ঢাবির হলে জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বেড়াতে আসা দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও তাদের মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের কর্মীর বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগকর্মী এ ঘটনায় জড়িত উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিতি অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকা কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাগ সরকার তার বোন ইডেন কলেজের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মায়িদা সুলতানাকে নিয়ে রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ঢাবি ক্যাম্পাসে আসেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাঁটাহাঁটি করার সময় হঠাৎ একটি মোটরসাইকেল তাদের সামনে এসে কারণ ছাড়াই ব্রেক করে পড়ে যায়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা জুবায়ের আহমেদ নামের এক ঢাবি ছাত্র সামান্য ব্যথা পান ও তাদের মোটরসাইকেল সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর মোটরসাইকেলে থাকা ঢাবি ছাত্র জুবায়ের তাদের কাছে টাকা দাবি করেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা দোষ না সত্ত্বেও কেন টাকা দেবেন-এমন জানালে তাদের মারধর শুরু করা হয়। এ সময় বিভিন্ন হল থেকে আরও ১০-১২ জন এসে জুবায়েরের সঙ্গে যোগ দেন। তারা সোহাগ সরকারের কাছ থেকে তার বড় ভাইয়ের মুঠোফোন নম্বর নিয়ে ০১৭৪১০৮৫১৪৩ ও ০১৮৬৬৪০৭৭১৯ নম্বর দিয়ে কল করে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন।

টাকা দাবি করা প্রথম ফোন নম্বরটি ঢাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ও স্যার এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী জুবায়ের আহমেদের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সালাদ্দিন সাজুর অনুসারী। সাজু ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের অনুসারী।

এরপর সোহাগ সরকারের কাছে থাকা এক হাজার টাকা ও তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি ছিনিয়ে নেন জুবায়েরসহ অন্যরা। এ সময় সোহাগ সরকারের বড় ভাই সহকারী প্রক্টর মঈন উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রক্টরিয়াল বড়ির সদস্যদের সেখানে পাঠান। কিন্তু জুবায়ের আহমেদ ভুক্তভোগীদের উদ্যান থেকে সরিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় ও মুহসীন হলের গেস্টরুমে পাঁচ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখেন। পরে সেই বড় ভাই ঢাবির সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক ছাত্র ১০ হাজার টাকা পাঠালে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাদের মুক্ত করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সোহাগ সরকার বলেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই তারা জিম্মি করে আমাদের মারধর করেছে এবং ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

ঘটনার বিষয়ে জানতে জুবায়ের আহমেদকে ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার আবাসিক হল স্যার এ এফ রহমান হলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘যারা অভিযোগ দিয়েছে তারা আমাদের শিক্ষার্থী নয়। আমি তাদের থানায় একটি জিডি করতে বলেছি। সেখান থেকে অভিযুক্তদের নাম আসলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

মানবকণ্ঠ/এফএইচ