দিল্লির দণ্ড বাংলাদেশে ভোগ করবেন বাদল ফরাজী

ভারতের দিল্লির একটি আদালতের দেয়া কারাদণ্ডাদেশ এখন থেকে বাংলাদেশে ভোগ করবেন বাংলাদেশের নাগরিক বাদল ফরাজী। এজন্য তাকে দিল্লির তিহার জেল থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নাম বিভ্রাটের কারণে একটি খুনের মামলায় আসামি হয়ে গত ১০ বছর ধরে দেশে কারাভোগ করছেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে জেট এয়ার ওয়েজের একটি বিমানে ঢাকায় ফেরত আনা হয় তাকে। বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত দুই পুলিশ সুপার নাজেম আহমেদ ও মমিনুল করিম দিল্লির তিহার জেল থেকে বাদল ফরাজীকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশ্যাল অ্যাফেয়ার্স) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতে একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বাদল ফরাজীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে তাকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি সাজাটুকু তিনি বাংলাদেশের কারাগারে ভোগ করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১০ বছর ধরে বাদল ফরাজী দিল্লির তিহার জেলে বন্দী ছিলেন। ২০০৮ সালে টুরিস্ট ভিসায় বেনাপোল বর্ডার পার হওয়ার পরপরই দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধার হত্যা মামলায় বাদল ফরাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০০৮ সালের ৬ মে সেই বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির পুলিশ বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল। ওই বছরের ১৩ জুলাই বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বাদল ফরাজী ভারতে প্রবেশ করলে বাদল সিং মনে করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষা না জানার কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাকে কারাবন্দী হয়ে থাকতে হয়। পরবর্তীতে ভারতীয় একটি এনজিও বাদল ফরাজীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চেষ্টায় ২০০৪ সালের বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় তাকে দেশে ফেরত আনা হলো।

বাদল ফরাজীকে দেশে ফিরিয়ে আনার সময় তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকলেও তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারেননি। বাদল ফরাজীকে ফিরিয়ে আনা দুই পুলিশ কর্মকর্তা বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে তাকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে যান। সেখান থেকে সোজা তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

বাদল ফরাজীর বোন আকলিমা বেগম জানান, আমার ভাই নির্দোষ। তাকে যেন মুক্তি দেয়া হয়। আমার ভাই যখন ভারতে যায়, তখন সে ছিল কিশোর। ১০ বছর সে জেলে ছিল। সে কোনো দোষ না করেও দোষী হিসেবে সাজা খাটছে। তার জীবন থেকে ১০টা বছর হারিয়ে গেছে। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, যেভাবেই হোক তাকে যেন দ্রুত মুক্তি দেয়া হয়।

কারাগার সূত্র জানায়, বাদল ফরাজীকে ভারতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাংলাদেশে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়সীমা সাধারণত ৩০ বছর ধরা হয়। যদি সরকারের নির্বাহী কোনো সিদ্ধান্তে তাকে মুক্ত না দেয়া হয়, তাহলে আরও অনেক বছর তাকে সাজা ভোগ করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ওই সূত্রটি জানায়, যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নির্দোষ বিবেচনা নিয়ে বাদল ফরাজীকে জোর তৎপরতায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, সেজন্য তাকে যেন দ্রুত কারামুক্ত করা যায়, সে ব্যবস্থা হয়তো করা হতে পারে।

বাগেরহাট জেলার বাসিন্দা বাদল ফরাজীর বাবার নাম খালেক ফরাজী। তার মায়ের নাম সারাফালি বেগম। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে বাদল হলো দ্বিতীয়। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়ার পর ভারতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও কারাবন্দী থাকা অবস্থাতেই মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং শেষে ইন্দিরাগান্ধী জাতীয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা বাদল এখন ইংরেজি ও হিন্দি ভাষাতেও দক্ষতা অর্জন করেছেন। কারাগারে থাকা অবস্থাতেই বাদলের বাবা খালেক ফরাজী মারা যান।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ