তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করবে ইয়াং বাংলা-মাইক্রোসফট

তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রমোট করতে চায় ইয়াং বাংলা ও মাইক্রোসফট। এরই অংশ হিসেবে শুরু হয়েছে মাইক্রোসফট-ইয়াং বাংলা ইন্টার্ন সামিট ২০১৮। চারদিন ব্যাপী সামিটের শেষ দিন শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউশনে দেশের শীর্ষ পাঁচ স্টার্ট আপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় সামিটে যোগ দেয়া ইন্টার্নদের। সেই সঙ্গে জানানো হয়- বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি ভালো আইডিয়া দেয়া প্রতিটি দলকে ইয়াং বাংলার প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে দেয়া হবে। বিজয়ী দলগুলোর পাশাপাশি এই সামিটে অংশ নেয়া সকল দলকে নিয়ে কাজ করবে ইয়াং বাংলা।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এবং শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি বলেন, ইয়াং বাংলার স্লোগান কানেক্টিং দ্য ডটস। তরুণদের লবিস্ট হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে ইয়াং বাংলা। বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা ভাবনা ও আইডিয়ার সঙ্গে দেশের নীতি নির্ধারকদের সেতুবন্ধন তৈরির উদ্দেশে কাজ করে যাবে প্রতিষ্ঠানটি।

সিআরআই এই ট্রস্ট্রি বলেন, আমরা কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) সব সময় বলেন- ‘সবাইকে নিয়ে উন্নয়ন চাই, কাউকে পেছনে ফেলে যেতে চাই না।’ আমার ভালো লাগছে প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার সঙ্গে বর্তমান প্রজন্মের চিন্তা মিলে যাচ্ছে। আশা করছি তরুণরা এভাবেই ইয়াং বাংলার সঙ্গে থাকবে।

মাইক্রোসফটের কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনিয়া বশির কবির ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরদের উদ্দেশে ঘোষণা দিয়ে জানান, তাদের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ১০০ ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর এখন মাইক্রোসফট ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি দেশের ৭ জেলায় ইয়াং বাংলার সহায়তায় প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোসফটের ল্যাবগুলোর প্রশংসা করে বলেন, এই ল্যাবগুলোতে কাজ করে অনেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন দেখে ভালো লাগছে। ল্যাবগুলো দুর্দান্ত কাজ করছে।

সামিটে অংশ নিতে আবেদন করে এক হাজারের বেশি উদ্যোক্তা। সারাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন করে ৩২৪টি গ্রুপ। ২৫০টি গ্রুপ সামিটে অংশ গ্রহণের সুযোগ পায়। অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্য থেকে শীর্ষ ১০ দলকে বাছাই করা হয় ৫ অক্টোবর। এরপর তাদের সঙ্গে মার্চ মাসে সিলেক্ট করা শীর্ষ ১০ দল একত্রে তাদের আইডিয়া পিচ করে। এই ২ দলের মধ্য থেকে শীর্ষ ৫ দলকে প্রদান করা হয় অ্যাওয়ার্ড। বিজয়ী দলগুলো হলো- গরুর ডাক্তার, ফিনান্স উইজার্ড, ব্লেজ ওয়ারিয়ার্স, বিএসএল এবং মাইক্রো বিটস।

গরুর ডাক্তার দলের প্রধান নিজে একজন গবাদি পশুর চিকিৎসক। তার নিজ সমস্যাগুলোর সমাধানে এক ভিন্ন ধর্মী অ্যাপস তৈরির আইডিয়া নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি। সামিটে অংশ নেয়ার পর নিজ আইডিয়াকে আরো পরিপূর্ণতা প্রদানের সুযোগ পান তিনি। একটি গবাদি পশুর অসুখ হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে কিভাবে পৌঁছাবে খামারি তা ভেবে তৈরি করা হয়েছে তার স্টার্ট আপ। নিজেদের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তার কথা মাথায় রেখে ফিনান্স উইজার্ড অ্যাপস তৈরি করেছেন। তাদের মূল লক্ষ্য, কোনো আইডিয়া যেন অর্থের অভাবে নষ্ট হয়ে না যায়। বৃদ্ধদের নিয়ে কাজ করতে চায় ব্লেজ ওয়ারিয়ার্স। যেই সব বৃদ্ধ একাকী জীবন কাটাচ্ছে, হয়ত জীবিকার তাগিদে তাদের সন্তানরাও থাকতে পারছে না কাছে, তাদের জন্য বিশেষ স্যোশাল মিডিয়া তৈরির পরিকল্পনা করেছে ব্লেজ ওয়ারিয়ার্স।

বাংলাদেশে ৩০ হাজারেরও বেশি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের জন্য শিক্ষামূলক অ্যাপস বানাতে কাজ করে যাচ্ছে বিএসএল। বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ে এই বাক ও শ্রবণহীন শিশুদের জন্য শিক্ষা উপকরণ ও স্কুল স্থাপন খরচের পাশাপাশি সময় সাপেক্ষ বিষয়। কিন্তু বাসায় থাকা অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করে তারা এখন থেকে শিক্ষা লাভ করবে এটাই বিএসএল-এর চাওয়া। প্রকৃতিবান্ধব পণ্য উৎপাদন ও বন্টন করতে চায় মাইক্রো বিটস। তাদের লক্ষ্য অপচনশীল দ্রব্য যেমন পলিথিনের বদলে পচনশীল প্যাকেজিং ব্যবস্থা এবং পণ্য সরবরাহের এমন এক প্রক্রিয়া তৈরি, যাতে প্রকৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।

সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সাব্বির বিন শামস্ এবং সিআরআই কো-অর্ডিনেটর তন্ময় আহমেদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ২০১৫ ও ২০১৭ সালের জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীসহ, মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা প্ল্যাটফর্মের সকল ট্রেইনার, কো-অর্ডিনেটর, ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডরসহ সেচ্ছাসেবী ও অন্যান্যরা।

মানবকণ্ঠ/এফএইচ