দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে: সিইসি

সিইসি

বিএনপির পর এবার আওয়ামী লীগের প্রশংসায় মুখর হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। তিনি বলেছেন, দেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে। দেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে রয়েছে। এই সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে এবং বেশ কয়েকজনের রায়ও কার্যকর করেছে। শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তির প্রসার অবকাঠানোর উন্নয়ন এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে আজ ধরিত্রীর বিশ্ব মুকুট শেখ হাসিনার মাথায়। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়ে বা উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে।

বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে এ সব কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ২১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি এসব কথা বলেন। বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠকে বসেছেন তারা। বৈঠকে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সিইসি নূরুল হুদা তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, ইয়ার আহমেদ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।

সিইসি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কালো অধ্যায় শুরু হয়। পরে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দলের প্রধান হন এবং ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।

কে এম নুরুল হুদা বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। আমরা অনেক দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকার–প্রধান করেছেন।

সিইসির বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে তার রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হয়, যা এখনো চলছে।

এর আগে আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, ইসির কাছে তারা ১১ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছেন। তারা এখানে সেগুলো তুলবেন। এ ছাড়া আরও অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

গত রোববার আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংলাপে বসে সিইসি নূরুল হুদা দলটির নেতা সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের গুণগান করেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তি হিসেবে এবং দলনেতা হিসেবে জিয়াউর রহমান চার বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তার হাত দিয়েই দেশে ‘বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা’ পায়। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দেশে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপে ওই বক্তব্যের কারণে ক্ষমতাসীন দলের অনেকের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সিইসিকে।

মানবকণ্ঠ/এসএস