দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা। পাশাপাশি ভাড়াটে ও দলীয় ক্যাডার সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করা হতে পারে নির্বাচন। এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সারাদেশে অপরাধীদের তথ্য সংগ্রহ ও তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পরপরই সন্ত্রাসী, দলীয় অস্ত্রবাজ ক্যাডার গ্রেফতার ও আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধারে শিগগিরই দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে এ জোরালো অভিযান পরিচালিত হবে বলে সংশিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

একই সূত্র মতে, সম্প্রতি পুলিশ ও র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিশেষ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রধারী, ভাড়াটে ও পেশাদার সন্ত্রাসী ছাড়াও বিগত ২০১৩-১৪ সালের ভয়ঙ্কর পেট্রলবোমা ও অগ্নিসন্ত্রাসে জড়িত দলীয় ক্যাডার কর্মীদের এবারের নির্বাচনের আগেই পাকড়াও করা হবে। বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় যাদের নামে থানায় মামলা রয়েছে, তাদের দিকে বিশেষ নজর রাখছেন গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে মাঠপর্যায়ে উঠতি সন্ত্রাসীসহ অপরাধীদের হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করেছেন গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের হরতাল-অবরোধ কর্মসূচিতে এক শ্রেণির নেতাকর্মী অগ্রভাগে থেকে দেশজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছে। এবার রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় একাদশ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবে না জামায়াত। এজন্য তারা আগের মতোই নাশকতার মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা করতে পারে।

পুলিশ ও র‌্যাবের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে অস্ত্রের ঝনঝনানি আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থা। অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর অবস্থানে না গেলে নির্বাচনের আগমুহূর্তে এসব অবৈধ অস্ত্র জননিরাপত্তা ও নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদের চোরাচালান ও জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ ঘটার আশঙ্কাও করছেন গোয়েন্দারা। এসব কারণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজ দলীয় ক্যাডার গ্রেফতার ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের তথ্য মতে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারাদেশে সাড়ে পাঁচ হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারের বিপরীতে দুই হাজার ২০৮টি মামলা দায়ের হয়। তবে উদ্ধার বা আটকের বেশিরভাগ মামলাই বিচারাধীন। আইনের দীর্ঘসূত্রতা ও সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিচার হচ্ছে না।

ডিএমপি ও র‌্যাব সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব সন্ত্রাসী ও অস্ত্রবাজদের তালিকা করে তাদের গ্রেফতারের জন্য মাঠে নেমেছে। কিছুদিন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকায় থানা ও ডিবি পুলিশ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেমেছে। একইভাবে র‌্যাব সদর দফতর থেকেও মাঠপর্যায়ে নির্দেশ এসেছে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র মতে, সীমান্তের অন্তত ১৫টি পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে আসছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, সন্দ্বীপ, বান্দরবান, রাঙ্গামাটির সাজেক, খাগড়াছড়ির রামগড় ও সুধারাম, খুলনা, যশোর, উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, হিলি ও সিলেটের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই অবৈধ অস্ত্র আসছে। আগ্নেয়াস্ত্র কারবারিদের গ্রেফতারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি সীমান্তে সতর্ক অবস্থা ও নজরদারি শুরু হয়েছে।

এদিকে অতিসম্প্রতি পুলিশ সদর দফতরে অর্ধবার্ষিকী অপরাধ পর্যালোচনা সভায় মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ড. জাবেদ পাটোয়ারী জানান, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা অরাজকতা সৃষ্টির কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না। অন্যদিকে সম্প্রতি র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদও জানিয়েছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মো. সোহেল রানা বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর এ অভিযান আরো জোরালো করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যারাই শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে লিপ্ত হবে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরে হয়তো যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হতে পারে।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.