তরুণ প্রবীণ সম্পর্ক অবশ্যই হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ: ড. এনামুল হক

তরুণদের মাঝে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?
আমরা প্রবীণরা বিশেষ করে অভিভাবকরা আমাদের সন্তানদের সুশিক্ষিত করতে ব্যর্থ হচ্ছি। আমরা যখন সন্তানদের সামনে অন্য কোনো মুরুব্বি সম্পর্কে মন্দ কথা বলি, তখন অবচেতন মনে ওই মুরুব্বির প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা নষ্ট হয়ে যায়। এভাবেই সন্তানরা প্রবীণদের প্রতি ক্রমেই শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে ফেলে। তার প্রতিফলন ঘটতে থাকে ঘরে-বাইরে সর্বত্র।
তরুণ-প্রবীণের মধ্যে সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
তরুণ প্রবীণ সম্পর্ক অবশ্যই হতে হবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এখানে আমি মধুর বলব না। কারণ নবীনদের প্রতি প্রবীণরা হবেন আদর্শবান। কখনো হবেন দৃঢ়, কঠোর। কখনো হবেন স্নেহশীল। মোটকথা প্রবীণদের প্রতিটি আচরণ হতে হবে শেখার উপযোগী। অপরদিকে নবীনরা হবে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবান, অনুগত, বিনয়ী, অবনত। তবে অবশ্যই হতে হবে বুদ্ধিমান, চৌকস এবং সুশিক্ষিত। যেন প্রবীণরা নবীনদের আচরণে দুঃখ না পান।
আপনি যখন নবীন ছিলেন আপনার জীবনযাপনে নানা ধরনের সংকট, হতাশা কাজ করেছে। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এ থেকে আপনি কীভাবে বেরিয়ে এসেছেন?
আমার নবীন সময় কখনো কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। অনেক সমস্যা সংকটের মধ্য দিয়ে আমাকে পাড়ি দিতে হয়েছ আমার নবীনকাল। অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। মতের অমিল ছিল। আমি সে সব সমস্যা-সংকটে ঘাবড়াতাম না। একটু সময় নিয়ে বুঝিয়ে এরপর তাদের ভুল ভাঙাতাম। কখনোই তড়িঘড়ি করে আমার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেইনি। এমন সুনাম আমার আছে।
বর্তমান তরুণ প্রজšে§র নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, এসব অস্থিরতা থেকে তরুণদের বেরিয়ে আসতে আপনার পরামর্শ যদি কিছু থাকে বলুন? আমি বলব, অস্থির হয়ে কোনো কিছু করলে ভুল হওয়ার বিপদ থাকে। পাশাপাশি একটু সময় নিয়ে, ভেবে চিন্তে কোনো কাজ করলে তাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কথায় আছে- ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না। এ কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে, তা হলে সাফল্য আসতে বাধ্য।
সন্তানরা বাবা-মা থেকে দূরে সরে থাকছে। বাবা-মার সঙ্গে সন্তানদের বন্ধুত্ব কতটা জরুরি বলে আপনি মনে করেন?
সন্তানদের সঙ্গে কখনই দূরত্ব রাখতে নেই বরং বন্ধু হয়ে উঠুন। সব কিছু শেয়ার করুন। সমস্য সংকট এমন কি সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে পরামর্শ করুন। আপনার সমবয়সী অনেকে আছেন নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করেছেন, মানসিক টানাপড়েনের মধ্যে আছেন। তাদের অনুপ্রাণিত করার জন্য আপনার অভিমত যদি কিছু থাকে?
কখনো কখনো মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। নিঃসঙ্গতা কাটাতে গান শুনুন, বই পড়ুন, রান্নাবান্না করে আত্মীয়দের খাওয়ান, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিন, অভ্যাস থাকলে কবিতা লিখুন, স্মৃতি কথা লিখুন, ভ্রমণ কাহিনী লিখুন। মোট কথা নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। আপনার সময় আর এখনকার সময়ের দাবি অনুযায়ী তরুণদের উদ্দেশে যদি কিছু বলতে চান?
আজ যারা প্রবীণ, তারা এক সময় তরুণ ছিলেন। আজ যারা নবীন, তারাও একদিন প্রবীণের দলে এসে যোগ দেবেন। এটাই পৃথিবীর নিয়তি। তাই বলতে চাই-
ওরে প্রবীণ, তুলতুলে ওই আসনখানি ছাড়ো-
ওরে নবীন, আসছে তোমার কঠিন সময় আরো।
তোমার পালে দখিনা বাও, আসছে জোয়ার ঢেউ
একলা হাতে চালাও তরী, তোমার নায়ে থাকবে
না আর কেউ।