তরমুজের পুষ্টিগুণ

গ্রীষ্মের জনপ্রিয় এই ফল যেমন স্বাদে অতুলনীয় তেমনি পুষ্টিগুণে ভরপুর। বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারাহ মাসুদা বলেন, মৌসুমি ফল তরমুজ গরমে পানির চাহিদা মেটানোর জন্য উপযোগী। এতে থাকা নানা পুষ্টি ও খনিজ উপাদান মানবদেহ সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
তরমুজের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি জানান, অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পাশাপাশি বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন বি-১ এবং বি-২ পাওয়া যায়। যা গরমে শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগই জলীয় অংশ। এ ছাড়াও প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজ থেকে ১৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি ও শূন্য দশমিক ২ গ্রাম ফ্যাট পাওয়া যায়।
তরমুজ আয়রনের ভালো উৎস। ১০০ গ্রাম তরমুজে ৭ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। এ ছাড়া ৩ দশমিক ৩ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, শূন্য দশমিক ২ গ্রাম প্রোটিন ও ১ দশমিক ১ মি.গ্রা ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়। এ ছাড়াও ১ মি.গ্রা ভিটামিন সি, ০.০২ মি.গ্রা বি-১, ০.০৪ মিলিগ্রাম বি-২ এবং শূন্য দশমিক ৩ মিলিগ্রাম অন্যান্য খনিজ উপাদান থাকে।
লাইকোপেন নামক উপাদানের জন্য তরমুজের রং লাল হয়, এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত। তরমুজ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। রয়েছে ভিটামিন সি ও বিটা-ক্যারোটিন যা হৃদরোগ, এক্সিমা ইত্যাদি রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর বিটা ক্যারোটিন দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে ও ছানি পড়া সমস্যা প্রতিহত করে।
তরমুজে ফ্যাট বা চর্বি নেই বললেই চলে। তাই এটা খেলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও কোলেস্ট্রেরলের মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি কম থাকে।
গরমে জুস করে অথবা কেটে তরমুজ খাওয়া যায়, দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। জলীয় অংশ ও ভিটামিন থাকায় এটা শরীর ও ত্বক সুন্দর রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া ত্বকের যত্ন নিতে নানা রূপচর্চায়ও তরমুজ ব্যবহার করা যায়।
বর্তমানে তরমুজে নানা রকমের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তাই তরমুজ কেনার সময় সচেতন থাকা প্রয়োজন। সূত্র: বিডিনিউজ

 

মানবকণ্ঠ/আরএস