তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উদ্বেল ‘জয় বাংলা’ কনসার্ট

তারুণ্যের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে উদ্বেল ‘জয় বাংলা’ কনসার্ট

আবারো ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উত্তাল ভাষণ স্মরণ করে বিগত ৪ বছরের মত এবারো আর্মি স্টেডিয়ামে জয় বাংলা কনসার্ট। হাজারো তরুণের কণ্ঠে বারবার উচ্চারিত ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে বারবার কেঁপে ওঠা আরো একবার।

বে অব বেঙ্গল ব্যান্ড কনসার্টে প্রথম ড্রাম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো দর্শক দৌড়ে এসে দাঁড়ায় স্টেজের সামনে। এরপর শূন্য ব্যান্ড স্টেজে এসে মাতায় বাংলাদেশ বেতারের গান ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়’ নিয়ে। তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাজার কণ্ঠ গেয়ে ওঠে জয় বাংলা বাংলার জয়। এরপর শূন্য ব্যান্ডের জনপ্রিয় গান ‘তোমার হাসি শ্রবণ হলে’ ও ‘শোন মহাজন’ গান শুরু হলে তা উপভোগ করে উপস্থিত দর্শকেরা। পুরো মাঠ জুরে তখন শোন মহাজন …… শত আশা … মন তরে পারলাম না বোঝাইতে রে … দিয়ে শেষ। এরপর স্টেজে আসে লালন- মালকা বানুর দেশেতে আগুন লাগে মনেতে গান দিয়ে দর্শকদের মাতিয়ে লালনের অন্যতম জনপ্রিয় গান ‌‘সময় গেলে সাধন হবে না’ গানে মেতে ওঠে আর্মি স্টেডিয়াম। পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে হাজারো দর্শক গেয়ে ওঠে ‘শেখ মুজিবের মুক্তি চাই ….. মুক্তি চাই। ‘মাগো এখনই সময়’ দেশত্মোবধক গান দিয়ে শেষ করে তারা।

এ সময় কনসার্টে উপস্থিত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ রেহানা, তার ছেলে ও সিআরআই ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা ও অটিজম বিশেষজ্ঞ সায়মা ওয়াজেদ পুতুল।

বিকেল ও সন্ধ্যার নামাজের বিরতীর ফাঁকে মঞ্চ মাতায় দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড আর্বোভাইরাস। দেশত্মোবোধক গান ‘ও আমার দেশের মাটি তোমার পড়ে ঠেকাই মাথা’ গেয়ে দর্শকদের আবগাপ্লুত করে রাখে ব্যান্ডটি। এরপর তাদের গান ‘হারিয়ে যাও তুমি’ গাওয়ার সময় সারা স্টেডিয়ামে ছড়িয়ে থাকা দর্শকেরা মোবাইলের আলো জ্বেলে স্বাগত জানায় ব্যান্ড দলটিকে। শেষে ব্যান্ড দলটিরে ড্রামের তালে তালে হাজারো কণ্ঠ গেয়ে ওঠে ‘আয় আয় বন্ধুরা ফিরে আয় …’। সন্ধ্যা ৭টায় দেখানো হয় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ। তারপর পারফর্ম করে ক্রিপটিক ফেইট। রাতে পারফর্ম করবে নেমেসিস ও আর্টসেল। সবার শেষে স্টেজ মাতাবে চিরকুট ব্যান্ড দল।

২০১৪ সালে ইয়াং বাংলা আত্মপ্রকাশের পর ২০১৫ সালে প্রথম আয়োজন করা হয় জয় বাংলা কনসার্ট। তরুণদের কাছে দারুণ জনপ্রিয় এই কনসার্টটি এরপর থেকে প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে তারুণ্যের সর্ববৃহৎ প্লাটফর্ম ইয়াং বাংলা। তরুণদের কাছে জনপ্রিয় ব্যান্ডদলগুলো নিয়ে হওয়া এই আয়োজনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা হয় আগামীর প্রজন্মকে।

মানবকণ্ঠ/এসএস/এফএইচ