ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আরো পথ বাকি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা অগ্রসর হলেও এখনো আরো পথ বাকি। তবে হতাশ নন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। যে কারণে প্রতিনিয়ত এর মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীর সভাপতিত্বে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কর্ফোস’-এর নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সাবমেরিন ক্যাবেলের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপন থেকে একেবারে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সূত্রটি জানায়, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য ২০১৬ সালের জুন সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু হয়নি। তবে ইতিমধ্যে ইস্তাম্বুল থেকে কানেক্টিভিটি উদ্বোধন করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে ঢাকায় সংযোগ দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে বিটিসিএল। এ সংবাদে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিসেস (বেসিস) বেশ খুশি। তবে তাদের প্রশ্ন, আইসিটির মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ আমদানির প্রয়োজন আছে কিনা তা পরীক্ষা করা দরকার।
সভায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা দিতে ও ডট বিডি ও ডট বাংলা রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে যে সব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তা দূর করা প্রয়োজন। প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ডিজিটাল বা মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান চলমান প্রকল্পের সঙ্গে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরো ২৬ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলোচনায় অংশ নেয়। তবে এ প্রসঙ্গে বেসিস জানায়, ৪০ শতাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ও আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নেই।
গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবার মূল্য কমানোর জন্য ‘কস্ট মডেল’ বিটিআরসির উপস্থাপনের নির্দেশনা থাকলেও, তা এখনো প্রস্তুত হয়নি। তবে সভায় আগামী এক মাসের মধ্যে প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। ইন্টারনেট বিলের ওপর ভ্যাট কমানোর বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিষয়টি ভ্যাট আইন দ্বারা নির্ধারিত। বর্তমানে ইন্টারনেট বিলের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে।
দেশের সব বিভাগে হাইটেক পার্ক স্থাপনের বিষয়টি উদ্যোগ নেয়ার কথা। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর ও সিলেটে হাইটেক পার্ক স্থাপনের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে অন্য বিভাগে পার্ক স্থাপনের জন্য দ্রুত উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে এ পর্যন্ত ৩২ জেলায় ও ২৫৫টি উপজেলায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যান্ড উইথ সংযোগ করা হয়েছে। সরকারি অফিসে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রচলনের ব্যাপারে এখনো শেষ হয়নি। তবে সফট সিস্টেমের মাধ্যমে আগামী অক্টোবরের মধ্যে ডিজিটাল স্বাক্ষরের প্রচলন শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ই-কমার্স নীতিমালা প্রসঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি আলাদা ধারা তৈরি করেছে ই-কমার্স। এ ব্যবসায় একটি অন্যতম দিক হচ্ছে, অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু করা যায়। ফলে এর মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ই-কর্মাসের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা না থাকায় বাণিজ্যের এই আধুনিক ক্ষেত্র বাংলাদেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন বেসিস। একই সঙ্গে তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোনো ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নীতিমালা না থাকায় এ ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা তাদের সেবা বা উদ্ভাবনের যথাযথ হিস্যা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে আশার কথা ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আগামী তিন মাসের মধ্যে এই নীতিমালা তৈরি করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

মানবকণ্ঠ/এসএস