‘নগদ’ সেবায় প্রাণ ফিরবে ডাক বিভাগে

‘নগদ’ সেবায় প্রাণ ফিরবে ডাক বিভাগে

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে চিঠি চালাচালির প্রচলন একবারে নেই বললেই চলে। শতবর্ষের ঐহিত্য হারাতে বসেছিল ডাক বিভাগ। সেই ডাক বিভাগের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডাক বিভাগেও যুক্ত হচ্ছে আধুনিক নানা কার্যক্রম। ফলে দীর্ঘদিনের স্থবির হয়ে থাকা যোগাযোগের জনপ্রিয় এ প্রতিষ্ঠানটি আবারো সুদিন ফিরবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ডাক বিভাগকে সেবার মাধ্যমে জনগণের আরো কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার গ্রহণ করেছে বিশেষ পরিকল্পনা, যা বাস্তবায়ন হলে ডাক বিভাগ ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য। আবারো ডাক বিভাগ হয়ে উঠবে সাধারণ মানুষের নির্ভরতার প্রতীক।

ডাক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ৯ হাজার ৮৮৬টি পোস্ট অফিস আর ৪০ হাজার কর্মকর্তা নিয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কয়েক দশক ধরে অর্থ আদান প্রদানের প্রধান মাধ্যম হিসাবে মানুষের দোর-গোড়ায় সেবা দিয়ে এসেছে। সময়ের বিবর্তনে নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে চালু হয় পোস্টাল ক্যাশ কার্ড এবং ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার সিস্টেম। গত কয়েকবছর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত না হলে বিগত কয়েকমাস ধরে নতুন উদ্যম লক্ষ্য করা যাচ্ছে ডাক বিভাগের বিভিন্ন স্তরে।

৯ হাজার ৮৮৬টি পোস্ট অফিস ধাপে ধাপে নতুন ব্র্যান্ডিং এবং নগদ সেবার আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। মানুষের দীর্ঘ দিনের আকাঙ্ক্ষাকে ছিলো ডাক বিভাগ তার বিস্তৃত অবকাঠামোর সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনকে এগিয়ে নিবে। মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল ফিন্যাসিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’। সেই লক্ষে বিগত কয়েক মাস ধরে আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের, আধুনিকীকরণ করা হয় পোস্ট অফিসকে।

জেলা পর্যায় থেকে নামের তালিকা তৈরি করতে গিয়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া প্রসঙ্গে নগদের হেড অফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সোলায়মান সুখন বলেন, ‘জেলা পর্যায়ের পোস্ট অফিসগুলো থেকে আমরা আশাতীত সাড়া পেয়েছি। বিশেষত নতুন প্রযুক্তির ব্যাপারে এই আগ্রহ আমাদেরকে উদ্দীপ্ত করেছে অনেক বেশি। ডিজিটাল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের খুঁটিনাটি ন্টি মানি লন্ডারিং নিয়ে ওয়ার্কশপে অংশ নেয়ার জন্যে ইতিমধ্যেই সারাদেশ থেকে ২ হাজার জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে সরকারি এবং বেসরকারি এই মিলিত উদ্যোগ দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসের কর্মচারীদের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পেছনে ডাক বিভাগের প্রত্যক্ষ অবদান হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

প্রতিটি পোস্ট অফিসে ডিজিটাল ফিন্যাসিয়াল সার্ভিস নগদের সেবা পাওয়া যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্যে আলাদা করে ব্র্যান্ডিং এবং প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ চলছে। বর্তমানে নতুন করে এই কর্ম চাঞ্চল্য নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ৪০ হাজার মানুষের বিশাল পরিবার ডিজিটাল ফিন্যাসিয়াল সার্ভিস নগদ নিয়ে সত্যিকার অর্থেই যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনেকটাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডাক বিভাগের প্রত্যন্ত পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারার বিষয়টিকে ইতিবাচক একটা পদক্ষেপ হিসেবে এবং ডাক বিভাগের আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটা বড় অর্জন বলে মনে করছে।

আর্থিক সেবাকে সহজ করার পাশাপাশি নগদের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ সরাসরি প্রান্তিক পর্যায়ের নাগরিকদের মধ্যে বিতরণে গতি আসবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মানবকণ্ঠ/এসএ