দ্বিতীয় শিরোপার পথে ফ্রান্স

স্বাগতিক হয়ে প্রথম চমকটা দেখিয়েছিল ফ্রান্স। ১৯৯৮ সালে দেশের মাটিতে আয়োজিত বিশ্বকাপের শিরোপা রেখে দিয়েছিল ঘরেই। এবার পুরনো সেই স্মৃতি নতুন করে চাঙ্গা করার পথে ফরাসিরা। মঙ্গলবার রাতে সেইন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়া বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে বেলজিয়ামকে ১-০ গোলে হারিয়ে পেয়েছে ফাইনালে খেলার টিকিট। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে দিদিয়ের দেশমের শিষ্যদের লড়তে হবে ইংল্যান্ড অথবা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

প্রথম সেমিফাইনাল ভেসে যাবে গোলে। ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের তারকা ফরোয়ার্ডদের আগুন ফর্ম ইঙ্গিত দিচ্ছিল এমনটাই। কিন্তু কোথায় কি? পিটার্সবার্গে প্রথমার্ধ ছিল গোলশূন্য। যদিও লড়াই হয়নি কম। সমানে সমানে লড়েছে বেলজিক এবং ফরাসিরা। শুরুটা করেছিল বেলজিয়াম। ষষ্ঠ মিনিটে বাঁ দিক থেকে দারুণ এক ক্রস খেলেন ইডেন হ্যাজার্ড। কিন্তু চ্যাডলি তা নিয়ন্ত্রণে নেয়ার আগে কর্নারের বিনিময়ে ফ্রান্সকে বিপদমুক্ত করেন স্যামুয়েল উমতিতি।

একাদশ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের ক্রসে গড়া ফ্রান্সের প্রথম আক্রমণ ভেস্তে যায় একইভাবে। দুই মিনিট পরে বেলজিয়ামকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক থিবাউট কৌর্তয়েস। ফরাসি ফরোয়ার্ড মউসা দেম্বেলের লম্বা পাস ডি-বক্সের ভেতর এমবাপে দখলে নেয়ার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ে গ্লাভবন্দি করেন বেলজিক গোলরক্ষক। ১৬ মিনিটে হতাশ হতে হয় বেলজিয়ামকে। হ্যাজার্ডের ক্রস ফরাসি গোলরক্ষক হুগো লরিসকে বোকা বানালেও শেষতক চলে যায় ডান পোস্ট ঘেষে।

১৯তম মিনিটে ফের আশাহত হতে হয় হ্যাজার্ডকে। এবার তার ক্রস রাফায়েল ভারানের মাথা ছুঁয়ে চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে। এর দুই মিনিট পর চ্যাডলির কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বলে জোরালো শট নেন অ্যালডাউইরেল্ড। সে যাত্রায় অবিশ্বাস্য এক সেভে দলকে রক্ষা করেন লরিস। ১৮ মিনিটের মাথায় কৌর্তয়েসের পরীক্ষা নেন ব্লাইসে মাতুইদি। তবে ফরাসি এই ডিফেন্ডারের দূরপাল্লার শট সহজেই রুখে দেন বেলজিক গোলরক্ষক। এরপর কয়েক দফা ফ্রান্সকে হতাশা উপহার দেন অলিভিয়ের জিরু। এমবাপের দারুন কয়েকটি পাস বেলজিয়ামের ডি-বক্সে পেয়ে একবারও লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি তিনি। একই ব্যর্থতা দেখিয়েছেন বেলজিক তারকা রোমেলু লুকাকু। প্রথম ভাগে হ্যাজার্ড উজ্জ্বল থাকলেও মাত্র একবারই বল পায়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের ঢুকতে পেরেছিলেন তিনি। আর তারকা স্ট্রাইকারদের ওমন পারফরম্যান্সের কারণে গোলশূন্য ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটেই কাটে ম্যাচের গোলখরা। উমতিতির দারুণ এক হেডে এগিয়ে যায় ফরাসিরা। গোলমুখ থেকে ১২ গজ দূরে থাকা বার্সেলোনার এই ডিফেন্ডার আতোয়ান গ্রিজম্যানের ক্রসে মাথার ছোঁয়ায় জালে জড়ান বল (১-০)। এরপরই আক্রমণ ছেড়ে রক্ষণে মনোযোগী হয়ে উঠে ফরাসিরা। সেই সুযোগে আক্রমণের ধার বাড়াতে থাকে বেলজিকরা। তবে ৫৫ মিনিটে ডি-বক্সে বল পেয়েও প্রথম দফায় ঠিকমতো শট নিতে পারেননি কেভিন ডি ব্রুয়েন। ৬৫ মিনিটে লরিস নৈপুণ্যে সমতায় ফেরা হয়নি মার্টিনেজের শিষ্যদের। ফরাসি গোলরক্ষক রুখে দেন ফেল্লাইনির হেড। ছয় মিনিট পর একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি বেলজিক তারকারা। ৮১ মিনিটে উইটশেলের দূরপাল্লার শট ঠেকিয়ে ফের ফ্রান্সের ত্রানকর্তা রূপে আবির্ভূত হন গোলরক্ষক। এরপর আরো কয়েকটি আক্রমণ সানায় বেলজিয়াম। কিন্তু ফলাফল একই। জালের দেখা পাওয়া হয়নি তাদের। তাতে ১-০ ব্যবধানের হারে বিদায় নিশ্চিত হয় বেলজিকদের আর আনন্দে ভাসে ফরাসিরা।

মানবকণ্ঠ/আরএ

Leave a Reply

Your email address will not be published.