধানীর আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন। এনসিটিবির আয়োজনে এই উৎসবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফ উল্যা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে এদিন সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন। ঢাকায় কেন্দ্রীয় উৎসব হলেও বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উৎসবের মধ্য দিয়ে বই বিতরণ করা হবে। ওই উৎসবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অংশ নেন।

এ প্রসঙ্গে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফ উল্যা মানবকণ্ঠকে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শতভাগ বই পৌঁছে গেছে। ১ জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যের পাঠ্যবই তুলে দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মাদরাসার শিক্ষায় স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম বিষয়গুলোকে ইসলামের আলোকে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ গঠনে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা বিশেষ ভ‚মিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ