দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে চায় ইয়াং বাংলা-মাইক্রোসফট

দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে চায় ইয়াং বাংলা-মাইক্রোসফটদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে কাজ করে যেতে চায় ইয়াং বাংলা ও মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসেবে শুরু করা হয় মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা ইন্টার্ন সামিট ২০১৮। চারদিন ব্যাপী চলা এই ইন্টার্ন সামিটের শেষ দিন রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে ৬ অক্টোবর দেশের শীর্ষ পাঁচ স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সামিটে যোগ দেয়া ইন্টার্নদের। সেই সঙ্গে জানানো হয় বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ভালো আইডিয়া দেয়া প্রতিটি দলকে ইয়াং বাংলার প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে দেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সিআরআই এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর সাব্বির বিন শামস বলেন, শুধু বিজয়ী দলগুলো নয়, এই সামিটে অংশ নেয়া সকল দলকে নিয়ে কাজ করবে ইয়াং বাংলা। তাদের স্টার্ট আপ আইডিয়াগুলোর সাথে অন্য মন্ত্রণালয়, এনজিও বা প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত দেয়ার জন্য ইয়াং বাংলা চেষ্টা করবে। তাই ইয়াং বাংলার সাথে নিজেদের আইডিয়াগুলো নিয়ে যুক্ত থাকতে হবে। ইয়াং বাংলা সকল বিন্দুকে সংযুক্ত করবে।

সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক বলেন, ইয়াং বাংলার স্লোগান কানেক্টিং দ্য ডটস। তরুণদের লবিস্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ইয়াং বাংলা। বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা ভাবনা ও আইডিয়ার সাথে দেশের নীতি নির্ধারকদের সেতুবন্ধন তৈরির উদ্দেশ্যে কাজ করে যাবে প্রতিষ্ঠানটি। আমরা যখন তরুণ ছিলাম, তখন মাইক্রোসফট ছিলো আমাদের কাছে বর্তমান সময়ের ফেসবুক-টুইটারের মতই জনপ্রিয়। ইয়াং বাংলার পাশে মাইক্রোসফটের নাম দেখে ভালো লাগছে। ইয়াং বাংলার মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের সাথে মাইক্রোসফটের মত একটি ব্রান্ডকে যুক্ত করতে পেরেছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, আমরা কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন চাই, কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না।’ আমার ভালো লাগছে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার সাথে বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা মিলে যাচ্ছে। তারা সকলে হাতে হাত ধরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করছে। আশা করছি তরুণরা এভাবেই ইয়াং বাংলার সাথে থাকবে।

মাইক্রোসফটের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবির এ সময় তাদের ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের উদ্দেশ্য ঘোষণা দিয়ে জানান, আমাদের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ১০০ ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর এখন মাইক্রোসফট ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তিনি দেশের ৭ জেলায় ইয়াং বাংলার সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোসফটের ল্যাবগুলোর প্রশংসা করে বলেন, এই ল্যাবগুলোতে কাজ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন দেখে ভালো লাগছে। ল্যাবগুলো দুর্দান্ত কাজ করছে।

দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে চায় ইয়াং বাংলা-মাইক্রোসফট

বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ (বিপু) বলেন, এখানে এসে নতুন সব আইডিয়া দেখে ভালো লাগছে। তরুণদের কাজ থেকে ইনোভেটিভ আইডিয়াইতো চাই আমরা। শুধু চাকরির পেছনে দৌড়িয়ে লাভ নেই। সরকার ৩ হাজারের বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করতে পারে না বছরে। তার পেছনে না ছুটে নিজের নতুন আইডিয়া নতুন উদ্যোগ নিয়ে যারা এগিয়ে যাবেন তাদের হাতেই থাকবে উন্নত বাংলাদেশের কাণ্ডারি।

তরুণদের বৃহত্তম প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলার উদ্যোগে ও মাইক্রোসফটের সহায়তায় আয়োজিত ‘স্টার্ট আপ’ ইন্টার্ন সামিটে অংশ নিতে আবেদন করে ১ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা। সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ৩২৪টি গ্রুপ। এর থেকে বাছাইকৃত ২৫০টি গ্রুপ সামিটে অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়। এই সামিটে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্য থেকে শীর্ষ ১০ দলকে বাছাই করা হয় ৫ অক্টোবর। এরপর তাদের সঙ্গে মার্চ মাসে সিলেক্ট করা শীর্ষ ১০ দল একত্রে তাদের আইডিয়া পিচ করে। এই ২ দলের মধ্য থেকে শীর্ষ ৫ দলকে প্রদান করা হয় অ্যাওয়ার্ড। বিজয়ী দলগুলো হলো- গরুর ডাক্তার, ফিনান্স উইজার্ড, ব্লেজ ওয়ারিয়ার্স, বিএসএল এবং মাইক্রো বিচ।

ইয়াং বাংলার সেক্রেটারিয়েট সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ বলেন, সামিটে বেশ কিছু ভিন্ন ধর্মী সেশনের মাধ্যমে প্রতিযোগী গ্রুপগুলোকে প্রস্তুত করা হয়। গ্রুপগুলোর নিজস্ব আইডিয়া বিচার বিশ্লেষণ শেষে সেরা দশ গ্রুপ নির্বাচন করা হয়। আর ৬ অক্টোবর ফাইনাল রাউন্ডে বিজয়ী গ্রুপগুলোর জন্য ব্যবসা শুরুর মূলধনের যোগান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরণের সাপোর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দেশের সেরা পাঁচ স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত রয়েছে ইয়াং বাংলা নেটওয়ার্ক। এই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে। তারা নিজেদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশ সেরা স্টার্ট আপ ওগমেডিক্স, সোল শেয়ার, প্রিয়শপ, সেবা এক্সওয়াইজেড ও ই-ভিলেজের প্লাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

মানবকণ্ঠ/এসএ