তামিমের সেঞ্চুরিতেও কাঁপছে কুমিল্লা

ব্যাট হাতে খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ফাইনালে শুক্রবার জ্বলে উঠলেন তামিম ইকবাল। ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে এ বাঁহাতি করলেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরি। বিপিএলের ইসিহাসে এটির তার প্রথম সেঞ্চুরি। আর এই ইনিংসের সুবাদে কুমিল্লা টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেটে করেছে ১৯৯ রান। জবাব দিতে নেমে ঢাকাও হেনেছে পাল্টা আঘাত। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০ ওভার শেষে ওভার শেষে ঢাকার রান ১১০। ওভার প্রতি পাক্কা ১১ করে। প্রথম ওভারেই সুনিল নারিন রান আউট হওয়ার পর রনি তালুকদার ও উপল থারাঙ্গা শুরু করেন মারদাঙ্গা ব্যাটিং। ৮.৪ ওভারে তারা যোগ করেন ১০২ রান। থারাঙ্গা ২৭ বলে ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৪৮ রান করে আউট হওয়ার পর রনি তালুকদার ও সাকিব আল হাসান মিলে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। রনি তালুকদার ৩১ বলে ৫৭ ও সাকিব ২ বলে ২ রান করে ব্যাট করছেন। ঢাকাকে জিততে হলে বাকি ১০ ওভারে করতে হবে আরো ৯০ রান।

তামিমের ব্যাটিংয়ের দিকে দৃষ্টি ফেরালেই বুঝা যায় তিনি কি পরিমাণ বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছেন। ইনিংসের ১২০ বলের মাঝে অর্ধেকেরও বেশি ৬১ বল খেলেছেন তিনি। দলের ১৯৯ রানের মাঝে তার রান অর্ধেকেরও অনেক বেশি অপরাজিত ১৪১। তার মানে বাকি ৫৯ বল খেলে অন্যদের ও অতিরিক্ত মিলে সংগ্রহ ৫৮। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এনামুল হক বিজয়ের ২৪। এরপর সর্বোচ্চ রান ছিল ইমরুল কায়েসে অপরাজিত ১৭। এই ইনিংস গড়ার পথে তামিম করেছেন বিপিএল তথা কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম শতরান। আবার তার ইনিংস বাংলাদেশের হয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসও।

বাংলাদেশের আগের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনংস ছিল বিপিএলেই সাব্বির রহমানের ১২২ রান। বিপিএলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস গেইলের। গতবার ফাইনালে এই ঢাকার বিপক্ষেই গেইল এরকম বিধ্বংসী ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। মূলত গেইলের এই ইনিংসের কাছেই ঢাকার ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল। রংপুর করেছিল ১ উইকেটে ২০৬। ঢাকা ৯ উইকেটে ১৪৯ রান করে হেরেছিল ৫৭ রানে। কাল তামিমও সেই ইনিংস ছাড়িয়ে যেতে পারতেন। ১৪০ রানে অপরাজিত থাকার সময় বল বাকি ছিল ২টি। কিন্তু পঞ্চম বলে ১ রান নিলে তার সে সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

তামিমের ইনিংসে রেকর্ড আরো আছে। তার ৬১ বলের ইনিংসে চার ছিল ১০টি। ছক্কা ছিল ১১টি। ছক্কা মারায় তিনি পেছনে ফেলেছেন সাব্বির রহমানের আগের সর্বোচ্চ ৯টিকে। তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের কারণে পরপর ৩ বলের ব্যবধানে এনামুল হক বিজয় ও শামসুর রহমানকে হারানোটাও ঠের পাওয়া যায়নি। এমনকি আম্পায়ারের দুইটি বির্তকিত এলবিডব্লিউ সিন্ধান্তও তামিমের নান্দনিক ব্যাটিংয়ের কাছে আড়াল পড়ে যায়। একটি ছিল এভিন লুইসের। আম্পায়ার আউট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লুইস রিভিউ নিয়েছিলেন। টিভি রিপ্লেতে দেখাচ্ছিল তার ব্যাটে যত সামান্য বল র্স্পশ করেছিল।

কিন্তু থার্ড আম্পায়ারও সিন্ধান্ত বহাল রাখেন। এনামুল হক বিজয়কে আম্পায়ার একই ভাবে এলবিডব্লিউর আউট দেন। এবার এনামুলও সঙ্গে সঙ্গে রিভিউ নেন। কিন্তু রিভিউ অবশিষ্ঠ না থাকাতে তাকে ফিরে যেতে হয়। টিভি রিপ্লতে পরিষ্কারভাবে ব্যাটে বল লাগার দৃশ্যটি ফুটে উঠে। তামিম যে এ রকম বিধ্বংসী হয়ে উঠবেন কিংবা কুমিল্লার রান উর্ধ্বমুখি হবে তা কিন্তু ইনিংসের অর্ধেক শেষ হওয়ার পরও আভাস ছিলনা। শুরটা ছিল ধীর লয়ে। বাটিং পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে রান ছিল ১ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪০। এমনকি ১০ ওভার রান ছিল ১ উইকেটে ৭৩। এরপরই শুরু হয় তামিমের আগ্রাসী ব্যাটিং। ১১ নম্বার ওভারে শুভাগতকে পিটিয়ে নেন ১২ রান। তখণই তিনি ৩১ বলে তুলে নেন ফিফটি। সাকিবের করা পরের ওভারে রান আসে ১১। শুধু নারিনের ওভারে নেন মাত্র ৪।

মাহমুদুল হাসানের করা ১৪ নম্বারে রান আসে ১২। রুবেলের করা ১৫ নম্বারে ২টি করে চার-ছক্কায় রান আসে ২৩। ১৬ নম্বার ওভার করকে আসনে নারিন। এবরও রান নিতে পারেননি তামিম কিংবা ইমরুল। মাত্র ২ রান আসে সেই ওভারে। নারিনের ২ ওভার রান করতে না পারাটা তামিম পুষিয়ে দেন বাকি ওভারগুলোতে। পোলার্ডের করা ১৭ নম্বারের প্রথম ২ বলে ছক্কা ও চার মেরে নিজেকে শামিল করেন সেঞ্চুরির মিছিলে। হাফ সেঞ্চুরি করতে যেখানে বল খেলেছিলেন ৩১টি। সেখানে পরের ৫০ রান করতে বল খেলেন মাত্র ১৯টি। ৫০ বলে ১০০ রান। চার ছিল ৮টি ছক্কা ছিল ৭টি। পোলার্ডের সেই ওভারে রান আসে ২২। সাকিব করতে আসেন ১৮ নম্বার ওভার। এবার তামিমের সঙ্গে শামিল হন ইমরুল কায়েসও। দুই জনে মিলে রান আদায় করেন ১৭। রুবেলের করা ১৯ নম্বার ওভারে রান কিছুটা কম ১১ আসে। শেষ ওভার করতে আসেন আন্দ্রেরাসেল । এক ছক্কায় ১০ রান আসে। শেষ ১০ ওভারে রান আসে ১২২ রান। রুবেল ৪৮ ও সাকিব ৪৫ রানে একটি করে উইকেট।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ