ঢাবি ছাত্রের মুক্তির দাবিতে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের তালা

ঢাবি প্রতিনিধি:
কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমানের মুক্তির দাবি জানিয়ে শ্রেণিকক্ষে তালা দিয়েছে তার বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকাল নয়টার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে অবস্থিত বিভাগটির শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্লাস পরীক্ষা বর্জনের ডাক দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন তাদের বাধা দিলে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের সহপাঠী মশিউরকে ক্লাসে ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানায়, আমরা প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। যতক্ষণ পর্যন্ত মশিউরকে মুক্তি দেয়া না হবে, আমরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে যাব। শিক্ষার্থীদের সংকটে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের পাশে দাঁড়াবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
জানা গেছে, কোটা আন্দোলনের সময় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান ও উপাচার্যের বাসভবনে ভাঙচুরের মামলায় মশিউকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এই মামলায় তাকে দুই দিনের রিমান্ডও দেয়া হয়েছে। তবে সহপাঠীদের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ভাঙচুরে ঘটনায় সে জড়িত নয়।
নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন
কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ও নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গতকাল বেলা ১২ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোকাররম ভবন এলাকায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্ল্যাকার্ড গুলোতে লেখা ছিল, হাতুড়ির স্থান পেরেকের ওপর ছাত্রের ওপর নয়। ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা চাই। আমার ক্যাম্পাসে আমি নিরাপদ তো? ছাত্র আপনার, দায় নেবেন না কেন?
মনববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক। তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন অনেক দিন ধরে চলছিল। এটা ছিল ছাত্রদের আন্দোলন। আমরা এই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে তখনি পাশে দাঁড়িয়েছি যখন ছাত্রদের ওপর হামলা হয়েছে। আমরা সচেতন ভাবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা দেখছি, যাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে তাদের কে গ্রেফতার করা হচ্ছে, রিমান্ডে নিয়ে অত্যাচার করা হচ্ছে। যারা নিপীড়ক, তারা সবাই চিহ্নিত কিন্তু তাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে চাই না। ছাত্রদের দাবি মেনে নিয়ে আমাদের ক্লাসে ফিরতে সাহায্য করুন।
সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এই আন্দোলনে ইন্ধন দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অতীত ঐতিহ্য ছাত্রদের আন্দোলন করার জন্য ইন্ধন দিচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ই আমাদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র ভুল করতে পারে, কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকরা ভুল করতে পারে না।
ছাত্রলীগকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন ঘোষণা দিলেন কোটা থাকবে না, তখন আপনারা আনন্দ মিছিল করলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.