‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম ১৭ মার্চ ১৯২০। তাকে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রত্যুষে। মোটামুটি ৫৪ বছরের জীবন। এর মধ্যে রাজনীতির জীবন ৩৫/৩৭ বছরের। যদি ১৯৩৮ সালে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের সময় থেকে রাজনীতির যাত্রা ধরা হয় তাহলে সর্বোচ্চ ৩৭ বছর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। এর মধ্যে কারাগারে কেটেছে মোটামুটি ১২/১৩ বছর। ফজিলাতুন্নেছা রেণুর সঙ্গে তার বিয়ে হয় ১৯৩৮ সালে, সে হিসাবে বিবাহিত জীবনও ৩৭ বছরের। তিন পুত্র- শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল এবং দুই কন্যা- শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা । তার সঙ্গে স্ত্রী ও তিন পুত্রই ১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে নিহত হয়েছেন। বিদেশে অবস্থান করায় দুই কন্যার প্রাণ রক্ষা পেয়েছে, এখনো বেঁচে আছেন।

শেখ মুজিবের আগে, তার সময়ে, তার পরে অনেক রাজনীতিবিদ তারচেয়ে হয়তো অনেক দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন, পাবেন, কিন্তু তার মতো ইতিহাস সৃষ্টি করা কারো পক্ষে সম্ভব হয়নি, হবে না। কারণ তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে তার একক অবদান আর কারো সঙ্গেই তুলনীয় নয়। ১৯৪৮ সালে, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছর যেতে না যেতেই ভাষা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যে লড়াইয়ের শুরু একাত্তরের ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে তার সফল সমাপ্তি। তিনি ধাপে ধাপে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে প্রস্তুত করেছেন। ঐক্যবদ্ধ করেছেন। ফাঁসির দড়ি সামনে ঝুলতে দেখেও তিনি সাহস হারাননি, পিছু হঠেননি। তার আদর্শনিষ্ঠার কোনো তুলনা হয় না। তিনি বাংলা ও বাঙালিকে ভালোবেসেছেন, বাঙালিও তার ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছে সত্তরের নির্বাচনে তার দল ও তাকে উজাড় করে ভোট দিয়ে। সত্তরের নির্বাচনে অমন বিপুল বিজয় না পেলে তিনি যা চেয়েছিলেন তা করতে পারা আরো কঠিন হতো। তিনি জীবন নিবেদন করেছিলেন মানুষের জন্য, মানুষও তাকে নেতার আসনে বসিয়ে দৃঢ় করেছিল কৃতজ্ঞতার বন্ধন।

রাজনীতি আজ আমাদের চরমভাবে বিভাজিত করেছে অথচ এই রাজনীতির মাধ্যমেই শেখ মুজিব বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। নানা মতে, নানা দলে বিভক্ত, ‘পরশ্রীকাতর’ বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্র-দীক্ষিত করে যে জনজাগরণ শেখ মুজিব তৈরি করেছিলেন তা অতীতে যেমন কারো পক্ষে করা সম্ভব হয় নি, ভবিষ্যতে হবে বলেও মনে হয় না। আমরা এখন কেবলই অনৈক্যের জায়গা খুঁজি, কিন্তু শেখ মুজিব খুঁজেছিলেন ঐক্যসূত্র। তিনি সফল হয়েছিলেন বলেই তিনি হতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু, জাতির পিতা। আজকাল কেউ কেউ বলে থাকেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনতে হলে একাত্তরের মতো একটি গণজাগরণ ঘটাতে হবে। সেটা আর সম্ভব? দুটো কারণে আর একাত্তরের পুনরাবৃত্তি সম্ভব নয় বলে আমার কাছে মনে হয়। এক. শেখ মুজিবের মতো নেতার অনুপস্থিতি। দুই. স্বাধীনতা পেয়ে যাওয়ার পর ঐক্যের ইস্যু বদল হয়েছে। কোনো ইস্যুতে জাতি হয়তো ঐক্যবদ্ধ হবে, কিন্তু সেটা কোনোভাবেই একাত্তরের মতো বিপুল বিশাল দু’কূল প্লাবী হবে না।

শেখ মুজিবের রাজনীতি ছিল স্পষ্ট লক্ষ্যাভিমুখী। প্রথমে ভাষার মর্যাদা, তারপর অধিকার, সমতা, বৈষম্যবিরোধিতা, দুঃখী মানুষের পক্ষালম্বন, গণতন্ত্র, স্বায়ত্তশাসন। নদী যেমন সমুদ্রগামী, শেখ মুজিবের রাজনীতি ছিল তেমন স্বাধীনতাগামী। এনিয়ে যারা তর্ক করেন তারা আসলে তার রাজনৈতিক জীবনধারা জানেন না। শেখ মুজিবের রাজনীতি মানে শুধু ৭ মার্চের ভাষণ নয়। ৭ মার্চে একলাফে যাওয়া যায়নি। কাজেই তার প্রস্তুতিপর্বটা না জেনে তাকে জানা সম্পূর্ণ হয় কীভাবে? তাকে একটু ভালো করে চেনা-জানার জন্য স্মরণ করা যেতে পারে পাকিস্তান গণপরিষদে দেয়া তার কিছু বক্তব্য। তার রাজনীতির লক্ষ্য এসব বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। গভর্নর এবং গভর্নর জেনারেলের নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বিরোধিতা করে শেখ মুজিব পাকিস্তান গণপরিষদে বলেন : ‘ —আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে আমাদের দেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। আমরা অবশ্যই গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি। আমি জানি না কখন তা আসবে, কিন্তু আমরা এর জন্য লড়াই করে চলেছি। আমরা হচ্ছি জনগণের প্রতিনিধি, আর এ দেশের গভর্নর জেনারেল ইংল্যান্ডের মহামান্য রানী কর্তৃক নিযুক্ত। এই যখন অবস্থা তখন জনগণের সরাসরি প্রতিনিধিত্বকারী মন্ত্রিবর্গের উচিত গভর্নর জেনারেলকে পরামর্শ দান করা এবং তারও উচিত মন্ত্রীদের পরামর্শ অনুসারে কাজ করা। — বিপরীত আসনে উপবিষ্ট মাননীয় সদস্যগণ ভারতের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতে পারেন। সেখানে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ হলেন প্রেসিডেন্ট এবং আপনারা কি মনে করেন যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া কিংবা মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন ছাড়া যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন? না, তা সম্ভব নয়। এমন কি ইংল্যান্ডের রানীর পক্ষে তা করা সম্ভব নয়, কারণ তাকে মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। অবশ্য আপনি যদি মনে করেন যে এটি একনায়ক শাসন ব্যবস্থাধীন দেশ, গভর্নর জেনারেল সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং তিনি গণপরিষদ ভেঙ্গে দিতে পারেন তাহলে আমার বেশি কিছু বলার নেই। কিন্তু তাহলে সেটি হবে গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ (২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫)
গণতন্ত্রের প্রশ্নে তার মনোভাব এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। আবার গরিব মানুষের প্রতি তার অবস্থান পরিষ্কার হয় পরের বক্তব্যে। গণপরিষদে তিনি বলছেন : ‘— দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ব্যাখ্যা করার জন্য আমি একটা উদাহরণ দিচ্ছি। কিছুদিন আগে পাঞ্জাবে শ্রমিকদের জন্য ৫৭টি পদ শূন্য ছিল, আর ঐ ৫৭টি পদের জন্য ৫ হাজার জন্য প্রার্থী আসে। কিন্তু আমরা তাদের সবাইকে চাকরি দিতে পারিনি, আমরা তাদের অন্ন-বস্ত্র দিতে পারিনি, অথচ আমরা আমাদের বড় বড় নেতাকে মোটা অঙ্কের বেতন দিচ্ছি। তাদের অনেকেই বড় লোক এবং দেশের স্বার্থে তারা ঐ অর্থ উৎসর্গ করতে পারেন।— ব্যাঙ্কে তাদের অনেক টাকা-পয়সা আছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা গরিব মানুষের দেয়া টাকা গ্রহণ করবেন। এটা কাদের পাকিস্তান?’ ( ২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৫)
পাকিস্তান রাষ্ট্রটি যে ষড়যন্ত্রকারী ও স্বার্থান্ধের কব্জায় চলে যায় স্বাধীনতা পেতে না পেতেই, সেটাও তিনি বলেছেন গণপরিষদে দেয়া তার ভাষণে। যেমন তিনি বলছেন : ‘— যারা স্বীয় উদ্দেশ্য সাধনে কারচুপি করে, চক্রান্ত করে, দলীয় স্বার্থে বা অসৎ উপায়ে ক্ষমতা দখল করে গভর্নর জেনারেল হয় তাদের গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ থাকবে না। তারা পাকিস্তানের জন্য কোনো ত্যাগ স্বীকার করেনি। আবার এমনও হতে পারে যে বিশেষ কোনো ব্যক্তি যিনি পাক-ভারত স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমিয়ে রাখার অপপ্রয়াস চালিয়েছিলেন তিনিই হয়তো ঘটনাচক্রে গভর্নর জেনারেল হলেন। তাহলেতো আমরা তার নিকট সুবিচার আশা করতে পারি না। সুতরাং জনগণের নিকট দায়-দায়িত্ব নাই এমন কোনো ব্যক্তিকে আমরা এসব ক্ষমতা অর্পণ করতে চাই না। সাপের দাঁত থেকে আমরা মধু লাভের আশা করতে পারি না। সেখান থেকে আমরা কেবল বিষই পেতে পারি।’ (১ অক্টোবর, ১৯৫৫)
‘স্বার্থসিদ্ধির জন্য যে কোনো পন্থা অবলম্বন এবং দেশ ও জনগণের নামে এই হাউসে যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে আপনার স্বাধীনতা রয়েছে। কিছুদিন পূর্বে আমাদের নেতা জনাব সোহরাওয়ার্দী দশ থেকে পনের দিনের জন্য সংসদ মুলতবি ঘোষণা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যাতে করে নেতারা পূর্ববাংলায় ফিরে গিয়ে দেশের ঐ অংশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি স্বচক্ষে দেখতে পারেন এবং বন্যাপীড়িত জনগণের দুঃখ-দুর্দশা মোচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন শুধু এই অভিযোগ এনে যে বিরোধী দল নাকি ঐ অজুহাতে শাসনতন্ত্র বিল পাশ করানোর বিষয়টি বিলম্বিত করতে চান। তাহলে আমি কি এই প্রশ্ন করতে পারি যে শুধু শুধু স্বল্পকালীন বৈঠকের জন্য লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে কেবল দুদিনের জন্য আমাদের আজ এখানে ডাকা হলো কেন?’ ( ৯ নভেম্বর, ১৯৫৫)
আবার বাংলা ভাষা নিয়ে পাকিস্তানি শাসকদের ষড়যন্ত্রমূলক মনোভাবের বিষয়টিও উঠে এসেছে তার বক্তব্যে। ‘দিনের আলোচ্য কর্মসূচি যদি দুটো ভাষায় তথা ইংরেজি ও উর্দুতে বিতরণ করা হয় তাহলে বাংলাতে নয় কেন? দিনের আলোচ্য কর্মসূচি এ যাবত ইংরেজিতে বিতরণ করা হতো। কিন্তু এখন যেহেতু তা ইংরেজি ও উর্দুতে করা হচ্ছে তাহলে বাংলাকে বাদ দেয়ার পেছনে কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে? আমরা জানতে চাই এটি কে করেছেন? এটা কি আপনার আদেশে করা হয়েছে, নাকি কোনো কর্মকর্তা তা করেছেন? আমি বলতে চাই না যে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। আপনি ডেপুটি স্পিকার এবং আপনার ব্যাখ্যাই চূড়ান্ত। কিন্তু আমি বলতে চাই যে আমাদের ব্যাখ্যা হলো এটা অফিসিয়াল রেকর্ডের অংশবিশেষ। এবং যেহেতু দিনের আলোচ্য কর্মসূচি ইংরেজি ও উর্দুতে প্রকাশ করা হয়েছে সেহেতু তা বাংলাতেও করা উচিত ছিল।’ ( ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৬)
‘— তারা যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হন এবং তারা যদি আন্তরিক হন তাহলে তারা এটা গ্রহণ করতে পারেন। তারা গ্রহণ না করে পারেন না। জনগণের এই দাবিকে তারা গ্রহণ করতে বাধ্য এবং এখন তারা তাদের পিঠ বাঁচানোর জন্য বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যাচ্ছেন। তারা এটা করতে বাধ্য, কারণ এর পেছনে রয়েছে জনগণের শক্তি। যদি তারা তা না করেন তাহলে আল্লাহই জানেন তাদের পরিণতি কী হবে এবং এমন একটা সময় আসছে যখন তাদেরকে জনগণের প্রতিটি দাবি-দাওয়া মেনে নিতে হবে। এটি জনগণের দাবি, সকলের দাবি, আবালবৃদ্ধবনিতার দাবি এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিটি মানষ এই সংশোধনী চায় যে আজ থেকে এবং ভবিষ্যতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা এবং উর্দু হবে। ’ (৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬)
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টিও ছিল তার অগ্রাধিকারের মধ্যেই। তার বক্তব্য: ‘— প্রশাসন থেকে বিচার বিচার বিভাগকে পৃথককরণ সংক্রান্ত সংশোধনীটি সমর্থন করে আমি নিবেদন করতে চাই যে আপনি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছেন যে জনগণ ন্যায়বিচার পাচ্ছে না, কারণ প্রশাসন বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আমরা লক্ষ্য করছি যে এমনকি ছোটখাট বা সাধারণ মামলা-মোকদ্দমার ক্ষেত্রেও বিচার বিভাগ প্রশাসনের দ্বারা কখনও কখনও এমনভাবে প্রভাবান্বিত হচ্ছে যে বিচার বিভাগ প্রশাসনের অনুকূলে রায় প্রদান করছে।’ (৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬)
বঙ্গবন্ধুর এসব বক্তব্য বহুল প্রচারিত না হওয়ায় কম লোকই এ সম্পর্কে জানেন। পাকিস্তানে গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার সুযোগ সীমিত থাকলেও গণপরিষদে দেয়া ভাষণ পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধু কত বড় মাপের পার্লামেন্টারিয়ান ছিলেন। শুধু আবেগ নয়, তার বক্তৃতা ছিল অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। তার রাজনৈতিক বিরোধীদের বুকে তার বক্তব্য শেল হয়ে বিঁধত। শেখ মুজিব বিপ্লবী রাজনীতি করতেন না। তিনি নিয়মতান্ত্রিক-গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারাকেই ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে গেছেন। অস্ত্রের শক্তি নয়, সংগঠিত জনগণের ঐক্যের শক্তির ওপর নির্ভর করেই তিনি তিনি রাজনীতি করেছেন। একাত্তরে যখন সবার কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে ইয়াহিয়া চক্র অস্ত্রের ভাষায় কথা বলতে চাইছে, তখনও বঙ্গবন্ধু অসহযোগ আন্দোলনেরই ডাক দিয়েছেন। পাকিস্তানিরা মার্চ মাসের শুরুতেই বিভিন্ন স্থানে বাঙালি নিধন আরম্ভ করায় ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বলেন, আমরা যখন মরতে শিখেছি, তখন কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবা না। হ্যাঁ, বাঙালিদের দাবিয়ে রাখা যায়নি।

নিরস্ত্র বাঙালি জাতি সশস্ত্র পাকিস্তানিদের মোকাবিলা করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছে। তাদের দাবিয়ে রাখা যায়নি। আবার পঁচাত্তরের আগস্টের পনেরো তারিখ তাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র হলেও সেটাও যে কার্যত সফল হয়নি, তার বড় প্রমাণ আজকের বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপিতাকে আমরা হারিয়েছি। কিন্তু জাতির গৌরব বিসর্জন না দিয়ে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাওয়ার যে দীক্ষা তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন সেটা সম্বল করে আমরা এখন কোটি কণ্ঠে বলতে পারি, কেউ আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না।
লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.