দুদকের হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন ৩ ভিআইপি!

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজনৈতিক ব্যস্ততা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ দেখিয়ে দুদকে ব্যক্তিগত হাজিরা এবং অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার। গতকাল মঙ্গলবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর করা এক আবেদনে তিনি এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাছরিন খান দুদকে হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম বরাবর পাঠানো চিঠিতে তারা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ডাক্তারের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করেছেন। এক আইনজীবীর মাধ্যমে ওই আবেদন দুদকে পৌঁছে দেয়া হয় বলে উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম নিশ্চিত করেছেন।
রুহুল আমীন হাওলাদার: সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে গতকাল জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা ছিল। এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদার সই করা চিঠিতে তিনি বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি কার্যক্রম হিসেবে আমাকে কর্মী সংগ্রহ, প্রার্থী বাছাইসহ বিভিন্ন দলীয় কাজে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাতে হচ্ছে। এ ছাড়া বর্তমান সংসদের অধিবেশন চলছে বিধায় প্রতিদিন আমাকে অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি হƒদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, প্রোস্টেট এনলার্জসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে সিঙ্গাপুর এনইউএইচসহ তিনটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসাধীন। তা ছাড়া অতি সম্প্রতি আমাকে অপারেশনের জন্য সিঙ্গাপুরে যেতে হবে। চিকিৎসকরা আমাকে ঝুঁকিপূর্ণ ও উত্তেজক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এই অবস্থায় আমার স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমাকে উপস্থিতি ও অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’
এ বিষয়ে কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। আমাদের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সময় চেয়ে আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। আর অনুসন্ধান শেষ হলেই অভিযোগের বিষয়টি বলা সম্ভব।’
গত ১৩ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমেদ সই করা নোটিশে রুহুল আমিনকে ১৮ সেপ্টেম্বর হাজির হতে বলা হয়েছিল। রুহুল আমীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি আমলা ও আদালতে উৎকোচ প্রদান এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের মাধ্যমে শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকে আসা জাতীয় পার্টির মহাসচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তিনি ঢাকা শহরের কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ির মালিক। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজউকের একাধিক প্লটের মালিক হন। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংকে অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি জমা আছে। এ ছাড়া তিনি অবৈধ টাকার জোরে বিভিন্ন বিচারিক আদালতে কোটি কোটি টাকা খরচ করে তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন বহু মামলার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
এম মোরশেদ খান ও তার স্ত্রী: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা এম মোরশেদ খান এবং তার স্ত্রী নাছরিন খান দুদকে হাজির না হয়ে সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলম বরাবর পাঠানো চিঠিতে তারা অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ডাক্তারের সার্টিফিকেট সংযুক্ত করেছেন।