ঢাকা না কুমিল্লা ডবল ক্রাউন কার

ঢাকা না কুমিল্লা ডবল ক্রাউন কার

‘ডবল ক্রাউন’। যে জিতবে তার হবে ডবল ক্রাউন। এই মুকুট অর্জনে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ঢাকা ডায়নামাইটস ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনাল আজ। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাতটায় শুরু হবে মুকুট অর্জনের এই লড়াই।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ২০১৫ সালে এবং ঢাকা ডায়নামাইটস ২০১৬ সালে একবার করে শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু তথ্যগত্য দিক দিয়ে ঢাকার নামের পাশে শিরোপা আছে তিনবার। প্রথম দুই আসরেও শিরোপা জিতেছিল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স নামে। এরপর ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কারণে ঢাকা গ্লাডিয়ের্টসের ফ্রাঞ্চাইজিকে নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে মালিকানা হারায় ঢাকা গ্লাডিয়ের্টস। পরে নতুন ফ্রাঞ্চাইজির অধীনে ঢাকা ডায়নামাইটস নামে তৃতীয় আসর থেকে খেলা শুরু করে। ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স নামে যখন শক্তিশালী দল গঠন করেছিল, তেমনি ঢাকা ডায়নামাইটসও। যে কারণে আবির্ভাবের পর তিন আসরের মাঝে তারা দুইবারই ফাইনাল খেলেছে। বর্তমানে তারা রানার্সআপ। অপরদিকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স আবির্ভাবেই শিরোপা জিতেছিল। এরপর গত আসরে তারা ফাইনালই খেলতে পারেনি। এবার আবার শিরোপা জেতার শেষ মঞ্চে দাঁড়িয়ে।

লিগ পর্বে দুইবারই জিতেছিল কুমিল্লা। দুইবারই হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। প্রথম সাক্ষাতে কুমিল্লা জিতেছিল ৭ রানে। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে করা ১৫৩ রান পাড়ি দিতে পারেনি ঢাকা। পুরো ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেটে করেছিল ১৪৬ রান। পরেরবার ছিল লো-স্কোরিং ম্যাচ। এবারো আগে ব্যাট করে কুমিল্লা মাত্র ১২৭ রানে অলআউট হয়েছিল। কিন্তু ২০ ওভার খেলেও সেই রান ঢাকা পাড়ি দিতে পারেনি। ৯ উইকেটে ১২৬ রান করেছিল। দুটি ম্যাচই হয়েছিল জমজমাট। সবার প্রত্যাশা ফাইনালও হবে একই রকম জমজমাট।

ঢাকা ও কুমিল্লা দুই দলই লিগ পর্বে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারেনি। শুরুর দিকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা ঢাকা টানা ৫ ম্যাচ হেরে প্লে অফে খেলাই অনিশ্চিত করে তুলেছিল। শেষ পর্যন্ত শেষ ম্যাচ জিতে নেট রান রেটে চতুর্থ দল হিসেবে ওঠে আসে শেষ চারে। কুমিল্লাকে সে রকম কোনো পরিস্থিতে পড়তে হয়নি। তবে তাদের খেলায় ছিল ব্যাপক উত্থান-পতন। আসরে সর্বনিম্ন রানের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে তাদেরকে রংপুরের বিপক্ষে মাত্র ৬৩ রানে অলআউট হয়ে। এই রংপুরের বিপক্ষেই আবার দ্বিতীয় মোকাবিলাতে ৭২ রানে অলআউট হয়েছিল। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দুই দলই আবার নির্দিষ্ট কোনো ক্রিকেটারের ওপর নির্ভরশীল নয়। এখানে আবার কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখা যায় ঢাকাকে।

দলটিতে আছে অলরাউণ্ড নৈপুণ্যের ছড়াছড়ি। যেমন দলপতি সাকিব ব্যাটে-বলে দলের সেরা পারফরমার। ব্যাট হাতে ২৯৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে সর্বোচ্চ ২২ উইকেট নিয়েছেন। এই তালিকায় আরো আছেন আন্দ্রে রাসেল (২৯৫ রান ও ১৪ উইকেট), সুনিল নারিন (২৭৯ রান ও ১৮ উইকেট)। ব্যাট হাতে কিরন পোলার্ড (২০৯ রান), রনি তালুকদার (২৫১ রান), উইকেট কিপার নুরুল হাসান সোহান (১৭৬ রান) যেমন নির্ভরতার প্রতিক তেমনি বল হাতে রুবেল হোসেন (২১ উইকেট) ভরসা যোগাচ্ছেন। পেসও স্পিনে ঢাকা অনেক শক্তিশালী। তবে পিছিয়ে নেই কুমিল্লাও। অলরাউন্ডার তাদের দলেও একাধিক আছেন শহীদ আফ্রিদী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, থিসারা পেরেরা। কিন্তু সবাই মাঠে সেই প্রমাণ রাখতে পারেননি। তবে শহীদ আফ্রিদী (১৪১ রান ও ১৬ উইকেট) এবং থিসারা পেরেরা (১৫১ রান ও ৭ উইকেট) কুমিল্লার জন্য অনেক বড় মনোবল। ব্যাট হাতে ওপেনার তামিম ইকবাল (৩২৬ রান), এভিন লুইস (২৬৭ রান), শামসুর রহমান (২১০ রান) উইকেট কিপার এনামুল হক বিজয় (১৭৬ রান) আর বল হাতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (১৮উইকেট), স্পিনার মেহেদী হাসান (১৩ উইকেট), ওয়াব রিয়াজে (১৩ উইকেট) স্বপ্ন দেখছে কুমিল্লা। ২২ গজের ময়দানে ২২ ক্রিকেটারের পাশাপাশি নৈপুণ্যে লড়াইও আছে দুই দলের দুই দেশি কোচ কুমিল্লার মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও ঢাকার খালেদ মাহমুদ সুজন। দু’জনেরই দেশি কোচ হিসেবে যেমন বেশ নামডাক আছে, তেমনি আছে অর্জনও। এই দুই দলের হয়ে দুই জনেরই আছে শিরোপা জেতার কৃতিত্ব। আবার দুই দলপতি ঢাকার সাকিব আল হাসান ও কুমিল্লার ইমরুল কায়েসেরও আছে শিরোপা জেতার সুখানুভুতি। সাকিবের এই স্বাদ আবার বেশি। প্রথমে খেলোয়াড় হিসেবে মাশরাফির নেতৃত্বে, পরে দলপতি হিসেবে।

ইমরুল কায়েসও শিরোপা জিতেছেন খেলোয়াড় হিসেবে। তাও আবার মাশরাফির নেতৃত্বেই। এবার দলপতি হিসেবে জিততে চান শিরোপা। তিনি বলেন, ‘ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে এটাই হলো লক্ষ্য। আমি বেশ খুশি যে আমরা প্রথম থেকে ফাইনাল পর্যন্ত বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছি। প্রত্যেক ক্রিকেটার মন থেকে চেয়েছে যে আমরা ফাইনাল খেলব। আসলে ফাইনাল ম্যাচটি ভাগ্যের ব্যাপার। আপনি বলতে পারবেন না যে সব ম্যাচ জেতার পরেও ফাইনালে জিততে পারবেন। তবে আমরা চেষ্টা করব আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার। আর সেটা খেলতে পারলে ইনশাআল্লাহ ফলাফল আসবে।’ ফাইনালকে সামনে রেখে কুমিল্লা অনুশীলন করলেও আগের দিন বুধবার দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলার কারণে ঢাকা ডায়নামাইটস আর অনুশীলন করেনি। যে কারণে ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে দলের হয়ে কেউ কথাও বলেননি।

মানবকণ্ঠ/এসএস

Leave a Reply

Your email address will not be published.