মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা সামিট ২০১৮

‘নতুন কিছু করতে চাই’

‘ফেসবুকে প্রথম মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা সামিটের কথা শোনার পর থেকেই একটি টিম তৈরির জন্য কাজে নেমে পড়ি। নতুন কিছু করতে চাই। এখানে প্রথম দুই দিনের সেশন শেষে নতুন কিছু করে দেখাবার বিষয়ে আমি দারুণ আশাবাদী’- কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে সামিটে যোগ দেয়া স্টার্ট আপ টিম। দলের পক্ষ থেকে কথাগুলো বলছিলেন তাসমিয়াহ ফাইরুজ সিন্থি। তরুণদের বৃহত্তম প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার উদ্যোগে হওয়া এই আয়োজনে এবার আবেদন করেছে ১ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা।

উপস্থিত এই দলটির অপর সদস্য এম. রহিম উল্লাহ বলেন, আমরা চাই এই সামিট শেষে আমাদের স্টার্ট আপ নিয়ে ভালো কিছু করতে। শীর্ষ ১০-এর আমাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিইসি বিভাগ থেকে অংশ নেয়া অপর একটি দলের প্রধান মো. ইয়াসিন মিয়া মাহির বলেন, আমরা তিন বন্ধু যা করি এক সাথে করার চেষ্টা করে। আমাদের চারপাশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও আমরা আলোচনা করি। এতদিন এই সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে ভিন্নভাবে ভেবেছি আমরা। মনে হয়েছে আমাদের আইডিয়াগুলো দুর্দান্ত। কিন্তু এই সামিটে এসে মনে হচ্ছে, এগুলো প্রাথমিক ধারণা মাত্র। আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আশা করছি এই সামিট শেষে আমাদের আইডিয়াগুলো পূর্ণতা পাবে এবং তা সকলের কাজে আসবে। সেই সাথে একটি নতুন দুর্দান্ত স্টার্ট আপ পাবে বাংলাদেশ।

ইলেক্ট্রনিক্স ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী সারা আক্তার সারওয়ার এই সামিটে অংশ নিয়েছে তার দুই থিসিস মেট ইসমত আরা ফাতেমা ও নাবিলা আহমেদের সাথে। তারা প্রত্যেকে এই সামিট নিয়ে দারুণ আশাবাদী। সারা জানায়, নারীদের কর্মক্ষেত্রে যোগদানের স্বাধীনতা এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে জন সচেতনতা তৈরির জন্য বেশ কিছু আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম আমার। যেহেতু আমরা প্রত্যেকে একই সাথে থিসিস করছি, তাই আমাদের জন্য এই আইডিয়া নিয়ে কাজ করাটা সহজ ছিলো। এভাবেই টিম তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের আইডিয়াগুলো এখনো ‘ব্রিলিয়ান্ট’ পর্যায়ে হয়ত নেই। কিন্তু সামিটে এসে আমরা দারুণ আশাবাদী। আশা করছি শীর্ষ ১০ এর মধ্যে থাকার। এর পাশাপাশি আমাদের স্টার্ট আপের জন্য ভালো একটি প্লাটফর্ম পাবো বলেও আশা করছি।

৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে শুরু হয়েছে ৪ দিনব্যাপী মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা ইন্টার্নশিপ সামিট যা শেষ হবে ৬ অক্টোবর। তরুণ-যুবকদের তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর স্বাধীন আইডিয়া বিকাশ এবং এর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরি করে ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতিতে এগিয়ে নিতে এই উদ্যোগ। এবারের এই ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামে সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ৩২৪টি গ্রুপ। এর থেকে বাছাইকৃত ২৫০টি গ্রুপ অংশ গ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলার কো-অর্ডিনেটর আশিকুর রহমান রূপক জানান, আমরা সেপ্টেম্বরে যে ইন্টার্ন ব্যাচ আছে, তাদের ইন্টার্নশিপটা করাবো ৩, ৪ ও ৫ অক্টোবর। প্রথমে আমরা তাদেরকে জিজ্ঞেস করি বাস্তব জীবনের কোনো সমস্যাকে নতুন কোনো প্রযুক্তি আবিষ্কার করে সমাধান করার বিষয়ে আইডিয়া দিতে। তারপর ওই সমাধানগুলোর উপর ভিত্তি করে তারা কীভাবে নিজেদের একটা ব্যবসা দাঁড় করাতে পারে এবং পরবর্তীতে ওই স্টার্ট আপগুলোর সিড আর্নিং বা ইনকিউবেশন করা যায় তার সাপোর্টগুলো আমরা মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা টিমের তরফ থেকে দিয়ে থাকি।

সামিটে বেশ কিছু ভিন্নধর্মী সেশনের মাধ্যমে প্রতিযোগী গ্রুপগুলোকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। গ্রুপগুলোর নিজস্ব আইডিয়া বিচার বিশ্লেষণ করে সেরা দশটি গ্রুপ নির্বাচন করা হবে। আর ৬ অক্টোবর ফাইনাল রাউন্ডে বিজয়ী গ্রুপগুলোর জন্য থাকছে ব্যবসা শুরুর মূলধনের যোগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সাপোর্ট।

এ ছাড়াও সামিটের টপ ৫ সিডারের জন্য স্পেশাল কিছু থাকছে বলেও জানানো হয়। তিনি জানান, এখানে থেকে টপ টেন টিম আমরা ৫ তারিখে সিলেক্ট করবো, এদের সঙ্গে পিচ করবে আমাদের মার্চ মাসে সিলেক্ট করা টপ টেন টিম। এই ২০ টা টিমের মধ্য থেকে টপ ৫ টিমকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এএএম