দরিদ্রদের গৃহ নির্মাণে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যে ইউপি চেয়ারম্যান!

বরিশালের বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে আশ্রায়ণ-২ প্রকল্পের অধীন ‘যার জমি আছে, ঘর নাই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ’ বাবদ লাখ লাখ টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে ৩নং দাড়িয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ আব্দুল জব্বার বাবুলের বিরুদ্ধে। প্রতিটি ঘর বাবদ ৩০ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন চেয়ারম্যান বাবুল। অভিযোগ রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প থেকে ১৩১ জনের যে তালিকা পাঠানো হয়েছে, চেয়ারম্যান বাবুল সেখান থেকে ৬১ জনের নাম বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন তালিকাভুক্তদের ঘর উত্তোলন করে দিচ্ছেন।

এমনকি যারা সবদিক থেকে স্বাবলম্বী, জমি ও ঘর রয়েছে তাদেরও টাকার বিনিময়ে ঘর দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ১২ মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার নিয়ম থাকলেও চেয়ারম্যান তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাছেদ আহমেদ বাচ্চু ও ব্যক্তিগত সহকারী যুবদল নেতা শামীম আকনকে সঙ্গে নিয়ে যেনতেনভাবে গৃহ নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন।

অভিযোগকারী দাড়িয়াল ২নং ওয়ার্ডের মেম্বার শহিদুল প্যাদা, ৩নং ওয়ার্ডের জসীম হাওলাদার, ৪নং ওয়ার্ডের শহিদ তাজ, ৫নং ওয়ার্ডের রফিকুল ইসলাম, ৬নং ওয়ার্ডের সিরাজ হোসেন সবুজ, ৭নং ওয়ার্ডের আজিজ হাওলাদার, ৯নং ওয়ার্ডের হাবিবুর রহমান এবং সংরক্ষিত মেম্বার নাজমা বেগম ও কারুন্নাহার ডলি জানান, আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের অধীন ‘যার জমি আছে, ঘর নাই তার জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের অধীন গত বছর জানুয়ারি মাসে চেয়ারম্যান ও ১২ মেম্বারের উপস্থিতিতে জমি আছে ঘর নেই এ ধরনের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার পর মেম্বাররা সরেজমিন ঘুরে জমি আছে ঘর নেই এ ধরনের গরিব ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকায় ১৩১ জন হতদরিদ্র যাদের জমি আছে কিন্তু ঘর নেই তাদের তালিকা তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

সম্প্রতি ওই তালিকার ব্যক্তিদের ঘর উত্তোলনের জন্য জনপ্রতি এক লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১ কোটি ৩১ লাখ টাকা ইউএনও বরাবর পাঠানো হয়। ইউএনওর মাধ্যমে ওই টাকা যায় চেয়ারম্যানের কাছে। চেয়ারম্যান মেম্বারদের সঙ্গে নিয়ে তালিকানুযায়ী দরিদ্রদের গৃহ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু বরাদ্দ আসার পর থেকে চেয়ারম্যান মেম্বারদের এড়িয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে তালিকার বাইরে স্বাবলম্বী ব্যক্তিদের ঘর উত্তোলন করে দিচ্ছেন।

এ জন্য তালিকার বাইরে ৬১ জনকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন চেয়ারম্যান বাবুল। টাকা উত্তোলন করেছেন বাবুলের ভাই বাচ্চু ও ব্যক্তিগত সহকারী শামীম। টাকা উত্তোলন করে তা চেয়ারম্যানের কাছে দেয়া হয়। এরপর তাদের গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। আবার তালিকার মধ্যে যারা রয়েছেন তাদের কাছে গৃহ নির্মাণের এক লাখ টাকার জন্য উৎকোচ দাবি করা হয়। চেয়ারম্যানের দাবি মাফিক যারা টাকা দিতে পারেননি তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও তারা গৃহ পাননি।

মেম্বাররাও আরো অভিযোগ করেন, লাখ টাকার ঘরের জন্য ৩০ হাজার টাকা উৎকোচ দিয়ে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের গৃহ পেয়েছেন এক, একজন। মেম্বাররা বলেন, লাভ হয়েছে চেয়ারম্যান ও তার সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্টদের। এ বাণিজ্যের সঙ্গে বাকেরগঞ্জের ইউএনওর যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি করেন মেম্বাররা। তাদের দাবি চেয়ারম্যান প্রতিটি গৃহ বাবদ উৎকোচ এবং গৃহ নির্মাণে ফাঁকি দিয়ে ৭০ হাজার টাকা করে লাভবান হয়েছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ লাভের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জের ইউএনও কাজী সালেহ মুস্তানজীর অভিযোগ শুনে বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। ইউএনও বলেন, মেম্বারদের সঙ্গে চেয়ারম্যানের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ কারণে তারা এ অভিযোগ করেছেন। এ সময় তার সামনে বসা চেয়ারম্যান এমএ আব্দুল জব্বার বাবুলকে মোবাইলটি ধরিয়ে দেন। চেয়ারম্যান বাবুলকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানাতে চাইলে তিনি বলেন, সরেজমিন আসেন। আসার আগে আমাকে খবর দেবেন। আমি লোক দিয়ে আপনাকে ঘুরিয়ে দেখাব কাদের গৃহ দেয়া হয়েছে। এখনো গৃহ নির্মাণের কাজ চলছে।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ