থানা ওয়ার্ড ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগিরই

থানা ওয়ার্ড ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি শিগগিরই

শিগগিরই ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়েনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। দৈনিক মানবকণ্ঠকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কমিটি দিলে যাতে কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না হয়। এ কারণেই আমরা সমঝোতার ভিক্তিতে সবার সঙ্গে আলোচনা করে কেন্দ্রে কমিটিগুলো জমা দিয়েছি। সেগুলো অনুমোদন সাপেক্ষে কেন্দ্র থেকে আমাদের যে নির্দেশনা দিয়েছে সে অনুয়ায়ী স্ব স্ব এলাকার কমিটি দেয়া হবে। খুব শিগগিরই আমরা থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ডেকে এই কমিটি দিয়ে দেব।

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়। ২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়। এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পায় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। সেসময় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা হলেও নগরের থানা, ওয়ার্ড এবং ইউনিয়নগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি আজও।

ঢাকা মাহনগর আওয়ামী লীগের থানা ওয়ার্ড ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে কেন এত বিলম্ব হচ্ছে? কোন সমস্যার কারণে এই কমিটিগুলো দেয়া সম্ভব হচ্ছে না? এমন প্রশ্নের জবাবে শাহে আলম মুরাদ বলেন, কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ও বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে আমরা একটা রূপরেখা হাতে নিয়েছি। কমিটিগুলো আমাদের কাছে জমা হওয়ার পরে থানা ওয়ার্ড, ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। অনেক জায়গায় অনেকে নিজেদের মনমতো দিয়েছে, থানার বা ইউনিয়নের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে জানায়নি। এখানে সমন্বয়ে কিছুটা দূরত্ব ছিল। আমরা সেগুলোর দূরত্ব কমাতে আলোচনা সাপেক্ষে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দল গোছানোর জন্য কেন্দ্র থেকে আমাদের নির্দেশনা দিয়েছে। একদিকে দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা। পরীক্ষিত ত্যাগী, কর্মীবান্ধব, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের দলে স্থান দেয়া। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করে নির্বাচনের জন্য দলকে প্রস্তুত করা। নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনা করে তা ঠিক করে নেয়া। এই নির্দেশনাগুলো দলের সাধারণ সম্পাদক (ওবায়দুল কাদের) আমাদের (উত্তর-দক্ষিণকে) দিয়েছেন। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি দলীয় কর্মসূচি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে এমন সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করছি।

নির্বাচনী কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি ও সদস্য নবায়ন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো চলমান প্রক্রিয়া। এগুলো স্থানীয় এমপি ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনা করে করা হচ্ছে। কেন্দ্রভিত্তিক কমিটিতে আমাদের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা লীগ, যুব মহিলা লীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ব্যবসায়ী নেতারাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রতিনিধিদের নিয়ে করছি। তবে আমরা এতে বেশি করে নারী সদস্যদের সম্পৃক্ত করতে চাই। কারণ নারী ভোটার অর্ধেক। এটার উদ্দেশে ভোটাররা যাতে ভোট কেন্দ্রে আসে এবং সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে শাহে আলম মুরাদ বলেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) যদি চান তাহলে করব। তিনি আমাকে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমাকে কাজ করার জন্য বলেছেন। বিগত নির্বাচনের সময় তিনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই কাজ করেছি। সিটি নির্বাচনের সময় তার নির্দেশনা মেনে কাজ করেছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই কাজ করব।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.