তাড়াশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর পার হয়ে গেলেই তাড়াশের ২০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নেই শহীদ মিনার। ফলে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানতে পারছেন না ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলায় ৯টি কলেজ, ৩৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৫টি মাদরাসা ও ১৩৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২টি কলেজ, হাতে গোনা কয়েকটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় ছাড়া অন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই।

বিষমডাংগা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ খগেন্দ্রনাথ মাহাতো বলেন, সেখানকার অধিকাংশ কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এখনো শহীদ মিনার নেই। তিনি তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত অর্থায়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেছেন।

উপজেলার ওয়াশিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনার পরিষদের সভাপতি আলাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, শহীদ মিনার না থাকায় বাঁশ অথবা কলা গাছ দিয়ে তৈরি অস্থায়ী শহীদ মিনার বানিয়ে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেন।

উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার তালম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, আমার বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ কি:মি: এর মধ্যে কোন শহীদ মিনার নেই। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষক ও শিক্ষাদের অনেক দূরে গিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে হয়। যা অনেক কষ্টকর।

এদিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফকির জাকির হোসেন ঠিক কতটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার আছে এবং কতটিতে নেই তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।

তাড়াশ উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষা অনুরাগী তাড়াশ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আমিন-উল-আলম চৌধুরী জানান, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা পেলেও, বিশ্বেও ১৮৮টি দেশ এই দিনটিকে গুরুত্বের সাথে পালন করলেও তাড়াশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকা দুঃখ জনক। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গড়ে তোলার জোর দাবি জানান।

মানবকণ্ঠ/বিএএফ