তাজিয়া মিছিল ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা: সুস্পষ্ট হুমকি নেই: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক :
২১ সেপ্টেম্বর পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি জানান, আশুরাকে ঘিরে সুস্পষ্ট হুমকি না থাকলেও সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি বিবেচনায় পূর্বপ্রস্তুতি রয়েছে। পোশাকে, সাদা পোশাকে, গোয়েন্দা সদস্যদের পাশপাশি নিয়োজিত থাকছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড। প্রস্তুত থাকছে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট টিমও। গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুরান ঢাকার হোসেনী দালান ইমামবাড়া এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান ঢাকার পুলিশ কমিশনার।
মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবার শিয়া মতাবলম্বী মুসলমানদের তাজিয়া মিছিলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ। মিছিলে অংশগ্রহণ করতে হলে নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে যেতে হবে তল্লাশি পেরিয়ে। থাকবে সিসি ক্যামেরা ও পুলিশের কড়া প্রহরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত অন্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, তাজিয়া মিছিলে কোনো ধরনের ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার, ছুরি-কাঁচি ও বর্শা কিংবা তরবারি বহন করা যাবে না। নিষেধাজ্ঞা থাকবে আতশবাজি ও আগুন খেলায়ও। এ ছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ক্রাইম সিন ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি কমিশনার জানান, তাজিয়া মিছিলের ও হোসেনি দালানের স্বেচ্ছাসেবীদের চিনতে আলাদা ‘আর্মব্যাজ’ ব্যবহার করতে হবে। তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে হোসনী দালান থেকে ধানমণ্ডি লেক পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকছে। তিনি বলেন, মাঝ পথে কাউকে মিছিলে যোগদান করতে দেয়া হবে না। এ জন্য শিয়া মতাবলম্বী মুসলমানদের সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার পুলিশ প্রধান বলেন, লালবাগের হোসেনী দালান, বিবিকা রওজাসহ রাজধানীতে মিছিল যাবার প্রত্যেকটি পথে সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। পোশাকে ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকছে।
তিনি বলেন, এবার তাজিয়া মিছিল ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব পক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত মোতাবেক অপরিচিত কাউকে ব্যাগ নিয়ে তল্লাশি ছাড়া ঢুকতে দেয়া হবে না। ১২ ফুটের বেশি বড় নিশান মিছিলে ব্যবহার করা যাবে না।
আশুরা উপলক্ষে ইমামবাড়ার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের সময় ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত ডিএমপি কমিশনার কৃঞ্চপদ রায়, যুগ্ম কমিশনার শেখ নাজমুল আলম, মফিজ উদ্দিন আহমেদ, উপকমিশনার (সিটি) প্রলয় কুমার জোয়ার্দার।