ঢাবিতে বাধ্যতামূলক কোর্স বাদ রেখেই পরীক্ষা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগে মাস্টার্সে অ্যাকাডেমিক বিধি বহির্ভূতভাবে বাধ্যতামূলক একটি কোর্স বাদ দিয়েই চলতি বছরসহ গত তিন বছর পরীক্ষা সম্পন্ন হচ্ছে, ডিগ্রিও দেয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকসূত্রে জানা গেছে আবশ্যিক কোর্স বাদ দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করে ডিগ্রি দিলে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকে। এটা কোনো নিয়মের ভেতর পড়ে না। অথচ বিভাগ কর্তৃপক্ষ তিন বছরের এই অসম্পূর্ণ অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের মাস্টার্সের সিলেবাস থেকে পাওয়া যায়, বিভাগের মাস্টার্স হবে এক বছর মেয়াদী এবং সেখানে ৩০ ক্রেডিটের কোর্স থাকবে। প্রত্যেক তাত্ত্বিক কোর্সে ৪ ক্রেডিট আছে যেটা ১০০ নম্বরের সমতুল্য। ওই সিলেবাসে ৫০১ নম্বর কোর্স ‘অ্যাডভ্যানসড রিসার্স মেথডলোজি ইন জিওগ্রাফী নামে একটি কোর্স রয়েছে। এই কোর্সটি মাস্টার্সের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক।

কিন্তু বিভাগ কর্তৃপক্ষ মাস্টার্স ২০১৪-১৫ সেশন, ২০১৫-১৬ সেশনে ৪ ক্রেডিটের ওই আবশ্যিক কোর্স বাদ দিয়ে ২৬ ক্রেডিটে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছে ডিগ্রিও দিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৯ আগস্ট মাস্টার্স ২০১৬-১৭ সেশনের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই বর্ষেও আবশ্যিক ওই কোর্সটি বাদ দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

বিভাগের সিলেবাস ঠিক করে বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি। পরে এটি অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন হয়ে সিন্ডিকেটে চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। সিন্ডিকেটের প্রধান থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সিন্ডিকেটের অনুমোদন ব্যতীত বিভাগ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছামত কোর্স বাড়ানো কিংবা কমাতে পারে না।

ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেজওয়ান হোসেন ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে গত ৭ আগস্ট বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটির একটি সভা হয়। সেখানে আবশ্যিক কোর্স বাদ দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি একজন শিক্ষক উত্থাপন করলে শিক্ষকরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যান। একটি পক্ষ আবশ্যিক ওই কোর্সটির পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যপক্ষটি কোর্সটি ছাড়াই পূর্বের দুই বছরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে বলেন। চলতি মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিভাগের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেজওয়ান হোসেন ভূঁইয়া। পরীক্ষা কমিটি থেকে তিনি পদত্যাগ করলে কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হন অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম নাজেম।

বাধ্যতামূলক কোর্স ছাড়াই চলতি বছরের মাস্টার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজেম বলেন, আমাদের অ্যাকাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি হচ্ছে। ব্যাপারটা আমাদের কন্ট্রোলার অফিসে আছে। কন্ট্রোলার অফিস যেভাবে সিদ্ধান্ত দিবে সেভাবে কাজ হবে। এবিষয়ে জানতে চাইলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেজওয়ান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমি এই মুহুর্তে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

এদিকে, মাস্টার্স ২০১৪-১৫ সেশনে প্রথমবার আবশ্যিক কোর্স ছাড়া পরীক্ষা হয় সেসময় পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক ড. এ কিউ এম মাহবুব। আবশ্যিক কোর্স পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রো-ভিসি ম্যাডাম আপনাকে বলেনি? বিভাগে দু’একজন শিক্ষক আছে তারা এগুলো ছড়াচ্ছে। এগুলো আমাদের অ্যাকাডেমিক কমিটির সব সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে। আমরা ওই বর্ষগুলোতে একটি নতুন কোর্স দিয়ে দিয়েছি।’ অথচ বিভাগে কোনো নতুন কোর্স দেয়া হয়নি।

দ্বিতীয়বার মাস্টার্স ২০১৫-১৬ সেশনে মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটি ও বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন। আবশ্যিক কোর্স ছাড়া পরীক্ষা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি আপনি জানলেন কিভাবে? এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব। পরে তাকে ফোন দেয়া হলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাই না। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলছি। তবে এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদ বলেন. গত দ্ইু তিন বছর ধরে এটা হয়ে গেছে। তাহলে যেসব শিক্ষর্থী চলে গেছে তাদের কি নিয়ে আসবে? এমন না যে, এটা না করলে জিওগ্রাফী অপূর্ণাঙ্গ থাকবে। অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে গিয়ে এটি ঠিক করা হবে বলে জানান তিনি।

বাধ্যতামূলক কোর্স বাদ দিয়ে পরীক্ষা ও ডিগ্রি নেওয়ার বিষয়টি অবহতি করলে ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান বলেন, বিষয়টি জানতে হবে।

মানবকণ্ঠ/ডিএইচ

Leave a Reply

Your email address will not be published.