তামিম নৈপুণ্যে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স


বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলমান ষষ্ঠ আসরের উত্তেজনায় ভরপুর ‘তামিম ইকবালময়’ ফাইনালে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ন্স। দ্বিতীয়বারের মতো বিপিএল শিরোপা ঘরে তুলতে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ১৭ রানে হারিয়েছে ইমরুল কায়েসের দল। দুই বছর আগে মাশরাফির নেতৃত্বে প্রথম শিরোপা জিতেছিল কুমিল্লা। এবার তাদের ক্যাবিনেটে শিরোপা তোলার মূল কারিগর তামিম। ব্যাট হাতে হার না মানা ১৪১ রানের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্টে সুপারম্যানের মতো দুটি ক্যাচ ধরেছেন তিনি।

২০০ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেয়েছিল ঢাকা ডায়নামাইটস। শূন্য রানেই মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের অসাধারণ থ্রোতে রানআউটে ফিনিশ হন সুনিল নারাইন। দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদারকে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামলে ওঠেন উপুল থারাঙ্গা। ক্রিজে সেট হওয়া মাত্রই ঘোরাতে শুরু করেন ছড়ি। একের পর এক বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে সাইফ-পেরেরা-মেহেদীদের ঘাম ঝরান তারা। এতে দুরন্ত গতিতে ছোটে ডায়নামাইটসরা। তবে আচমকা থেমে যান দুর্দান্ত খেলতে থাকা থারাঙ্গা। ফেরার আগে ২৭ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৮ রানের নান্দনিক ইনিংস। থিসারা পেরেরার বলে দ্বাদশ খেলোয়াড় আবু হায়দার রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর আগে তালুকদারের সঙ্গে গড়েন শতরানের উড়ন্ত জুটি।

পরে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি সাকিব আল হাসান। ওয়াহাব রিয়াজের বলে তামিমকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি। সেই জের না কাটতেই এনামুল হকের অসাধারণ থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন রনি তালুকদার। এর আগে বইয়ে দেন রানের নহর। মাত্র ৩৮ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৬৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি।

রনি ফিরতেই পথ হারায় ঢাকা। এর রেশ না কাটতেই পেরেরার দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন আন্দ্রে রাসেল। এতে চাপে পড়ে ডায়নামাইটসরা। এর মধ্যে রিয়াজের দ্বিতীয় শিকার হয়ে কাইরন পোলার্ড ফিরলে চাপটা দ্বিগুণ হয়। এ পরিস্থিতিতে প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটাতে পারেননি শুভাগত হোম।

এর আগে বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসরের ফাইনালে আজ শুক্রবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ব্যাটিংয়ে নেমে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন এভিন লুইস। তবে এক বাউন্ডারিতে ৬ রানেই তিনি রুবেল হোসেনের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান। হাত খুলে খেলতে থাকেন অপর ওপেনার তামিম ইকবাল। এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে গড়ে তোলেন ৮৯ রানের দারুণ জুটি। ৩০ বলে ২৪ রান করা এনামুল সাকিব আল হাসানের শিকার হন। উইকেটে এসেই রান-আউট হয়ে ফিরেন শামসুর (০)।

৩১ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন দেশসেরা ওপেনার। চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিতে তামিম ইকবাল সময় নেন ৫০ বল। হাঁকান ৮টি চার এবং ৭টি ছক্কা। চলতি বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসরের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ১০০ রানের জুটি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ইমরুল খেলেন ২১ বলে ১৭ রানের ইনিংস। তামিম ৬১ বলে ১০ চার ১১ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১৪১ রানে। বিপিএলে এটাই কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস। টি-টোয়েন্টিতে তামিমেরও সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। আগেরটি ছিল ১৩০ রান।

মানবকণ্ঠ/এআর