দু’দলই দেখাতে চায় চমক

আনিসুল হকের মৃত্যুতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদটি শূন্য হওয়ায় বাকি মেয়াদের জন্য উপনির্বাচন করতে নড়েচড়ে উঠেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলীয় মনোনয়ন পেতে রাজনেতিক দলগুলোর শীর্ষ মহলের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থীরা যোগাযোগ আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলের নির্বাচনে ঢাকা মহানগরের উত্তরের মেয়র পদটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী জয় পেয়েছিলেন। আসছে নির্বাচনেও পদটি ধরে রাখতে চায় তারা। এ জন্য ক্ষমতাসীন জোটটি আনিসুল হকের মতো না হলেও একজন ‘আকর্ষণীয় প্রার্থীকে’ মনোনয়ন দেয়ার চিন্তা করছে বলে জানা গেছে।



অন্যদিকে বিএনপি ও তার জোট সঙ্গী দলগুলো মেয়র পদটি তাদের পক্ষে আনা যায় কীভাবে সেই কৌশলও করছে। এখনো এ ব্যাপারে দলীয় ফোরামে কোনো আলোচনা না হলেও এ নির্বাচনে যে তারা অংশ নিচ্ছে তা নিশ্চিত করেছেন দলের নীতিনির্ধারকদের একজন। তবে দলীয় ফোরাম ছাড়াও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদ ১ ডিসেম্বর থেকে শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইনের ১৫ (ঙ) অনুযায়ী এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হলে এ পদ শূন্য হয়। আইন অনুযায়ী ওই গেজেট প্রকাশের পর ৯০ দিনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। এরই মধ্যে সেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ইসি। ইসির সহকারী সচিব রাজীব আহসান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, গেজেট প্রকাশ থেকে ৯০ দিন, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মেয়র পদে উপনির্বাচন শেষ করতে হবে। কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অন্তত ৪৫ দিন হাতে রেখে তফসিল ঘোষণা করতে পারে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ থাকে শপথ নেয়া জনপ্রতিনিধিদের। রাজীব আহসান জানান, উপনির্বাচনে মেয়র পদে নতুন যিনি আসবেন, তিনি মেয়াদের বাকি অংশটুকু দায়িত্ব পালন করবেন। তবে এই সিটির মেয়র পদের উপনির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) উভয়পক্ষে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেননা উত্তর সিটিতে পরে নতুনভাবে ১৮টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হলেও সেগুলোতে নির্বাচনের সময়সীমার বিষয়ে স্পষ্ট বিধান নেই। সম্প্রসারিত উত্তর সিটিতে শুধু মেয়র পদে, নাকি ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েছে ইসি। সূত্র মতে, পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও উপনির্বাচন নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। কারণ ঢাকা উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে বেশকিছু আপত্তি রয়েছে। এগুলোর নিষ্পত্তি ছাড়া নির্বাচন সম্ভব হবে না।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ভোট হয়। আওয়ামী লীগের সমর্থনে ওই নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক। প্রায় দুই বছর ধরে ওই দায়িত্ব পালনের মধ্যেই চলতি বছর জুলাইয়ে যুক্তরাজ্যে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিসে আক্রান্ত আনিসুল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩০ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। আনিসুল হক অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই বর্তমানে প্যানেল মেয়র মো. ওসমান গণি উত্তর সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

জানা যায়, সিটি কর্পোরেশনের পার্শ্ববর্তী ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়। আগস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করা হয়েছিল। তবে এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকায় নির্বাচন করতে পারেনি ইসি। ঢাকার দুই সিটিতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনের পর আড়াই বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু এখন নির্বাচন হলে নতুন এসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের মেয়াদ কতদিন হবে, তারা কি ৫ বছর থাকবে, নাকি বর্তমান সিটি কর্পোরেশনের মেয়াদে আড়াই বছর পর তাদেরও মেয়াদ শেষ হবে- এ নিয়ে বেশ সংকটে পড়েছে কমিশন।

সর্বশেষ নির্বাচনে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। এতে ঢাকা উত্তরের সঙ্গে নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়। নবগঠিত এলাকা নিয়ে এ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা এখন ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৮টি। একইভাবে দক্ষিণের সঙ্গে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় এ সিটিতে এখন মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি। তবে ইসি সূত্রে জানা গেছে, কখন, কবে ও কীভাবে নির্বাচনের আয়োজন করা হবে তা কমিশন নির্ধারণ করবে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রস্তুতি থেমে নেই: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু না হলেও এ নিয়ে গুঞ্জন থেমে নেই। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রকাশ্যে ঘোষণা না দিলেও ভেতরে ভেতরে তাদের প্রস্তুতি থেমে নেই। বেশ কয়েকজনের নামও ইতোমধ্যেই আলোচনায় চলে এসেছে। দলের নীতিনির্ধারকরা শুরু করেছেন প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা-পর্যালোচনা। জনসম্পৃক্ত ও ক্লিন-ইমেজের প্রার্থী দিয়ে আবারো এখানে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চান তারা।

ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক এবং আনিসুল হকের একমাত্র ছেলে নাভিদুল হক আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা না দিলেও নাভিদুল হক ইতোমধ্যেই পিতার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর যে কোনো নির্দেশনা দিলে, তিনি ও তার পরিবার তা মেনে নেবেন বলে জানিয়েছেন।

আনিসুল হকের পরিবারের বাইরে আরো বেশ কয়েকজনের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা-৯ আসনের এমপি সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান অন্যতম। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল অফিসার আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের নামও জোর আলোচনায় রয়েছে।

উপনির্বাচনে দলের মনোনয়নের ব্যাপারে নিজের আগ্রহের কথা জানিয়ে সাদেক খান মানবকণ্ঠকে বলেন, আমি অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে তিনবার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলাম। দু’বার ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার অভিজ্ঞতা আছে। নেতাকর্মীরাও আমাকে গ্রহণ করবেন বলে বিশ্বাস আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে দলীয় মনোনয়ন দেন তাহলে অবশ্যই নৌকাকে বিজয়ী করতে পারব।

আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজধানীতে এই নির্বাচন দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এটা অনেকটা এসিড টেস্টের মতো। তাই জনসম্পৃক্ত, ক্লিন-ইমেজের প্রার্থী দিয়ে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে চায় দলটি। তা ছাড়া এই সিটির প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের সর্ব মহলে আলাদা একটা গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তাই ভবিষ্যৎ প্রার্থী নির্বাচনে সেই বিষয়টাও মাথায় রাখতে চায় আওয়ামী লীগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য মানবকণ্ঠকে বলেন, এ ব্যাপারে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তা ছাড়া দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন। তিনি দেশে এলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সেক্ষেত্রে আমাদের দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকে। আওয়ামী লীগ সবসময় দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের প্রতি কমিটেড, জনসম্পৃক্ত ও ক্লিন-ইমজের প্রার্থীদেরই অগ্রাধিকার দেয়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান মানবকণ্ঠকে বলেন, দেশের আইন ও সংবিধান মোতাবেকই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন হবে। নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড আছে সেখানে বৈঠক করে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। তবে আমরা জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী দেব। তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ইতোমধ্যেই অনেক কাজ হয়েছে। আশা করি জনগণ আমাদের নৌকার প্রার্থীকে আবারো ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে।

ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগ কেমন প্রার্থী দেবে; এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমরা উইনেবল ক্যান্ডিডেট যে তাকেই দেব। এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে কি আমরা নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে বলেছি যে, নির্বাচন শুরু করে দেন।

কেউ অযোগ্য হলে বা কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি যদি মারা যান, সে অবস্থায় তার আসন শূন্য ঘোষণা করতে হয়। এটার একটা নিয়ম নীতি আছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ম অনুযায়ী শূন্য ঘোষণা করেছে। এখানে আওয়ামী লীগ বা সরকার এ ব্যাপারে কোনো ইন্টারফেয়ার করেনি। এখানে তো সরকারের এত তাড়াহুড়া করার কোনো দরকার নেই। নির্বাচন প্রক্রিয়া অনুযায়ী নির্বাচন চলবে। আমার মনে হয় বিএনপির নির্বাচনে প্রস্তুতি নেই সে কারণে এ কথা বলছে।

বিএনপির প্রস্তুতি রয়েছে: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন উপনির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও এতে ধানের শীষের প্রার্থী কে হবেন- এখনই বলতে নারাজ দলটির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা। দলীয় ফোরামের বাইরে জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেই প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দলটি। রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অংশ নিয়েছে বিএনপি। ঢাকাসহ আরো যে পাঁচটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে, তাতেও অংশ নেয়ার জন্য ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি চলছে বিএনপির। বিএনপির কৌশল হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকারকে বিনা চ্যালঞ্জে ছেড়ে দেবে না।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল উত্তর সিটি কর্পোরেশনের যে নির্বাচন হয় সেখানে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল অংশ নিয়েছিলেন। তিনি নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ এনে মাঝপথে নির্বাচন বর্জন করেন। তাবিথ আউয়াল দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছেলে। এবারো মনোনয়ন চাইলে তাবিথ আউয়াল পাবেন বলে মনে করেন দলের একাধিক নেতা।

তাবিথ আউয়াল বর্তমানে মস্কো অবস্থান করছেন। তবে তার পরিবার থেকে দাবি করা হয়, বিগত সিটি নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন তাবিথ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনিই বিজয়ী হতেন। আগামী উপনির্বাচনেও দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন। বিগত নির্বাচনে তার অবস্থান মূল্যায়ণ করে দলীয় হাইকমান্ড তাকেই মনোনয়ন দেবেন বলে আশা তাবিথের পরিবারের। তাবিথ আউয়ালের পর যার নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তিনি হলেন, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক। দলীয় প্রার্থিতায় চমক সৃষ্টির জন্যই সারাদেশে পরিচিত মুখ আর ক্লিন-ইমেজের অধিকারী আমিনুলকে নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছে। প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের বিপরীতে সাংস্কৃতিক আর ক্রীড়াঙ্গনের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাতে চাইছেন তারা। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, আনিসুল হকের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতার কথা মাথায় রেখেই দল থেকে পরিচ্ছন্ন কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। প্রয়াত মেয়রের মতো পরিচিত মুখ আর সংস্কৃতমনা প্রার্থীকে মাঠে নামাতে পারলে নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব হবে বলেও তারা মনে করছেন।

বিএনপির কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের ডিএনসিসির উপনির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নে ‘চমক’ দেখাতে পারে বিএনপি। সেক্ষেত্রে ২০ দলীয় জোটের শরিক দল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে মনোনয়ন দিতে পারে দলটি। আবার নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বিএনপি ‘ঐক্যের প্রার্থী’ হিসেবে মনোনয়ন দিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এ ছাড়া নাগরিক সমাজের কোনো জনপ্রিয় প্রতিনিধিকেও মনোনীত করতে পারে বিএনপি, যেভাবে আওয়ামী লীগ আনিসুল হককে মনোনয়ন দিয়ে ২০১৫ সালের নির্বাচনে মেয়র পদে জয়লাভ করেছিল।

ডিএনসিসির বিগত নির্বাচনে বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহী বি. চৌধুরী মেয়র প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, বিএনপি হয়তো তাকে সমর্থন দেবে। তিনি একসময় বিএনপির মনোনয়নে এমপি হয়েছিলেন। তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মহাসচিব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাহীকে মনোনয়ন না দিয়ে তাবিথ আউয়ালকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তবে এবারের নির্বাচনে মাহী বি. চৌধুরী আবার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কিনা বা প্রার্থী হলেও বিএনপির সমর্থন চাইবেন কিনা, তা নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তবে বি. চৌধুরীর বিকল্প ধারা, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির আ স ম আবদুর রব ও কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফ্রন্ট গঠন হওয়ায় এ ফ্রন্ট থেকেও মেয়র পদে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিয়েছে। যখন দেখা গেছে নির্বাচনে কারচুপি চলছে, তখন নির্বাচন বর্জন করতে বাধ্য হয়েছে। এবার কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মানবকণ্ঠ/আরএ