দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ১২০০ মিটার

দৃশ্যমান হলো পদ্মাসেতুর ১২০০ মিটার

পদ্মা বহুমুখী সেতুতে বসল অষ্টম স্প্যান। বুধবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর স্প্যানটি বসানো হয়। এর ফলে দৃশ্যমান হলো পদ্মা সেতুর টানা ১ হাজার ২০০ মিটার।

এর আগে বুধবার ভোরে স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়। কিন্তু ঘন কুয়াশার কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়। পদ্মা সেতু প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ূন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারিতে সপ্তম স্প্যান বসানোর ২৮ দিনের মাথায় বুধবার সকালে জাজিরা প্রান্তের পদ্মা সেতুর ৩৫ ও ৩৬ নম্বর খুঁটির ওপর বসানো হয়েছে ‘৬-ই’ নম্বরের অষ্টম স্প্যান। আর এ স্প্যানটি বসানোর পর জাজিরা প্রান্তের সেতুর মূল অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য হয়েছে এক কিলোমিটার ৫০ মিটারে (এক হাজার ৫০ মিটার)। আর মাওয়া প্রান্তসহ উভয় প্রান্ত মিলিয়ে দীর্ঘ প্রত্যাশী পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোর দৈর্ঘ্য দৃশ্যমান হবে প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার বা এক হাজার ২০০ মিটারে।

মূল সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. কাদের জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয় স্প্যান বসানোর কাজ। বেলা ১২টা ৩৮ মিনিটে স্প্যান বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোনো মাসে একটি-দু’টি অথবা ৩টি পর্যন্ত স্প্যান বসানো হবে খুঁটির ওপর।

পদ্মা সেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, তিন হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ক্রেন ‘তিয়ান ই’ দিয়ে মাওয়া থেকে জাজিরা প্রান্তে আনা হয়। জাজিরা নাওডোবা প্রান্তের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর পিলারের ওপর ধূসর রঙের স্প্যানটি বসানো হয়।

এর আগে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারের ওপর প্রথম স্প্যান, ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি ৩৮ ও ৩৯ নম্বর পিলারের ওপর দ্বিতীয় স্প্যান, ১১ মার্চ ৩৯ ও ৪০ নম্বর পিলারের ওপর তৃতীয় স্প্যান, ১৩ মে ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলারের ওপর চতুর্থ স্প্যান, ২৯ জুন ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের ওপর পঞ্চম স্প্যান ও সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি ৩৬ ও ৩৭ নম্বর পিলারের ওপর ষষ্ঠ স্প্যান বসানো হয়। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে ৪ ও ৫ নম্বর পিলারের ওপর একমাত্র স্প্যানটি বসানো হয়। আর বুধবার জাজিরার নাওডোবায় বসানো হলো আরেকটি স্প্যান। এ নিয়ে পদ্মা সেতুতে মোট স্প্যান বসলো আটটি। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা ৪২টি। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার।

মানবকণ্ঠ/এসএস