দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে আমি জড়িত: জাকারিয়া চৌধুরী

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে অমর একুশে বই মেলার দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন বিকেল ৫ টায় নবীগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্যানেল মেয়র এটিএম সালাম ও কবি পৃথ্বিশ চক্রবর্তীর যৌথ পরিচালনায় এ সংবর্ধনা সভা হয়।

এসময়  ১৯৫২ ভাষার আন্দোলনের সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী জাকারিয়া খান চৌধুরীকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্যাহ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন এএসপি (নবীগঞ্জ-বাহুবল সার্কেলের) পারভেজ আলম চৌধুরী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছাদেক হোসেন, হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ শিরিন আক্তার, প্রাবন্ধিক তাহমিনা বেগম গিনি।

সংবর্ধিত ব্যক্তি জাকারিয়া খান চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, আমি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে জড়িত হই। ১৯৪৮ সাল থেকে ভাষা আন্দোলন শুরু হলেও ১৯৫২ ফেব্রুয়ারি মাসে আমি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক ছাত্র থাকাকালীন চূড়ান্ত রূপ ধারণ করে।

তিনি আরো বলেন, ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা জারি হলে ভঙ্গ করা হবে কি না এ নিয়ে কোন স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টার দিকে ছাত্র সমাবেশে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের পক্ষে মতামত প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এ্যাডভোকেট গাজীউল হক। গাজীউল হকের বক্তব্য উদ্বুদ্ধ হয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাদেশিক পরিষদ ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে আম বাগানে পুলিশ ছাত্রদের উপর টিয়ারসেল, গুলি চালালে রফিক, জব্বার, বরকত ও সালাম নিহত হন। কিন্তু তার আগেই পুলিশ আমাকে গ্রেফতার করে লালবাগ থানায় যায়। তারপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারুদ্ধ করে।

মানবকণ্ঠ/এএম