ধরা পড়ল ১০০ কোটি টাকার বাংলাদেশি কোবরার বিষ

বাংলাদেশ থেকে চীনে যাওয়ার পথে একশো কোটি টাকার কোবরা সাপের বিষ ধরা পড়ল। পশ্চিমবঙ্গের বনদফতর, সিআইডি ও এসএসবির যৌথ উদ্যোগে ধরে পড়ে বহু মূল্যের এই বিষ। বিষ পাচারের সময় তিন পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গ বনদফতর সূত্রে জানা যায়, সোর্স মারফত শত কোটি টাকা মূল্যের বিষ বাংলাদেশ থেকে কলকাতা হয়ে চীনে যাওয়ার কথা জানতে পারে গোয়েন্দা ও বনদফতর। গত তিন ধরে এসএসবি, সিআইডি ও বনদফতরের আধিকারিকরা ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ ও বসিরহাট থেকে মধ্যমগ্রাম পর্যন্ত ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে ওঁত পেতে বসে থাকে।

সোমবার বিকেলে ঘড়ির কাঁটায় তখন চারটে। খবর আসে একটি লাল গাড়িতে তিন পাচারকারী চীনে পাঠানোর জন্য তিন ভাগে সাপের বিষ দমদম বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে। গাড়িটি যশোর রোডের রথতলার কাছে আসতেই দাঁড় করিয়ে তল্লাশি করে। উদ্ধার হয় একটা ক্রিস্টল, একটা লিকুইড জার ও একটি গুড়ো বিষ ভর্তি জার। গ্রেফতার করা হয় তিন পাচারকারী টালিগঞ্জের দেবজিৎ বোস, মধ্যমগ্রামের নয়ন দে ও পশ্চিম মেদিনীপুর বাসিন্দা বুদ্ধদেব খাঁড়াকে।

উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা বন দফতরের আধিকারিক তপন সরকার বলেন, বাংলাদেশ থেকে এই বিষ সংগ্রহ ও প্রস্তুত করে সীমান্ত পার করে এদেশের পাচারকারীদের হাতে তুলে দেয়। দমদম বিমানবন্দর থেকে চীনগামী বিমানে ওই বিষ তুলে দেয়ার কথা ছিল বলে প্রাথমিক জেরায় জানা গেছে। পাচারকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সাপের বিষের বাজার মূল্য আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা।

সিআইডি ও বনদফতর সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া এই কোবরা সাপের বিষ চীনে ওষুধ তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের সুন্দরবনের গভীরে এই কোবরা সাপের অস্তিত্ব বেশি দেখতে পাওয়া যায়। স্থানীয় ভাষায় শঙ্খচূড় নামে পরিচিত এটি। কোবরা লম্বায় ৫.৬ মিটার (১৮.৫ ফুট) পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশের সুন্দরবন ছাড়াও মূলত সম্পূর্ণ দক্ষিণ এশিয়ার বনাঞ্চল জুড়েই শঙ্খচূড় বা কোবরা দেখা যায়।

কোবরা সাপের বিষ আধুনিক চিকিৎসা এন্টিভেনম বা বিষ প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই বিষ এক প্রকার প্রোটিন যা রক্তে এন্টিজেন হিসাবে কাজ করে।

মানবকণ্ঠ/জেডএইচ