তিন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রতিশ্রুতি

তিন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু করার প্রতিশ্রুতিআগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্ঠা চালাবে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী। জাতীয় নির্বাচনের আগে তিন সিটির এই ভোটকে ঘিরে কোনো ধরনের অস্থিতীশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কোনো আশঙ্কা অবশ্য এই মুহুর্তে দেখছেন না বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানরা। তারা নির্বাচনী পরিবেশ বিনষ্ট করার কোনো সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলেও ইসিকে আশ্বস্ত করেন।

রাজধানীর আগরগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বৃহস্পতিবার রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বৈঠকে এই আশ্বাস দেয়া হয়। এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা নির্বাচন যাতে কোনোক্রমেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেবিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। সিইসির সভাপতিত্বে বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাৎ হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম, ইসি সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, ডিজিএফআই এর প্রধানরা যোগ দেন।

আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকের শুরুতেই সিইসি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, এখন থেকে দুই মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়ার দিকে যাব। সুতরাং সেই প্রস্তুতির পূর্বকালে এই তিন সিটি নির্বাচন আমাদের নির্বাচন কমিশন, মাঠপর্যায়ে যারা এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন এবং এই নির্বাচনে সহায়তাকারী সব কর্মকর্তাসহ সবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠক শেষে এসব বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেই নির্দেশনাই আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথাও ইসি শুনেছে। সবার আশা, সুষ্ঠুভাবে এই তিন সিটির নির্বাচন করা সম্ভব হবে। বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার দরকার হবে না। সিইসি জানান, আইন শৃঙ্খল বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন আগামী ৩০ জুলাইয়ের ভোট নিয়ে কোনো কোনো রকমের ঝুঁকি বা আশঙ্কা নেই।

সিইসি বলেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। বর্তমান কমিশন সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে প্রস্তুত রয়েছে। কারণ তার নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনে সব ধরণের নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য প্রচারণায় সমান সুযোগ রয়েছে। তবে, আসন্ন তিন সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে বৈঠকে উপস্থিত সব পক্ষই প্রস্তুত রয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কারাগারে, দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ছাড়া তারা জাতীয় নির্বাচনে যাবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, এটা (খালেদা জিয়ার মুক্তি) আদালতের বিষয়। তিনি যে কারাগারে, এ বিষয়ে আমাদের নির্বাচন কমিশনের কিছু করার নেই। সিইসি বলেন, তবে আমি আশা করি বিএনপি নির্বাচনে আসবে।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ প্রচারে থাকলেও বিএনপি প্রচারে নেই। আবার তারা সভা সমাবেশের অনুমতি চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে একাধিকবার। এই অবস্থায় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ আছে কি না-এমন প্রশ্নে নুরুল হুদা বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ আছে, এটা থাকবে। পরিবেশ ভাল রয়েছে-থাকবে।

গত ২৬ জুন গাজীপুর ও ১৫ মে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিএনপির পক্ষপাতের অভিযোগের বিষয়েও কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, অভিযোগ আসবে, তবে এটার সত্যতা কতটুকু সেটা যাচাই করতে হবে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনে কী হয়েছে, তার তদন্ত করে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার কী জানিয়েছেন- এমন প্রশ্নে জবাব সিইসি বলেন, সেই রিপোর্ট এখনও পায়নি কমিশন। পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

আগামী ৩০ জুলাই তিন সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এখন চলছে প্রার্থীদের ভোট প্রার্থনা ও প্রচারণা। তবে, প্রচারণার শুরুতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ শুরু হয়েছে।