ঢাকা উত্তরের মেয়র পদে কে পাচ্ছেন ২০ দলের মনোনয়ন?

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী মনোনয়ন দিতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় কমিটি বৈঠক বসছে আজ (শনিবার)। রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার মিডিয়া উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান।

এর আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ডিএনসিসি উপনির্বাচনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী চুড়ান্ত করতে এ বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য। ৮ জানুয়ারি সোমবার ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে নেতারা জোটের পক্ষে প্রার্থী ঘোষণার সর্বোচ্চ ক্ষমতা তাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে অর্পণ করেন। বৈঠক শেষে আজ রাতেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার কথা রয়েছে বিএনপির।

প্রয়াত আনিসুল হকের উত্তরসূরি নির্বাচনে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তারিখ রেখে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এই উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আবেদন জমা দেয়া যাবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। তা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২১ ও ২২ জানুয়ারি।

আসন্ন এ উপনির্বাচনে কে পাচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন তা নিয়ে কিছুদিন ধরেই চলছে নানামুখী আলোচনা। তিন বছর আগে ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তাবিথ আউয়াল যিনি বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য। যদিও ওই নির্বাচনে বিএনপির পছন্দের প্রার্থী ছিলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাওয়ায় তাবিথ আউয়াল দলের টিকিট পেয়ে যান। এবারো প্রার্থী হিসেবে নীতিনির্ধারকরা তাবিথ আউয়ালের নামই বিবেচনার শীর্ষে রেখেছেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিলের ওই নির্বাচন শুরুর তিন ঘণ্টা পর কারচুপির অভিযোগে বিএনপি ভোট বয়কট করলেও তাবিথ আউয়াল ৩ লাখ ২৫ হাজার ভোট পান।

এবার বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন আরো তিন নেতা। এরা হলেন ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিশেষ সম্পাদক ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও সহ-প্রকাশনা সম্পাদক শাকিল ওয়াহেদ সুমন। এ ছাড়া দলের সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানও জোটের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। তবে এর বাইরে জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হককে প্রার্থী করেও চমক দিতে পারে বিএনপি। এ ছাড়া গুলশান এলাকার বিএনপি দলীয় সাবেক এমপি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম ও বিএনপি জোটের শরিক বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থের নামও শোনা যাচ্ছে। এতদিন ২০ জোটের ??‘একক প্রার্থী’ ঠিক না হলেও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিন। ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা জামায়াতের মহানগর উত্তরের সভাপতি মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন ইতোমধ্যে উত্তরের মেয়র পদে নির্বাচনের জন্য উত্তরা, বনানী, গুলশান, মোহাম্মদপুর, আদাবর, বাড্ডাসহ প্রভৃতি স্থানে ইতোমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছেন। ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। তাদের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সেলিম উদ্দিন।

তিনি জানান, রোববার মেয়র পদের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ফরমও ক্রয় করব। উত্তর সিটির ভোটাররা মনে করেন যোগ্যতম প্রার্থী হিসেবে জোট নেত্রী আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবেন ইনশাআল্লাহ।

জোটের একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন না পেলে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী থাকবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে সেলিমউদ্দিন বলেন, জনগনের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইনশাআল্লাহ আমিই মনোনয়ন পাব। তবে এক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

এদিকে ২০ দলীয় জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির একাংশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান জানান, তার দলের মহানগর উত্তরের সভাপতি এস এম ইউসুফ আলীও এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। রোববার তারও ফরম ক্রয় করার কথা রয়েছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির তরুণ নেতা তাবিথ আউয়াল দলের মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়েই বেশ কিছুদিন ধরে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট নানা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নির্বাচনের অফিসও নেয়া হয়েছে তেজগাঁওয়ের ৪১৯/৪২০ নম্বর ভবনে।

এ প্রসঙ্গে তাবিথ আউয়াল মানবকণ্ঠকে বলেন, একজন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে। আশা করছি, প্রত্যাশীদের মধ্য থেকে যোগ্য প্রার্থীকেই বিএনপি মনোনয়ন দেবে। বিগত নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই নির্বাচনকে আসলে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না। এক্ষেত্রে তিনি রাজধানীতে বিএনপি চেয়ারপার্সনের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনবার হামলা, প্রকাশ্যে সিলমারা, কারচুপির মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করেন।

মানবকণ্ঠ/এসএস