ধানের শীষে ভোটের চিন্তা জামায়াতের!

নতুন উদ্যোমে মাঠে অবস্থান করছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। একাদশ নির্বাচনে অংশ নিতে দলটির নেতাকর্মীরা এখন ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন। দলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোট করার কথা থাকলেও তা আর বাস্তবায়ন হচ্ছে না। কেননা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট করার ঘোষণা দেয়ার পর জামায়াত নেতারাও সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তারাও ধানের শীষ প্রতীকে ভোট করবেন। এজন্য আগামী কয়েকদিন পর এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে দলটির নীতিনীর্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।

এদিকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান সম্প্রতি সাংবাদিকদেরকে বলেছেন, তাদের দলের নিবন্ধন বাতিল হলেও নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়াত দল হিসেবে বা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। কিন্তু জামায়াতের নেতারা অন্য কোনো নিবন্ধিত দলের প্রতীকে বা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে পারবেন বলে কিছুদিন আগে এক বক্তব্যে নিশ্চিত করেন নির্বাচন কমিশন সচিব। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দলের বেশ কয়েকজন নেতার সাজা কার্যকর হওয়ার কারণে দলের নির্বাচনী প্রচারাভিযান ও কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে মনে করেন শফিকুর রহমান।

অপরদিকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলটির কোনো মার্কা নেই। এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র মার্কা নিয়েই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়ে রাখেন দলটির নীতিনির্ধারকরা। কিন্তু হঠাৎ সে ভাবনা থেকে সরে আসছেন দলটির নেতারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা জোটগতভাবে নির্বাচন করব এবং যেহেতু আমাদের মার্কা বাতিল করা হয়েছে, সে কারণে স্বতন্ত্র বা ২০ দলের অর্ন্তভুক্ত হয়ে কোনো প্রতীকের অধীনে প্রার্থীরা নির্বাচন করার চিন্তা করছে।’

জামায়াত সূত্রগুলো বলছে, এরই মধ্যে প্রায় ১০০ আসনে তাদের প্রার্থীদের প্রাথমিক একটি তালিকা করা হয়েছে। তবে জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বাস্তবতায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের চাহিদার পূর্ণ ফল যে আসবে না, তা তারা বুঝতে পারছেন। শেষ পর্যন্ত এই তালিকা ৫০ এ গিয়ে ঠেকতে পারে- এমন ইঙ্গিত দিয়েছন জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচনগুলো থেকে এবার তো বেশি চাওয়া হবেই। যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘নিবন্ধন নেই, মার্কা নেই, এমন বাস্তবতায় জামায়াতের সামনে জাতীয় নির্বাচন। বিগত নির্বাচনগুলোতে অন্যতম শরিক হিসেবে জোটের সমর্থন পেলেও এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। সুনির্দিষ্টভাবে জামায়াতের বাতিল হওয়া ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে বিগত দিনে ২০-২১টি আসনে জেতার রেকর্ড আছে দলটির। এবারো সেই আসনগুলোর ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হবে। ২০০১ সালে চার দলীয় জোটের ব্যানারে ৩১টি, এরমধ্যে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগত সমর্থন পেলেও চারটি থেকে দলীয়ভাবে করে।

দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিমতের ভিত্তিতে এবার তাদের দাবি ৬২টি। তবে চূড়ান্তভাবে ত্রিশটি আসনে ন্যূনতম ছাড় চায় জামায়াত। ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদের তৃতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৭৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল। ওই নির্বাচনে দলটি ১০টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে জামায়াত। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসনে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনে দলটি ২২২ জন প্রার্থী দিয়েছিল।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ৩টি আসনে জয়ী হয়। ২০০১ সনের ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ১৭টি আসন পায়। মহিলা আসনগুলো থেকে ৪টি আসনে জয়ী হয় তারা। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত ২টি আসনে বিজয়ী হয়। ওই নির্বাচনে দলটি জোটগতভাবে ৩৯টি ও ৪টিতে এককভাবে নির্বাচন করে। এ ছাড়া, প্রথম ও দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামিক ডেমোক্র্যাটিক লীগের ব্যানারে নির্বাচন করেছিল জামায়াত।

জামায়াতের নেতাকর্মীরা বলছেন, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে দল হিসেবে টিকে থাকাটা বেশি জরুরি। এ ছাড়া, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক ঐক্য তৈরিকালে দলটিকে কেন্দ্র করে প্রায় দু’মাসের বেশি সময় কেটেছে। বিষয়টি সুরাহা হওয়ার পরই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়। জামায়াত বরাবরই বলে এসেছে, তারা বৃহত্তর ঐক্যে বাধা হবে না।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ