দেড় হাজারের বেশি পর্ন ও অনলাইনে জুয়া খেলার সাইট বন্ধ

দেড় হাজারের বেশি পর্ন ও অনলাইনে জুয়া খেলার সাইট বন্ধ

বাংলাদেশে দেড় হাজারের বেশি পর্ন ও অনলাইনে জুয়া (বেটিং) খেলার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ করা হয়েছে এসব ক্ষতিকর সাইট। এর আগে দুই দফা বিভিন্ন পর্ন সাইট বন্ধ করা হলেও পরে সেসব সাইট আবারও সক্রিয় হয়। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক নির্দেশনায় রোববার পর্যন্ত এসব ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে এ ধরনের ওয়েবসাইটের তথ্য থাকলে পুলিশকে ই-মেইল ([email protected]) করে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ২৪৪টি পর্ন সাইট ব্লক করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল বিটিআরসি। ওই অভিযানের অংশ হিসেবে দেশের নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলো এ কাজে অংশ নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র মতে, পুলিশের সকল সাইবার ইউনিট, র‌্যাব, বিটিআরসি, এনটিএমসি ও এটুআইয়ের অংশগ্রহণে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টিকারী পর্ন ও জুয়ার ওয়েবসাইট ব্লক করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এমন ১৫শ’র বেশি সাইট ব্লক করা হয়েছে।

সম্প্রতি মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় বলা হয়, পর্নোগ্রাফির মাত্রা ক্ষতিকর পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। বিশেষ করে ঢাকায় স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৭৭ ভাগ পর্নোগ্রাফি দেখে। এতে করে তাদের যৌনস্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সাইবার জগতে অবাধে পর্নোগ্রাফির ফলে মানুষের স্বাভাবিক যৌনতাও অস্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে বলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক জানিয়েছেন। বিশেষ করে পর্নোগ্রাফির কারণে যৌন বিকারগ্রস্থতা বাড়ার পাশাপাশি যৌন অপরাধ সংগঠনে পর্নোগ্রাফি ভয়াবহ ভূমিকা রাখছে বলেও অভিমত গবেষকদের।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর সামাজিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী অনলাইনে বাজি ধরা, জুয়া ও পর্নোগ্রাফির প্রায় পাঁচ শতাধিক সাইট বন্ধ করা হয়েছিল। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সাইটগুলো আবারও সক্রিয় হয়।

গেল বছরের সেপ্টেম্বরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছিলেন, ২০১৮ সালের নভেম্বরে একটি প্রকল্পের অধীনে স্থায়ীভাবে সাইটগুলো বাংলাদেশে বন্ধ করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এসএস