ধর্মমন্ত্রীর ছেলেসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগ নেতা সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদ হত্যার এক মাস পর মামলা নিল পুলিশ। আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর দায়ের করা মামলাটি শুক্রবার রাতে মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলায় ধর্মমন্ত্রী ছেলে ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ব্যাপারে ধর্মমন্ত্রী পুত্র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেন, আমাকে ও আমার পিতাসহ আমাদের রাজনৈতিক পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই একটি বিশেষ মহলের ইন্ধন ও নির্দেশে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলাটি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, বাদীর অভিযোগ সম্পর্কে জটিলতা থাকায় এজাহারটি তদন্তাধীন ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে শুক্রবার রাতে মামলাটি রুজু হয়।

উল্লেখ্য গত ৩১ জুলাই ময়মনসিংহের আকুয়ার নাজিরবাড়িতে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আজাদ শেখ। তাকে গুলি, গলা কেটে ও কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। আজাদের মা ও স্ত্রীর অভিযোগ, ধর্মমন্ত্রীর ছেলে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রাসেল পাঠান ও ধর্মমন্ত্রীর ভাতিজা মন্তু বাবুর নির্দেশে আজাদকে হত্যা করা হয়। মামলার এজাহারে তাদের আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানি করতেই এজাহারে তাদের নাম দেয়া হয়েছে।

হত্যার দু’দিন পর ২ আগস্ট ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেন নিহত আজাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলু। তিনি এজাহারে মোহিত উর রহমান শান্তসহ ২৫ জনের নাম উল্লেখ করেন। কিন্তু এখনও এজাহারটি নথিভুক্ত করেনি পুলিশ। পরে মামলাটি এজাহারভুক্ত না হওয়ায় নিহত আজাদ শেখের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার দিলুর পক্ষে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী আফিল উদ্দিন। ৩০ আগস্ট হাইকোর্ট আজাদ শেখ হত্যার অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ