দীঘিপাড়া কয়লা খনিতে নতুন করে সমীক্ষা করা হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীঘিপাড়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনে সম্ভাব্যতা জরিপ যাচাইয়ে নতুন করে উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এ উপলক্ষে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সঙ্গে জার্মানির একটি কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।
গতকাল সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত চুক্তি সই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ, অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত মিজ জুলিয়া নিবলেট ও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজুল্লাহ বক্তব্য রাখেন।
নসরুল হামিদ বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘কয়লা’ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে কয়লা উন্নত বাংলাদেশ গড়তে অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।
সমীক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড এবং জার্মানির কোম্পানি এমআইবিআরএজি কনসালটিং ইন্টারন্যাশনাল, জিএমবিএইচ-এএনএফ-স্ট্রেস এবং অস্ট্রেলিয়ার রাঞ্জ পিনকুক মিরানকো লিমিটেডের সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোটিয়ামের মধ্যে এই চুক্তি সই হয়। এতে বড়পুকুরিয়ার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন কোম্পানিটির সচিব মো. আবুল কাশেম প্রাধানীয়া এবং কনসোর্টিয়ামের পক্ষে আমীর খন্দকার, রফ বল্টস ও সিমন আসকে ডুরান।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ সমীক্ষার আয়তন ২৪ বর্গ কিলোমিটার। অনুসন্ধান কূপ খনন, ত্রিমাত্রিক জরিপ, খনির নকশা এবং প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই পূনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা নির্ণয় এবং একটি পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন, ভূতাত্বিক এবং ভূ-জলীয় অবস্থা নিরূপণ, কয়লা উত্তোলন, প্রকৃত মজুদ, বার্ষিক উৎপাদন হার, কয়লা খনির মেয়াদকাল নির্ণয় বিস্তারিত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন এবং প্রকল্প বাণ্যিজিকভাবে লাভজনক কিনা তা নির্ণয় করতেই এই সমীক্ষা করা হবে। চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুন হতে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ২৭ মাসে কাজ শেষ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এখানে ৮৬৫ মিলিয়ন মেট্রিকটন কয়লার মজুদ রয়েছে যা বাণ্যিজিকভাবে উত্তোলন করা সম্ভব হলে এলাকার মানুষের আর্থসামজিকও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে দেশীয় কয়লা ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন আমরা করতে সচেষ্ট থাকব। জ্বালানি নিরাপত্তা যত দ্রুত নিশ্চিত করা যাবে, দেশের উন্নয়ন তত দ্রুত করা সম্ভব হবে। সম্মিলিত উদ্যোগে সমন্বিতভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করার জন্য তিনি এ সময়
আহ্বান জানান।