তিন অসহায়ের চিকিৎসায় সাহায্যের আবেদন

পাঁচ বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৪ বছরের কিশোর জেসান। তার চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পরিবারের সঙ্গে প্রতিমাসে কমপক্ষে তিনবার চিকিৎসার জন্য যেতে হয় সেখানে। এভাবে প্রতিনিয়ত আরো ছয় বছর জিসানকে চিকিৎসা নিতে হবে। ছেলের অসুস্থতা চিন্তায় পড়ে যান বাবা শফিউল আলম।

৪৫ বছরের এই মানুষটি কিছুদিন আগেও ছিলেন খুব ব্যস্ত। ছেলের চিকিৎসার জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছুটে চলতেন অবিরাম কাজের পেছনে। কিভাবে ছেলেকে বাঁচিয়ে রাখবেন, সেই চিন্তায় অস্থির থাকতেন সব সময়।

হঠাৎ করেই ব্রেন স্ট্রোক হয় তার। গত বছরের নভেম্বরে শরীরের এক অংশ অবশ হয়ে যায়। নড়াচড়া ঠিকমতো করতে পারেন না, কথা বলা বন্ধ। আজ তিনি নিজেই অসহায়। নিয়তির নিষ্ঠুর বেড়াজালে আটকে যায় শফিউল আলমের পরিবার। শুরু হয় আর্থিক টানাপড়েন। নেমে আসে ভীষণ দুর্যোগ।

এদিকে ছেলে আর নাতির অসুস্থতায় চিন্তায় পড়ে যান ৭০ বছরের আবদুর রশিদ প্রামাণিক। কুল-কিনারা নেই ভাবনার। চিন্তা যেন মাথা থেকে নামেই না। অর্থনৈতিক কষ্ট আর ভাগ্যের কাছে হেরে যান রশিদ প্রামাণিকও। এক সময় তিনিও ব্রেন স্ট্রোক করেন। চিনতে পারেন না কাউকে, কথাও বলতে পারেন না ঠিকমতো।

বলছিলাম, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীর গৃরিধারীপুর গ্রামের অসহায় একটি পরিবারের কথা। একজনের ক্যান্সার আর দু’জন ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত। এক সময় নিয়মিত চিকিৎসা হলেও এখন অর্থাভাবে তা প্রায় বন্ধ। একসঙ্গে তিনজনের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি বর্তমানে নিঃস্ব। চিকিৎসার পেছনে শেষ হয়ে গেছে ধানিজমি, গরুর ফার্ম, দোকান, ব্যবসা ও বসতবাড়ি।

পরিবারের সদস্য আহসান হাবিব রাজা বলেন, ভাতিজাকে নিয়ে পরিবারের ওপর প্রবল ঝড় গেছে। এক সময় আমাদের জমি, গরুর ফার্ম, দোকান, ব্যবসা, বাড়ি সবই ছিল। কিন্তু ব্যাধি পিছু ছাড়ল না। চিকিৎসা করাতেই সব নষ্ট করতে হলো। চেষ্টার কোনো ত্রুটি ছিল না আমাদের। মানুষের কাছে ধার করেছি। আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পেতেছি। হাঁপিয়ে উঠেছি আমরা। খুব অসহায় এখন আমাদের পরিবার। আমরা নিঃস্ব।

তিনি আরো বলেন, ভাতিজার চিন্তায় বড় ভাই ব্রেন স্ট্রোক করে আর ভাতিজা এবং বড় ভাইয়ের চিন্তায় শেষে বাবাও ব্রেন স্ট্রোক করেন। পরিবারে ঝড় চলছে। এই ঝড় থামানোর কোনো উপায় আমরা পাচ্ছি না। চিকিৎসা করানোর মতো আমাদের ক্ষমতাও নেই। তাই সমাজে বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছি। একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ান, আমাদের বাঁচান। আপনাদের সামান্য সাহায্য আমাদের পরিবারে আবারো সুখ আসতে পারে। সুচিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারে পরিবারের তিন সদস্য। সমাজে হৃদয়বানদের কাছে সাহায্যের আবেদন করেন তিনি।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- আহসান হাবিব রাজা, সঞ্চয়ী হিসাব নং-১০৫ ১০১ ৫০০৬৩৮, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, ফরেন এক্সচেঞ্জ মতিঝিল শাখা, ঢাকা। বিকাশ নম্বর: ০১৬৪১ ৭৪ ৮২ ৫৫।

মানবকণ্ঠ/এএম