ডিএসইসির বিশেষ সম্মাননা পেলেন সজীব রশিদ

সাব-এডিটর কাউন্সিলের (ডিএসইসি) অভিষেক অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা পেলেন দেশের সফল উদ্যোক্তা ও ডন সামদানি ফ্যাসেলিটেশন অ্যান্ড কনসালটেন্সি এবং উইক্রিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সজীব রশিদ। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে প্রধান অতিথি তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের হাত থেকে তিনি এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য, বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, ডিএসইসির সাবেক সভাপতি মীর মোস্তাফজ, কায়কোবাদ মিলন, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি জাকির হোসেন ইমন, সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদিরসহ ডিএসইসির নতুন কমিটির সব সদস্যরা।

উইক্রিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সজিব রশিদ বলেন, এটা আমার জন্য একটি বড় পাওয়া। আর এর জন্য আমি সাব-এডিটর কাউন্সিলের (ডিএসইসি) সকল নেতৃবৃন্দ ও সদস্যদের কাছে কৃতজ্ঞ। তাদের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে আমাকে যে সম্মাননা দেয়া হলো এতে সত্যিই আমাকে এবং আমার কাজকে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। তাদের নতুন কমিটির প্রতি আমার শুভেচ্ছা রইল।

প্রসঙ্গত, সজীব রশিদের জন্ম ২ নভেম্বর। তিনি ডন সামদানি ফ্যাসেলিটেশন অ্যান্ড কনসালটেন্সি এবং উইক্রিয়েট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)। পড়াশোনা উইলস লিটল ফ্লাওয়ারস থেকে মাধ্যমিক, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, কার্ডিফ বিজনেস স্কুল থেকে স্নাতক।

এ ছাড়াও তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ ইস্ট লন্ডন থেকে স্নাতকোত্তর করেন। বিষয় ছিল মার্কেটিং অ্যান্ড কর্পোরেট কমিউনিকেশন। বিটিএল মার্কেটিং সেক্টরে তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসহ স্কাই ট্র্যাকার লিমিটেডে অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর ছিলেন। ২০১৫ সালে আইসিটি বিভাগ আয়োজিত বাংলাদেশ ইন্টারনেট উইকে প্রকল্প প্রধানের দায়িত্বে থাকা সজিব ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল, সিটি ব্যাংক, আমেরিকান এক্সপ্রেসসহ আরো কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মার্কেটিং প্রকল্পের অ্যাকাউন্ট হেড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মৃদুভাষী স্বপ্নবাজ মানুষটি গিটার বাজাতে ভীষণ পছন্দ করেন।

সজীব রশিদের কাজের শুরু রেডিও টুডে দিয়ে। সেটি অবশ্য ২০০৫ সালের কথা। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি জুনিয়র এক্সিকিউটিভ ব্র্যান্ড এবং কমিউনিকেশন পদে কাজ শুরু করেন। এরপর যুক্ত হোন গ্রামীণফোনে। সেখানে কাজ করেন এ কাজের মধ্যে থাকতেই ভালো লাগেক বছর। গ্রামীণফোন ছেড়ে ট্রিলজি কমিউনিকেশনসে ম্যানেজার, অপারেশন ও ক্লায়েন্ট সার্ভিস পদে কাজ শুরু করেন। এরপরের কর্মস্থল ছিল তার স্কাই ট্র্যাকার লিমিটেড। সেখানে অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। ২০১৩ সালে যুক্ত হোন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এরপর দুই দফায় পদোন্নতি হয়। সিনিয়র অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার এবং পরে অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর হোন। তবে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে নিজেরাই উদ্যোগ নেন নতুন প্রতিষ্ঠান করার। এরপর শুরু করেন উইক্রিয়েট লিমিটেড এবং যোগ দেন ডন সামদানি ফ্যাসেলিটেশন অ্যান্ড কনসালটেন্সি সেখানে ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে যুক্ত হয়ে কাজ শুরু করেন।

উইক্রিয়েট কাজ করে যে কোনো মার্কেটিং ইভেন্ট, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং ডিজিটাল ও সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন নিয়ে। কোম্পানির ব্র্যান্ডিংয়ের কাজ করে উইক্রিয়েট। প্রতিষ্ঠানটির দর্শন উইক্রিয়েটের প্রত্যেকটি সেবায় তারা মান বজায় রাখে, নিশ্চয়তার সঙ্গে তারা গ্রাহকসেবা সুনিশ্চিত করে। উইক্রিয়েট কাজ করে কর্পোরেট ইভেন্ট, সেলফফোরস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং, মার্কেটিং অ্যাক্টিভিশন, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, ফ্যাশন ইভেন্ট, স্পোর্টস ক্লাব এজেন্সিশিপ। তাদের ক্লায়েন্ট ওমেরা, বেসিস, স্যামসাং, ইউনিলিভার, অরিগামি, এসি ওয়ার্ল্ড, ডিসিসি, ফোর পয়েন্টস শেরাটন, প্রত্যয়, ব্যাংকক হসপিটাল, লাইফ হেলথ, জেলটা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, শেখ জামাল, বসুন্ধরা গ্রুপ, রংপুর রাইডারস, ঢাকা ডায়নামাইটস, বায়ার, আইস মিডিয়া, এফডিসিবি, প্লাস ওয়ান, ল্যাবএইড, কুপারস, পারটেক্স গ্রুপ, বেস টেকনোলজি, আইএফপিআরআই, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকা।

এ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য হিসেবে পাট মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়স্থ আইসিটি ডিভিশন। প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য বড় বড় ইভেন্ট বেসিস এক্সপো ২০১৮ ও ২০১৯, খাদি ফেস্টিভ্যাল, ইয়াং ট্যালেন্ট হান্ট, শেখ জামান ধানমন্ডি ক্লাব প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন, দুরন্ত টিভি লঞ্চিং, লিংকাস লঞ্চিং, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯+ লঞ্চ ইভেন্ট, সেলিম-সোলাইমান জুবলি কনসার্টসহ বিপিএলে তাদের ক্লায়েন্ট রংপুর রাইডারস, ঢাকা ডায়নামাইটস এবং সিজন ৪ রানার-আপ, সিজন ৫ চ্যাম্পিয়ন, সিজন ৬ রানার-আপ। তারা সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল নিয়েও কাজ করে।

মানবকণ্ঠ/এএম