থেমে নেই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

রোহিঙ্গাবাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা এখনো থমথমে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ এখনো অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারে আটকা পড়েছে তারা। বাড়িঘর ছেড়ে সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান নিয়েছে।

জানা গেছে, মিয়ানমারের বুচিডংয়ের ১২টি গ্রামে সেনা ও তাদের দোসর উগ্রপন্থি সশস্ত্র মগ জনগোষ্ঠীরা বার্মিজ ভাষায় বাঙালি লেখা সাদা কার্ড (ন্যাশন্যাল ভেরিফিকেশন কার্ড) ধরিয়ে দেয়ার জন্য রোহিঙ্গাদের চাপ প্রয়োগ করছে। এমনকি কার্ড নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের সেনা ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্যাতন করছে। যে কারণে সেখানে বসবাসরত অবশিষ্ট রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে সাগর পথ পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারাচ্ছে। তার পরেও রোহিঙ্গা আসা থামেনি। গতকাল সোমবারও উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া ও টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে হাজারখানেক রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকার পেছনে কিছু দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা ও এনজিওর ইন্ধন রয়েছে বলে অভিয়োগ জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সচেতন মহলের।

সোমবাবার উখিয়ার আঞ্জুমানপাড়া সীমান্তে নাফ নদী পেরিয়ে হাজারখানেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। একইভাবে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। নতুনভাবে অনুপ্রবেশকারীদের ত্রাণ সহায়তা দিয়ে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-৩৪ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. ইকবাল বলেন, সোমবার প্রায় হাজারখানেক রোহিঙ্গা রাতের অন্ধকারে নাফ নদীর ছোট শাখা দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে এসব রোহিঙ্গা সীমান্তের মিয়ানমার অংশে মেধাইর কুম নো ম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান নিয়েছিল বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশায়। অবশেষে রাতের অন্ধকারে বিজিবিকে ফাঁকি দিয়ে এরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েন।

পালংখালী ইউপি সদস্য সুলতান আহমদ ও ইউপি চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরীসহ স্থানীয় সচেতন লোকজনের অভিযোগ বেশ কয়েকটি বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা ও দুটি এনজিওর সহায়তায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধ হচ্ছে না। গত এক সপ্তাহ ধরে পালংখালী আঞ্জুমান পাড়া সীমান্তে এসব সংস্থাগুলো ঘর ভাড়া নিয়ে রোহিঙ্গাদের জন্য নানা ধরনের ত্রাণসামগ্রী মজুদ করতে থাকে এবং বিদেশিদের সীমান্তের জিরো লাইনের যাতায়াত লক্ষণীয় ছিল। ইতোমধ্যে উক্ত সীমান্তের জিরো পয়েন্ট থেকে গোপনে মিয়ানমার যাওয়ার চেষ্টা কালে গত সপ্তাহে তিনজন ফরাসি নাগরিককে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিকারুজ্জামান অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মিয়ানমারে রাখাইনের পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতনের মাত্রাও কমে এসেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তার পরও বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কর্মরত কিছু এনজিও/আইএনজিও রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে চলে আসতে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদানের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কয়েশ শ’ রোহিঙ্গা আঞ্জুমানপাড়া সীমান্ত দিয়ে গতকাল বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিজিবির মাধ্যমে আশ্রয় নেয়াদের জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এসব রোহিঙ্গাকে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিবি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রায় হাজারখানেক রোহিঙ্গা ভেলায় চড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। রোহিঙ্গাদের আরো কয়েকজন সমুদ্র পথে ফিশিং বোটে করে উখিয়ার ইনানী উপকূলে প্রবেশ করে।

মানবকণ্ঠ/আরএ